95362_34
আবদুস সালাম প্রামাণিক (৭০)। হজ পালন করে দেশে ফিরেছেন শনিবার দুপুরে। কিন্তু এখনও যেতে পারেননি পরিবারের কাছে। দুদিন ধরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ঘোরাঘুরি করছেন। আর জেদ্দা থেকে বিমানের কোন ফ্লাইট নামলেই ছুটে যাচ্ছেন আশা নিয়ে। তার লাগেজটি এসেছে কিনা। কিন্তু মুহূর্তেই সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। তিনি দেশে ফেরার পর অনেক ফ্লাইট এলেও তার লাগেজটি আসেনি এখনও। ঢাকায় কোন আত্মীয়স্বজনও নেই তার। শনিবার রাতটি কোন রকম এলাকার এক পরিচিত মানুষের কাছে কাটিয়েছেন। কিন্তু রোববার ওই পরিচিতজন বাড়ি চলে যাওয়ায় বিমানবন্দরেই দিনরাত কাটছে এ বৃদ্ধের। আর কতদিন এভাবে বিমানবন্দরে লাগেজের অপেক্ষায় থাকবেন বা আদৌ পাবেন কি-না তাও নিশ্চিত হতে পারছেন না তিনি। আবদুস সালাম একাই নন, একই ভাগ্যবরণ করেছেন তারই এলাকার সহযাত্রী আবদুল বারীও। এ ছাড়া শত শত হাজী ও তাদের স্বজনরা এদিনও লাগেজের অপেক্ষায় দিন পার করছিলেন। অনেকে তিন-চার দিনেও পাননি তাদের লাগেজ। এদিকে বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা দ্রুত নিরসনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাসিন্দা বৃদ্ধ আবদুস সালাম ও তার সহযাত্রী আবদুল বারী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, শনিবার দুপুর ১২টায় বিমান বাংলাদেশের বিজি-৬০২০ ফ্লাইটে করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর তাদের লাগেজ পাননি। পরে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানায় তাদের লাগেজ আসেনি। পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয় তারা। সে হিসেবে ওইদিন রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তারা। কিন্তু লাগেজের সন্ধান মেলেনি। ঢাকায় তাদের কোন আত্মীয়-স্বজন নেই জানিয়ে সত্তরোর্ধ এ দুই বৃদ্ধ জানান, তার এলাকার পরিচিত একটি ছেলে পুলিশে চাকরি করে। শনিবার রাতে তার সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে ছিলেন। সকালে ওঠেই আবারও চলে এসেছেন বিমানবন্দরে। প্রত্যেকটি ফ্লাইটে খোঁজ নিয়েছেন কিন্তু রাত পর্যন্ত লাগেজের সন্ধান পাননি। এদিকে শনিবার রাতে যার কাছে ছিলেন তিনিও গতকাল ছুটি পেয়ে বাড়ি চলে গেছেন। রোববার রাত থেকে থাকার মতো কোন জায়গাও নেই। তখন থেকে বিমানবন্দরেই কাটছে রাতদিন। তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পায়চারি করে, না ঘুমিয়েই কাটাছে। কারণ এখানে বসার জায়গাও নেই। তারা আরও বলেন, ১ তারিখে জেদ্দা বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। দেরিতে হলেও দেশে ফিরতে পেরেছি। তবে লাগেজ কবে পাবো জানি না। গাইবান্ধার আরেক হাজী পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহানও দু’দিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন। তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে নিজেই দুটি পাসপোর্ট নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তাকে বলা হয়েছে, একজনের কাছে আরেকজনের লাগেজ দেয়া হবে না। যদিও লাগেজ এখনও এসে পৌঁছায়নি। তিনি লাগেজ ফেরত পেতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বীকে ফোনও করেন। এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ বিড়ম্বনা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানাতেও নির্দেশ দেন। রোববার বিমানবন্দর পরিদর্শন করে উপস্থিত যাত্রীদের সমস্যার কথা শুনে তিনি এ নির্দেশ দেন। ওইদিন সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যাত্রী হয়রানি বা লাগেজ বিড়ম্বনার সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলা বা যে কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল সানাউল হক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম মোসাদ্দেক আহমেদসহ সৌদি এয়ারলাইনসের পদস্থ কর্মকর্তারা।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/95362_34.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/95362_34.jpgহাসন রাজাখেলাধুলা
আবদুস সালাম প্রামাণিক (৭০)। হজ পালন করে দেশে ফিরেছেন শনিবার দুপুরে। কিন্তু এখনও যেতে পারেননি পরিবারের কাছে। দুদিন ধরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ঘোরাঘুরি করছেন। আর জেদ্দা থেকে বিমানের কোন ফ্লাইট নামলেই ছুটে যাচ্ছেন আশা নিয়ে। তার লাগেজটি এসেছে কিনা। কিন্তু মুহূর্তেই সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। তিনি দেশে...