93478_f1
বাড়ছে খুন। পাল্টাচ্ছে খুনের ধরনও। প্রতিটি খুনের ঘটনাই নির্মম। একটি নির্মম ঘটনা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অন্যটিকে। এক কথায় লোমহর্ষক। শুনলেই গা শিউরে ওঠে। হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে লাশ। উপড়ে ফেলা হচ্ছে চোখ। কেটে দেয়া হচ্ছে হাত-পায়ের রগও। শ্বাসরোধ থেকে শুরু করে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা বা ছুরিকাঘাতে খুন এখন সাধারণ বিষয়। জীবন্ত মানুষকে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেয়া হচ্ছে পানিতে। যেখানে-সেখানে মিলছে লাশ, ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ। হত্যার পর টুকরা টুকরা করা হচ্ছে লাশ। পাওয়া যাচ্ছে লাশের খণ্ডিত অংশ। গলা কেটে হত্যার ঘটনা বাড়ছে দিনকে দিন। নৃশংস এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরাও। হত্যার পর সুটকেসবন্দি করে রাখা হচ্ছে লাশ। লাশ পাওয়া যাচ্ছে ট্রাভেল ব্যাগেও। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মানবিক অনুভূতি দিন দিন লোপ পাচ্ছে। মানুষের মনে দানা বাঁধছে হিংস্রতা। তাই হত্যার পরও জিঘাংসা মেটাতে লাশ কেটে টুকরা টুকরা করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে মানুষ। সামান্য ঘটনাতেই একে-অপরকে খুন করতে দ্বিধা করছে না। দীর্ঘদিনের প্রিয় স্বজনই হয়ে উঠছে ঘাতক। স্বামী খুন করছেন স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, বাবা-মা খুন করছেন নিজের সন্তানকে, সন্তানের হাতেও খুন হতে হচ্ছে বাবা-মাকে। ভাইয়ের হাতে খুন হচ্ছে ভাই, আত্মীয়ের হাতে খুন হচ্ছেন আত্মীয়। পারিবারিক ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বাড়ছে নৃশংস খুনের ঘটনা। এছাড়া শত্রুতা বা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও খুন করা হচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানাীরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। কমে যাচ্ছে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ। চিড় ধরেছে সামাজিক বন্ধনেও। ভোগবাদী হয়ে উঠছে মানুষ। কমছে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ। এ কারণে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে একে-অপরকে নৃশংস খুন করতে দ্বিধা করছে না। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়ার নেপথ্যে কাজ করছে। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটছে যৌতুক, পরকীয়া, দাম্পত্য সমস্যা, পারিবারিক কলহ, জমিজমা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে সারাদশে রাজনৈতিক কারণে খুনোখুনির ঘটনা কমলেও সামাজিক অস্থিরতার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। গত ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার ৯৭৫ জন খুন হয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৭৭৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরে এই পরিসংখ্যা পর্যালোনা করলেও খুন বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হয়। ২০১০ সালে যেখানে বছরে খুনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৮৮টি। আর ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫১৪টিতে। এই হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১২-১৩ জন খুন হচ্ছে। তবে প্রকৃত খুনের ঘটনা আরও বেশি। অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া অনেক ঘটনা বা পারিবারিক কলহের জের ধরে খুনের ঘটনাগুলি আত্মহত্যা বলে চালানো হয়। একারণে এসব ঘটনা খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয় না। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশের রেলপথ থেকে একাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে বলা হলেও খুনিরা অনেক সময় হত্যার পর লাশ রেললাইনে ফেলে রাখে। পরে সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালানো হয়। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। তবে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের আগে থেকেই ঠেকানো গেলেও সামাজিক ও পারিবারিক কলহের জের ধরে খুন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সামগ্রিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশজুড়ে নৃশংস খুনের সংখ্যা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই এসব ঠেকানো সম্ভব। এজন্য আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। খুন করে কেউ যেন পার পেয়ে যেতে না পারে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঢাকার আদালতের হত্যা মামলার রায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৯৯ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৬৯টি হত্যা মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি মামলার আসামিদের সাজা দেয়া হয়েছে। বাকি ২১৮ টি হত্যা মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে গেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুন করে কেউ পার পেয়ে গেলে তা সমাজে অপরাধ করতে উৎসাহ দেয়। অনেক সময় দেখা যায় খুনের ঘটনার পর দায়ি ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজে’র মাধ্যমে পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে অন্যরা উৎসাহিত হয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মানুষের মানবিক মূল্যবোধ কমে গেছে। সমাজ অস্থির হওয়ার কারণে মানুষের মনেও অস্থিরতা বিরাজ করে। একারণে সমাজে অপরাধ বেড়ে যায়। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। তিনি বলেন, একমাত্র আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই অপরাধ কমানো সম্ভব। শুধু অপরাধ করলে পার পাওয়া যায় না এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেই অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৪ ঘণ্টায় ৫টি নৃশংস ঘটনা: গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকা, দিনাজপুর, খুলনা, কসবা ও জয়পুরহাটে পৃথক ৫টি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সোহেল নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দিনাজপুরে এক যুবককে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জয়পুরহাটে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। কসবায় ছেলেকে বেঁধে রেখে মায়ের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার বৃদ্ধ পিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহরের রামনগর এলাকায় মোখলেসুর রহমান ধলা (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল ১১টায় রামনগর মাঠের এক পাশে জঙ্গলের পরিত্যক্ত এলাকা থেকে ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম খালেকুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, নিহত যুবক রামনগর এলাকার মোহাম্মদ দুলু মিয়ার ছেলে। মোখলেসুর রামনগর মোড়ে পান-সিগারেটের দোকান করতো। কে বা কারা শুক্রবার রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পেট্রোল ঢেলে লাশটি পোড়ানোর চেষ্টা করে। এতে লাশের মুখ ও হাতের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, শহরের সবুজনগরে তরিকুল ইসলাম (২৮) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার বাসার অদুরে শহরের পাঁচুরচক সড়কের পাশের একটি জমি থেকে আজ সকালে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তরিকুল ইসলাম সবুজ নগর এলাকার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। জয়পুরহাট সদর থানার ওসি তদন্ত সিরাজুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, শহরের পদ্মা ক্লিনিক সংলগ্ন ফার্মেসির মালিক তরিকুল ইসলামকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার পর মৃতদেহ পাঁচুর চক সড়কের একটি পরিত্যক্ত নার্সারীর পাশে ফেলে যায়। সকালে স্থানীয়রা দেখে খবর দিলে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর আমতলী গ্রামে গত শুক্রবার গভীর রাতে ছেলেকে বেঁধে রেখে তার সামনেই মাকে হাত-পা বেঁধে জবাই করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ও নগদ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকালে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল খায়ের বাদী হয়ে এজহারে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত গৃহবধূও নাম রেজিয়া বেগম (৪০)। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর আমতলী গ্রামের শাহ্‌ আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী। রেজিয়া বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। বড় ছেলে ঢাকায় এবং স্বামী সিলেটে একটি বেকারিতে কাজ করেন। ছোট ছেলে মাসুক মিয়াকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন রেজিয়া বেগম। পুলিশ ও নিহতে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাতে রেজিয়া বেগম ও তার ছোট ছেলে মাসুক মিয়া (১২)কে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ছয়-সাতজনের একটি দুর্বৃত্ত দল মাটির দেয়ালের কাঠের দরজার নিচ দিয়ে মাটি খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ছেলেকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তার সামনেই তার মাকেও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘরে থাকা আলমারী ও আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। দুর্বৃত্তরা রেজিয়া বেগমের কান থেকে স্বর্ণের দুল ও গরু বিক্রির ২৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। একপর্যায়ে মাসুক বাঁধন খুলে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সে দৌড়ে তার নানা বাড়িতে গিয়ে চিৎকার করে তার মাকে খুন করার কথা বলতে থাকেন। এ সময় তার নানার বাড়ির ও আশে-পাশের লোকজন দৌড়ে এসে রেজিয়া বেগমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গলায় জবাই করা দেখতে পায়। খবর পেয়ে রাতেই কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন; গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে রেখে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
