cb5ba69e12ee88b3786d71bb72fd1d7d-soccer-referee-red-card

মার্কো মাতোরাজ্জিকে মারা জিনেদিন জিদানের সেই ঢুসের কথা মনে আছে? ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখে বসেছিলেন ফরাসি মহাতারকা। অনেকের দৃষ্টিতে ফ্রান্সের বিশ্বকাপও সেই সঙ্গে ছুড়ে দিয়ে এসেছিলেন তিনি। অবশ্য জিদান একা নন, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন অনেক মহারথীই। লাল কার্ডের থাবায় খেলার গতিপথ পাল্টে গেছে অনেকবার। এবার সেই লালকার্ড নিয়ে কিছু মজার তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
৯০ মিনিটের এক ম্যাচে কয়টি লালকার্ড দেখা যায়? একটি, দুইটি বা খুব খারাপ কোনো দিন হলে তিন বা চারটি পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলের এক ম্যাচে রেফারি ডেমিয়েন রুবিনো মাঠের সবাইকে লাল কার্ডে দেখিয়ে ছেড়েছিলেন। ক্লেপোল ও ভিক্টারিয়ানোর ম্যাচে প্রথম অর্ধে মাত্র দুজনকে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে যেন নরক ভেঙে পড়ল মাঠে। কে কাকে ঘুষি দিচ্ছে বা লাথি মারছে, কারও কোনো হুঁশ নেই। খেলোয়াড়, কোচ, দর্শক হাত চালাতে বাদ রাখেননি কেউই। রেফারিও বা বাদ যাবেন কেন? মাঠের সবাইকেই তাই লাল কার্ড দেখিয়ে বসলেন তিনি।
মাঠের ২২ জন, অতিরিক্ত খেলোয়াড়, কোচ কেউই বাদ যাননি তাঁর হাত থেকে। সব মিলিয়ে ৩৬ জনকে সেদিন লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। পরে প্যারাগুয়ের এক স্থানীয় খেলায়ও মাঠের ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
দুটি ঘটনাই দক্ষিণ আমেরিকার। পেশাদারি ফুটবলে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের মালিকও এক দক্ষিণ আমেরিকান। কলম্বিয়ার জেরার্ডো বেদোয়া ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত ৪৩ বার লাল কার্ড দেখেছেন। লাল কার্ডের রেকর্ডে তাঁর ধারে কাছে নেই আর কেউ। অবশ্য মাথাটি একটু গরমই বেদোয়ার। ক্যারিয়ারে ডজন খানেক ক্লাবের হয়ে খেলতে নামা তারই প্রমাণ।
ইতালিয়ান লিগ সিরি ‘আ’ তে লাল কার্ডের শিরোপাও এক দক্ষিণ আমেরিকানেরই হাতে! উরুগুয়ের পাওলো মন্টেরো ১৬টি লাল কার্ড নিয়ে তালিকার শীর্ষে। স্প্যানিশ লিগ লা লিগায় অবশ্য এই মুকুট এক স্পেনিয়ার্ডের মাথায়। রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোস ১৯টি লাল কার্ড নিয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন, তবে স্প্যানিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ডটি নিজের করতে চাইলে আরও নয়টি লাল কার্ড লাগবে তাঁর। পাবলো আলফারো স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় বিভাগেও খেলেছিলেন। দুই লিগ মিলিয়ে ক্যারিয়ারে মোট ২৭টি লাল কার্ড দেখেছেন তিনি।
রামোসের বয়স বিবেচনা করে এই রেকর্ড ভাঙার ভালো একটি সম্ভাবনাই আছে। এরই মধ্যে একজন ভালো প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ে গেছেন রামোস। মাথা গরম দক্ষিণ আমেরিকানদের ধারা মেনেই ইতিমধ্যেই সাতটি লাল কার্ড দেখে ফেলেছেন ব্রাজিলিয়ান নেইমার।
সবকিছুর মতো এই বিষয়েও নিজেকে আলাদা রেখেছেন লিওনেল মেসি। ক্যারিয়ারে একবারই দেখেছেন লালকার্ড। এটি তাঁর দেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই! আর মেসির সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মোট আটবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন।
আরেক আর্জেন্টাইন ক্লদিও ক্যানিজিয়ারও আছে অনন্য এক রেকর্ড। ২০০২ বিশ্বকাপে মাঠে না নেমেই লাল কার্ড দেখেছিলেন। সাইড লাইন থেকে রেফারিকে গালি দিয়ে এই রেকর্ড গড়েন ম্যারাডোনার সাবেক এই সতীর্থ!

হাসন রাজাখেলাধুলা
মার্কো মাতোরাজ্জিকে মারা জিনেদিন জিদানের সেই ঢুসের কথা মনে আছে? ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখে বসেছিলেন ফরাসি মহাতারকা। অনেকের দৃষ্টিতে ফ্রান্সের বিশ্বকাপও সেই সঙ্গে ছুড়ে দিয়ে এসেছিলেন তিনি। অবশ্য জিদান একা নন, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন অনেক মহারথীই। লাল কার্ডের থাবায় খেলার গতিপথ পাল্টে...