92365_thumb_b5
আবেদন করেননি, তবুও পূর্বাচল নতুন শহর, উত্তরা তৃতীয় পর্যায় ও ঝিলমিল প্রকল্পে প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। মহাজোট সরকারের গেল মেয়াদে মন্ত্রণালয়ের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে এ তিন প্রকল্পের সংরক্ষিত কোটার প্লট রীতিমতো ভাগাভাগি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিরা এ ক্যাটিগরিতে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এ তিন প্রকল্পের সংরক্ষিত কোটার ১২৮৩ প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন মন্ত্রী, এমপি, প্রবাসী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এসব প্লট বরাদ্দে সম্প্রতি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সরকারের পূর্ত নিরীক্ষা অধিদপ্তর। নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে রাজউকের তিনটি আবাসিক প্রকল্পে ১০ হাজার ৯১১টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোন রকম লটারি ছাড়াই সংরক্ষিত কোটায় ১২৮৩টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ১১০টি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯২০টি এবং ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ২৫৩টি। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে রাজউকের চেয়ারম্যান জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া মানবজমিনকে বলেন, সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দের ক্ষমতা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশ অনুসরণ করেই রাজউক প্লট বরাদ্দ দেয়। রাজউকের এককভাবে প্লট বরাদ্দ দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। সংরক্ষিত কোটার কোন প্লট ওইভাবে বরাদ্দও দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। সংরক্ষিত ক্যাটিগরিতে প্লট পাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সরকারপন্থি হিসেবে পরিচিত। এ ক্যাটিগরির প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক লেনদেনেরও জোরালো অভিযোগ রয়েছে। এভাবে অনেকে প্লট হাতিয়ে নিয়ে ইতিমধ্যে বিক্রিও করে দিয়েছেন। নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের শেষ দিক থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সম্প্রসারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ১৭টি ক্যাটিগরিতে রাজউক প্লট বরাদ্দ দিয়েছে ১২৪৩টি। এর মধ্যে বিনা লটারি ও সংরক্ষিত কোটায় ১১০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ দেয়ার সময় রাজউক ১২টি ক্যাটিগরিতে আবেদনপত্র আহ্বান করেছিল। প্রসপেক্টাসের বাইরে সংরক্ষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত নামে আরও দুটি ক্যাটিগরি ছিল। সব মিলিয়ে ১৪টি ক্যাটিগরি ছিল। এ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরা তৃতীয় পর্বে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৭ ক্যাটিগরিতে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণের পর মন্ত্রণালয় ও রাজউক মিলে উত্তরা তৃতীয় পর্বে আরও তিনটি ক্যাটিগরি তৈরি করে। এগুলোর মধ্যে ‘গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউক’ ক্যাটিগরিতে ১৭টি, ‘আইনজীবী’ ক্যাটিগরিতে ১০টি এবং ‘অন্যান্য অবশিষ্ট’ ক্যাটিগরিতে দেয়া হয় ২৬টি প্লট। এ ছাড়া সরকারের হাতে থাকা সংরক্ষিত কোটায় আরও ৫৭টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, উত্তরা তৃতীয় পর্বে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবেদন করলেও বিনা লটারিতে মন্ত্রী-এমপি ক্যাটিগরিতে ৮৩টি ও বিচারপতি ক্যাটাগরিতে ১০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ২৩ ক্যাটিগরিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮ হাজার ৪৫২টি প্লট। এর মধ্যে ৯২০টি প্লট সংরক্ষিত কোটার নামে চলে গেছে সরকারের পছন্দের লোকজনের কাছে। এসব প্লট থেকে ৮৩টি প্লট এমপিদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই ক্যাটিগরিতে সাংবাদিকদেরও বরাদ্দ দেয়া হয় ৬৫টি প্লট। যদিও এর আগে বিনা লটারিতে এমপিদের দেয়া হয় ৫০টি প্লট। একই সময়ে লটারির মাধ্যমে সাংবাদিকরা প্লট পেয়েছিলেন ৫৫টি। এরপর পছন্দের লোকজনকে বরাদ্দ দিতে নীতিমালায় উল্লিখিত ১৩/এ ধারার নামেও সংরক্ষিত কোটা ব্যবহার করা হয়। এ কোটায় দেয়া হয় ৫১৭টি প্লট। জানা গেছে, ২০০৯ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে রাজউক ১২টি ক্যাটিগরিতে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে। কিন্তু সমপ্রতি উল্লিখিত প্রতিবেদনে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের ক্যাটিগরি দেখানো হয়েছে ২৩টি। গত কয়েক বছরে ক্যাটিগরি বেড়েছে ১১টি। এই অতিরিক্ত ক্যাটিগরির মধ্যে ৪টি রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য। বাকি ৭টি ক্যাটিগরি রাজউকের সৃষ্টি করা। এসব ক্যাটিগরিগুলো হলো- সরকারি চাকরিজীবী (সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা), আইনজীবী এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এভাবে একের পর এক ক্যাটিগরি সৃষ্টি করে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্লট নিয়েছেন ২৪টি, আইনজীবীরা ১১০টি এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়েছেন ১২১টি প্লট। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে রাজউক ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয় ১২১৬টি। এর মধ্যে বিনা লটারি ও সংরক্ষিত ক্যাটিগরিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫৩টি। ২০১১ সালে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় রাজউকের প্রসপেকটাসে ক্যাটিগরি উল্লেখ ছিল ২০টি। সংরক্ষিত ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগ করলে ক্যাটিগরির সংখ্যা ২২টিতে পৌঁছায়। কিন্তু রাজউকের সর্বশেষ হিসেবে ঝিলমিল প্রকল্পে ক্যাটিগরি বেড়েছে ১৬টি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সালে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ও সংরক্ষিতসহ ৩৮ ক্যাটিগরিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্লট পেয়েছেন ৩৮ জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক বিশেষ ক্যাটিগরিতে ১৮টি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে ১০টি, জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আসা তালিকা অনুযায়ী ১২টি এবং ১৩/এ ধারায় ১৩৩টি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউক ক্যাটিগরিতে প্লট দেয়া হয়েছে ৪২টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের নামেও প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পছন্দের লোকজনকে প্লট দিতে গোপনে সৃষ্টি করা হয়েছে নতুন নতুন ক্যাটিগরি বা কোটার। কখনও কখনও উপ-ক্যাটিগরি তৈরি করেও প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আলাদা ক্যাটিগরিতে প্লট বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নামে আলাদা ক্যাটিগরি সৃষ্টি করে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে আবেদনের সময় মুদ্রিত প্রসপেক্টাসের সঙ্গে সর্বশেষ ঘোষিত ক্যাটিগরির মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রসপেক্টাসের বাইরে নতুন করে ক্যাটিগরি সৃষ্টি করা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডেরই দৃষ্টান্ত।

তুনতুন হাসানঅপরাধের ডায়েরী থেকে
আবেদন করেননি, তবুও পূর্বাচল নতুন শহর, উত্তরা তৃতীয় পর্যায় ও ঝিলমিল প্রকল্পে প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন প্রভাবশালীরা। মহাজোট সরকারের গেল মেয়াদে মন্ত্রণালয়ের দেয়া তালিকার ভিত্তিতে এ তিন প্রকল্পের সংরক্ষিত কোটার প্লট রীতিমতো ভাগাভাগি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিরা এ ক্যাটিগরিতে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু এ তিন প্রকল্পের...