খুলনা থেকে জানান, ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় এক্সিম ব্যাংকের খুলনা শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে (২৫) ও তার বৃদ্ধ পিতা ইলিয়াস হোসেন (৭০)কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ খুলনার লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগার পেছনে ৩নং রোডের একটি টিনশেড বাড়ির সেপটি ট্যাঙ্ক থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাতি ও মেয়েকে ধর্ষণের পর দু’জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মালামাল লুট করেছে ডাকাতরা। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ঢাকা থেকে বড় বোন মোবাইলে জানান, পারভীন এবং বাবার মোবাইল ফোন দীর্ঘক্ষণ ধরে বন্ধ। তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে দরজায় তালা মারা দেখেন। রেজাউল বলেন. আমি এবং আবু সাইদ নামে একজন তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। এ সময় ঘরের সব আসবাবপত্র এলোমেলো এবং ব্যাংকের চেকবই ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখতে পাই। পওে সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা ও বোনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বুঝতে পারি, দুজনই মৃত। তিনি জানান, তার বোন পারভীন সুলতানার একবছর আগে বিয়ে হয়েছে। তার স্বামীও একই ব্যাংকে ঢাকায় কর্মরত। তার বাবা এখানে তিন বছর আগে টিনশেডের বাড়ি তৈরি করেছেন। তবে তিনি (রেজাউল) শহরে ইজিবাইক চালান বলে অন্যত্র থাকেন। লবণচরা থানার ওসি মোশাররফ হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, রাত সাড়ে ১২টায় একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত বৃদ্ধ ইলিয়াস হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ির সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার করলে তারা প্রথমে তাকে এবং তার মেয়ে পারভীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় ডাকাতরা ঘরের মালামাল লুট ও আসবাবপত্র তছনছ করে। তিনি বলেন, লাশ দু’টির গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতকরা নিহতদের পরিচিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতি করার সময় চিনে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, বাসার বাইরে থেকে রক্তমাখা একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে সিগারেটের টুকরো ও একটি কনডম পাওয়া গেছে, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানার লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লবণচরা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ও আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি শুধু ডাকাতি, না-কি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ডাকাতদের হাতে জোড়া হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পারভীনের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকায় কর্মরত স্বামী আশিকুর রহমান খুলনায় আসেন। আশিকুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তিনি ঢাকার একটি ট্রাভেলস এজেন্সিতে কাজ করেন। সেখানেই থাকেন তিনি। ইচ্ছা ছিল পারভীনকে বদলি করে সেখানে নিয়ে যাবেন। এজন্য তিনি ঢাকায় বাসাও দেখছিলেন। তিনি আরও জানান, অক্টোবরের ৭ তারিখ তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। এজন্য তাদের দু’জনের অনেক পরিকল্পনাও ছিল। শুক্রবার বিকালে পারভীনের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। পরে আর তার ফোন খোলা পাননি বলে কেঁদে ফেলেন আশিকুর রহমান। নিহত ইলিয়াস হোসেন চৌধুরীর বড় মেয়ে নার্গিস আহমেদ সাথী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বুড়ো মৌলভীর দরগার পেছনে ৩নং রোডের এ টিনশেড বাড়িটি আমার। এখানে বাবা ও পারভীন তিন বছর ধরে থাকতো।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা: গত শুক্রবার বণিক বার্তা নামে একটি জাতীয় পত্রিকার সহকারী ব্যবস্থাপকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে স্যুটকেসের ভেতর থেকে। ঘটনার দুই দিন আগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এই বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাকে অপহরণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের জন্য স্যুটকেসে রাখা হয়। একদিন আগে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের জামতলায় ধোপাপট্টিতে বাসায় ঢুকে সোনালী দাস নামে দশ বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৪ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সুমাইয়া নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ১০ই সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ সদরের যশোদল ইউনিয়নের আমটি শিবপুর এলাকায় শামীম মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাদক সেবনে বাধা দেয়া দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ও মুখ বেধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিনে মানিকগঞ্জের মনির নামে এক কলেজছাত্রকে অপহরণের পর হাত-পা বেধে জীবন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। এর কয়েকদিন আগে একই কায়দায় সাভারের মুন্না নামে অপর এক কলেজছাত্রকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪ঠা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে মাজারের ভেতর রহমত উল্লাহ ও আবদুল কাদের নামে দু’জনকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৩ই আগস্ট মাদারীপুরে হ্যাপী ও সুমাইয়া নামে দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

নৃপেন পোদ্দারশেষের পাতা
বাড়ছে খুন। পাল্টাচ্ছে খুনের ধরনও। প্রতিটি খুনের ঘটনাই নির্মম। একটি নির্মম ঘটনা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অন্যটিকে। এক কথায় লোমহর্ষক। শুনলেই গা শিউরে ওঠে। হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে লাশ। উপড়ে ফেলা হচ্ছে চোখ। কেটে দেয়া হচ্ছে হাত-পায়ের রগও। শ্বাসরোধ থেকে শুরু করে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা বা ছুরিকাঘাতে খুন এখন...