1441906137
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাকে অচল করে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার পর রামপুরা, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বসুন্ধরা, মিরপুর ইত্যাদি সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ার ফলে পুরো ঢাকা শহরের যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়। বিকাল ৪টার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলে ধীরগতিতে যানচলাচল শুরু হয়; কিন্তু রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়।

অচলাবস্থার কারণে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে হয় কর্মজীবী মানুষকে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যান আটকে পড়ায় অন্যস্থানে যানশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণে ওই এলাকার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সকাল ১১টা থেকে রামপুরা ব্রিজ ও মেরুল বাড্ডা এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ কারণে রামপুরা-হাতিরঝিল-বাড্ডা-বনশ্রী এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্রাইম রিপোর্টটার ২৪.কমকে জানিয়েছে, তিন দফা দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবিগুলো হচ্ছে- আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর যেসব পুলিশ হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশি হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিত্সার ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে এবং দশম সংসদে সপ্তম অধিবেশন চলা অবস্থায় টিউশন ফির ওপর থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।

সকালে রাজধানীর উত্তরায় রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি,

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। ফলে এয়ারপোর্ট থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত রাস্তায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী।

প্রায় একই সময়ে রাজধানীর আসাদগেট, ধানমন্ডি, সোবহানবাগ, শুক্রাবাদে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘গুলি করো, ভ্যাট দেবো না। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, তাই ভ্যাট মানি না। শিক্ষায় ভ্যাট মেনে নেয়া হবে না।’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে।

এছাড়া ধানমন্ডির অন্যান্য এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে স্টামফোর্ড, স্টেট, এশিয়া প্যাসিফিক ও ল্যাব এইড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্রাইম রিপোর্টটার ২৪.কমকে বলেন, ‘আমার টাকায় আমি পড়ছি, সরকারকে আমার শিক্ষার খরচ বহন করতে হচ্ছে না। সেখানে উল্টো সরকারকে ভ্যাট দিতে হবে এটা কেমন নীতি। এটা মেনে নেয়া হবে না।’ শিক্ষার্থীদের এই অবরোধ ও বিক্ষোভের সময় পুরো ধানমন্ডি এলাকা অচল হয়ে পড়ে। ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

দুপুরের পর এখানে আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও ধানমন্ডি এসে জড়ো হয়। সকালে শ্যামলী মোড়ে আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে মিরপুর ও গাবতলী যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যাত্রী গন্তব্যস্থানে না গিয়ে আবার মিরপুরে ফেরত আসতে দেখা যায়।

মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। বনানী থেকে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি ও সাউথ এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মহাখালী ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয়। এ কারণে গুলশান ১ নম্বর থেকে মহাখালী পর্যন্ত রাস্তায় কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা কি পণ্য, ভ্যাট কি জন্য’ লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়। আমিরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসি থেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বলে নিবন্ধন নেয়। তাহলে তাদের কাছ থেকেওবা কেন ভ্যাট নেয়া হবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বারিধারার নর্দ্দা-নতুনবাজার-কুড়িল এলাকা অবরোধ করে রাখে। এ সময় ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসেই সময় পার করেন যাত্রীরা। অনেক যাত্রী হেঁটে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হন।

রাজধানী ছাড়াও সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয়, শিকদার মেডিক্যাল কলেজ ও এনাম মেডিক্যাল কলেজ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটেও এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সারা দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩টি, মেডিক্যাল কলেজ ৬৪টি ও প্রকৌশল কলেজ ১৭টি। এগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর আরোপিত ভ্যাট বাতিলের দাবিতে বুধবার দুপুরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের পাশে অবস্থান নিলে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় গুলি ছোঁড়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এছাড়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এ তথ্য। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে। যা ফেসবুকের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে আজ সকাল থেকে আবারও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দিনের কর্মসূচি শেষ করার পর এ ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

ভ্যাট নিয়ে এনবিআরের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা বলছে, এটা এনবিআরের ভুল ব্যাখ্যা। তারা আরো বলছে, টিউশন ফির ওপর নয়, শিক্ষার ওপরই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করছি।

রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর

হামলা, গাড়ি ভাঙচুর

রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর একদল যুবক অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ২৭ নম্বর সড়কে অবরোধের মধ্যে আটকে থাকা গাড়িগুলোতে ভাংচুর চালায়। এসময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গেও দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের ছুড়ে মারা ইটের আঘাতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহা আহত হয়েছেন। এছাড়া আরো অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, হামলাকারী যুবকদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী। ওই সময় পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করে, হামলা চালানোর সময় যুবকরা ‘জয় বাংলা’ বলে শ্লোগান দেয়। এসময় হামলাকারীরা শিক্ষার্থীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাদের শরীরের জামা টেনে হিঁচড়ে হেনস্থা করে।

এ ব্যাপারে পুলিশের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর রাস্তায় আটকে পড়া জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবির কর্মীরা যানবাহনের ওপর হামলা চালায়।

মিস্টি রহমানপ্রথম পাতা
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাকে অচল করে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার পর রামপুরা, ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বসুন্ধরা, মিরপুর ইত্যাদি সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ার ফলে পুরো ঢাকা শহরের যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়। বিকাল ৪টার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে...