চট্টগ্রাম অফিস । মহানগর প্রতিনিধি
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
এ বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা ও ফ্লাইট বাড়লেও অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কট প্রকট। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন। টিআইবি বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান ও তদারকি বৃদ্ধিসহ ১৩ দফা সুপারিশ করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ‘শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম: যাত্রীসেবা কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ঘুষ প্রদানে যাত্রীদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে যাত্রীদের অহেতুক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হচ্ছে। এখানে আনসার সদস্যদের হাতেও যাত্রী হয়রানির শিকার হচ্ছে। গাড়ি পার্কিং নিয়ে একটি চক্র যাত্রী জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল, অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অপর্যাপ্ততা, সেবা সংক্রান্ত তথ্যেও সহজলভ্যতা ও উন্মুক্ততার ঘাটতি, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের উদ্যোগের অনুপস্থিতি, কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থপনার ঘাটতি ও তদারকি ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে সেবা প্রাপ্তির বিভিন্ন ধাপে যাত্রী হয়রানি, নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ঝুঁকি সৃষ্টি ও শুল্ক ফাঁকি এবং অনিয়ম বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুল্ক বিভাগে ১৩৯ জন লোকবলের বিপরীতে ২৯ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন। ১১০টি পদই শূন্য। শুল্ক বিভাগের কর্মীদের একাংশের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূত অর্থের বিনিময়ে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য (মদ, তামাকজাত) অথবা শর্ত সাপেক্ষে আমদানি যোগ্য পণ্য (টিভি, সোনার বার, মোবাইল, শাড়ি) শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রবেশের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ফ্লাইটগুলোতে সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রীকে ম্যানুয়ালি চেক করা হয়। এ ক্ষেত্রে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

বহির্গমনের যাত্রীদের কাঁচি, আয়রন ও পচনশীল বস্তু শুঁটকি, ফলমূল, রান্না করা খাবার ইত্যাদি ক্যাবিন ব্যাগে বহন নিষিদ্ধ হলেও ২০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে পরিবহনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে যে সকল শ্রমিক ভিজিট ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে নিয়ম বহির্ভূত ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন কর্মীদের একাংশ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। কোনো কোনো যাত্রীর বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী সংখ্যা ৪ দশমিক ৯৪ গুণ ও ফ্লাইট সংখ্যা ৩ দশমিক ১৫ গুণ বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ২০০০ সালে ‘চিটাগাং এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় তা ৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে সক্ষম। কিন্তু বর্তমানে একই অবকাঠামোতে ১২ দশমিক ৫ লাখের বেশি যাত্রীকে সেবা দিতে হয়। গ্রাউন্ড সাপোর্টে যন্ত্রপাতি অপর্যাপ্ত। ৩৭ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি আংশিক ব্যবহার উপযোগী ও ২৪ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপযোগী নয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি ও টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরীর এরিয়া ম্যানেজার মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/431.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/431-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
চট্টগ্রাম অফিস । মহানগর প্রতিনিধি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবায় ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। এ বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা ও ফ্লাইট বাড়লেও অবকাঠামো ও জনবল সঙ্কট...