সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক ।
ঢাকা কিংবা আরও দূরের কোনো শহর থেকে অনেকদিন পর জন্মভূমি শহরে যাচ্ছেন। খুব ভোরে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে যদি দেখেন নিজ জেলা শহরের প্রতিটি দোকানের শাটারে মোহনীয় সব গ্রাফিটি, মোটিফ, রং যা একধরনের গল্পের মতো! খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
কেমন লাগবে তখন? তখন হয়তো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন, মুখে ফুটবে এক চিলতে হাসি! আর মন বলে উঠবে—রাজপথের দুধারে সারি সারি দোকানের শাটারের ভাঁজে রঙে মেশানো কিছু গল্প দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল, মন জুড়িয়ে গেল! ঠিক এমনটা মনে হবে যদি আপনি খুলনা শহরে পা রাখেন। ‘নোনাভূমির অভিবাদ’ নামের একটি সংগঠনের কল্যাণে শহরটি এমন রূপ পেয়েছে। আপনি ভিন্ন এক প্রশান্তি পেতে পাবেন যদি খুব ভোরে কিংবা গভীর রাতে খুলনা শহরে হেঁটে বেড়ান।

গ্যালারির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে যাদের শিল্পীদের আঁকা ছবি দেখার সুযোগ ঘটবে না কোনোদিনও, তাদের জন্য শাটারের ওপরে রঙের বর্ণিল সব ছবি এঁকে নোনাভূমির অভিবাদ সাজিয়েছে শহরটা। সাধারণ মানুষেরা দোকানের বন্ধ শাটারের ওপর এসব ছবি দেখে যেমন দোকানটিকে চিনে রাখল, তেমনি শহরের নতুন এক রূপ তাদের জন্য উন্মোচিত হলো। শহরের অলিগলি হয়ে উঠল চিরকালীন উত্সবের চিহ্ন। এ ছাড়া আপনি রিকশা চেপে শহর জেগে উঠবার আগে চোখ মেলে দেখে গেলেন এসব ছবি, দেখলেন আপনার রিকশা চালক। একটি চমত্কার দিনের শুরু হলো আপনার। শাটারে আঁকা সব ছবি সারা শহরের একটা গল্প বলল, হয়তো সেই গল্পের মানে আপনি একভাবে রিকশাচালক আরেকভাবে বুঝে নিলেন, কিন্তু মুগ্ধতায় আপ্লুত হলেন দুজনই সমানভাবে। একটা শহরের নতুন এক পরিচিতি হলো রঙে, সূর্যের আলোতে, সন্ধ্যার নিয়ন অলোতে!
কথা হলো অভিনব এই উদ্যোগের মূলহোতাদের সঙ্গে। শাটার আর্ট মুভমেন্টের উপদেষ্টা পর্ষদ সহকারী কিশোর বলেন, ‘শহরের মুটেমজুর যে মানুষগুলোর বিনোদন লাভের কোনো সুযোগই নেই, সেই মানুষগুলোর জন্য দোকানের বদ্ধ শাটারগুলো এক সার্বজনীন রূপ নিয়ে খুলবে, বন্ধ হবে। বন্ধের দিনগুলোতে আরেক রূপ ধারণ করবে সারি সারি শাটারগুলো। এ ছাড়া যারা সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে আসে, তাদের বেশিরভাগই খুলনা দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু খুলনা শহরটা ঘুরে দেখার মানুষ খুব কম। কিন্তু আমরা চাই একদিন পুরো শহরের শাটার রাঙিয়ে পর্যটকদের আরেকটা পর্যটন শহর উপহার দিবো।’

কিশোর আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কিছু শহরে এমন কাজ হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মধ্যে এই প্রথম খুলনায় এমন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। এই কাজ একার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমাদের টিমে কাজ করেছে অসংখ্য মানুষ। ঢাকার কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে জন্মভূমির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চল্লিশোর্ধ্ব সময়ে নিজেকে নিয়ে নতুন এক সংগ্রামের স্বপ্নে পথচলার শুরুতেই খুঁজে পেলাম নোনাভূমিকে। তবে শাটার আর্ট দিয়ে রঙে রঙে সজীব জীবন্ত শহর আর সাধারণ মানুষের জন্য স্বপ্নটা ছিল শিপার, মনি মাঝির মতো খুলনা চারুকলার ব্যাচ ৯৯ আর ০২ ব্যাচের কয়েক তরুণের। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করলাম আমি।
তাদের এই কাজকে স্বাগত জানিয়ে এরমধ্যে এগিয়ে এসেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।’ কিশোর জানিয়েছেন, শহরের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তারা একটি রঙিন শহর তৈরি করবে। যে শহরকে সবাই রঙিন খুলনা নামে চিনবে। খুলনা শহরের বেশ কয়েকটি শাটারে আর্ট করেছে তারা মাত্র ছয় দিনে। এবছর বিজয় দিবসের আগের দিন তারা যাত্রা শুরু করেছে। বিজয় দিবসকে অভিবাদন জানিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনটির পরিকল্পনা বছর খানেকের মধ্যে পুরো শহরের শাটার মাতবে তাদের রঙের গল্পে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/12/932.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/12/932-300x300.jpgশিশির সমরাটপ্রথম পাতা
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক । ঢাকা কিংবা আরও দূরের কোনো শহর থেকে অনেকদিন পর জন্মভূমি শহরে যাচ্ছেন। খুব ভোরে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে যদি দেখেন নিজ জেলা শহরের প্রতিটি দোকানের শাটারে মোহনীয় সব গ্রাফিটি, মোটিফ, রং যা একধরনের গল্পের মতো! খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। কেমন লাগবে তখন? তখন হয়তো অবাক দৃষ্টিতে...