1444235750
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তহীন দুর্ভোগে সময় কাটছে হজ শেষে দেশে ফিরে আসা হাজিদের। চার থেকে পাঁচ দিন আগে এসেও লাগেজ ও জমজমের পানির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে তাদের। নির্ঘুম দিনরাত কাটছে তাদের বিমানবন্দরেই। হজ ফ্লাইট নামার পর থেকেই হন্যে হয়ে ঘুরছেন কনভেয়ার বেল্ট ও হারানো প্রাপ্তি শাখায়। এ পর্যন্ত লাগেজ ও জমজমের পানি হারানো সংক্রান্ত বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের দপ্তরে জমা পড়েছে ৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ। তবে ৮০ শতাংশ হাজি এখনও পাননি তাদের কাক্সিক্ষত লাগেজ ও জমজমের পানি।
জানা গেছে, প্রতিবছরই হাজিদের লাগেজ ও পানি হ্যান্ডলিং করত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে চলতি হজ মৌসুমে এই লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাভেল ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সৌদি মালিকানাধীন অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে। প্রশ্ন উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের মান নিয়েও।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। এদিকে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকা-ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার বয়ঃবৃদ্ধ হাজি।
শুধু হাজিরাই নন, পরিবারের সদস্য যারা বিমানবন্দর থেকে হাজিদের নিতে এসেছেন তারাও আছেন বিপাকে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওইসব স্বজন এখন ঠাঁই নিয়েছেন বিমানবন্দর এলাকার আশপাশের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এবং আত্মীয়স্বজনদের বাসাবাড়িতে। কিন্তু ঢাকায় যাদের আত্মীয়স্বজন নেই তারা সীমাহীন বিপত্তিতে আছেন। বাধ্য হয়েই তারা বিমানবন্দরের কনকর্স হলের মেঝেতে, কেউবা আশপাশের এলাকার মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন। লাগেজ ও জমজমের পানি এখনও পাননি এমন ভুক্তভোগী হাজি ও স্বজনদের সংখ্যা ৫ শতাধিক। তারা বাসা থেকে যে টাকা-কড়ি নিয়ে এসেছিলেন তাও প্রায় শেষ। বাধ্য হয়ে অনেককেই শুকনো রুটি আর পানি খেয়ে থাকতে দেখা গেছে।
হজ পালন শেষে গত ৫ অক্টোবর ভোরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বিমানবন্দরে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের হাজি তজিবর রহমান। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি পরিবারের কাছে। লাগেজ খুঁজতে গিয়ে হয়রান। কিন্তু পাননি লাগেজ ও পানি। এর মধ্যে কেটে গেছে ৩ দিন। এই ৩ দিন ধরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই তিনি ঘোরাঘুরি করছেন। আর জেদ্দা থেকে বিমানের কোনো ফ্লাইট নামলেই ছুটে যাচ্ছেন আশা নিয়ে। তার লাগেজ ও জমজমের পানি এসেছে কিনা। কিন্তু মুহূর্তেই সে আশা নিরাশায় পরিণত হচ্ছে। তিনি দেশে ফেরার পর অনেক ফ্লাইট এলেও তার লাগেজটি আসেনি এখনও। একবার বিমানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে দেখা করে স্বল্প সময়ে লাগেজ ও পানি পাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
কিন্তু গতকাল বুধবার বিকালেও তিনি হাতে পাননি লাগেজ আর পানি। উপরন্তুÍ বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে আরও ৭ দিন পর এসে যোগাযোগের কথা বলেন। ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজনও নেই তার। তাই বিমানবন্দরেই দিনরাত কাটছে এ বৃদ্ধের। আর কতদিন এভাবে বিমানবন্দরে লাগেজের অপেক্ষায় থাকবেন বা আদৌ পাবেন কিনা তাও নিশ্চিত হতে পারছেন না তিনি। আগামী ৭ দিন তিনি কী করবেনÑ এই দুশ্চিন্তায় এখন হাজি তজিবর রহমান। তিনি একাই নন, একই ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন শত শত হাজি।
অশ্রুসিক্ত চোখে হাজি তজিবর রহমান গতকাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘বাবারেÑ এত কষ্ট করে আল্লাহর ঘর থেকে এলাম, কিন্তু এখানকার কেউ আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না। খাবার সরবরাহ দূরে থাক, তারা আমাদের কোনো খবরই রাখছে না। এক প্রকার দুরছাইয়ের শিকার হচ্ছি আমরা। পানি ও লাগেজের জন্য রাতদিন অপেক্ষা করছি বিমানবন্দরে।’
গাইবান্ধা সদরের বাসিন্দা হাজি নুরুজ্জামান মিয়া ও তার স্ত্রী আনোয়ারা জামান এবং আমেনা বেগম গত ৩ অক্টোবর এসে নেমেছেন বিমানবন্দরে। তাদের অবস্থাও অন্য সব হাজির মতোই। গতকাল বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তহীন দুর্ভোগের মধ্যে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন ১৫২ জন হাজি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপ্টেন এম মোসাদ্দেক আহমেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমরা হাজিদের স্বল্প সময়ে তাদের হাতে লাগেজ ও পানি দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুব তাড়াতাড়ি হয়তো এই দুর্ভোগ আর থাকবে না। যাত্রী হয়রানি বা লাগেজ বিড়ম্বনার সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্ট কারও অবহেলা বা যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। অনভিজ্ঞ সৌদি প্রতিষ্ঠানকে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, হাজিদের লাগেজ পেতে বিড়ম্বনার পেছনে তাদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444235750.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444235750-300x243.jpgনৃপেন পোদ্দারশেষের পাতা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তহীন দুর্ভোগে সময় কাটছে হজ শেষে দেশে ফিরে আসা হাজিদের। চার থেকে পাঁচ দিন আগে এসেও লাগেজ ও জমজমের পানির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে তাদের। নির্ঘুম দিনরাত কাটছে তাদের বিমানবন্দরেই। হজ ফ্লাইট নামার পর থেকেই হন্যে হয়ে ঘুরছেন কনভেয়ার বেল্ট ও হারানো প্রাপ্তি শাখায়।...