বিশেষ প্রতিবেদক ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু জন্মহারে সরকার উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
গত দুই মাসে নবজাতকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার। অপরদিকে প্রসূতির সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ হাজার। গত অক্টোবরে ছিল ৩০ হাজার, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম গত রবিবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে হারে শিশু জন্ম নিচ্ছে তাতে সরকার উদ্বিগ্ন। শিশু পরিচর্যার ক্ষেত্রে যথেষ্ট চেষ্টা থাকলেও জন্মহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো ধারণাই নেই।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিশুদের পরিচর্যায় যেসব এনজিও কাজ করছে তারা জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতামূলক কোন কাজ করে না। স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে যে উদ্যোগ নিয়েছে তাও পর্যাপ্ত নয়।
স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষ কেউই জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কোনো ধারণা রাখে না। এ বিষয়ে পুরুষেরা বেশি অনাগ্রহী। অন্যদিকে একজন রোহিঙ্গা নারীর আটটি সন্তান পর্যন্ত রয়েছে। চারটির নিচে সন্তান রয়েছে এমন নারীর সংখ্যা খুবই কম।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, ইতিমধ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছাড়াও জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। দ্রুতই তা অনুমোদন করা হবে।
রোহিঙ্গাদের জন্মহার শঙ্কিত হওয়ার মতো বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল। তিনি বলেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ যদিও এখনো নেয়া সম্ভব হয়নি কিন্তু বিষয়টি সরকার ভাবছে। তবে এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার একশ’ জনকে সিজেলস রুবেলা বা এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ৭৩ হাজার ৩২০ জনকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এরই মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার ৭৬৮ জনকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীসহ ১৫ লাখ লোককে কলেরা ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে ১০ হাজার ২৯৯ জন এতিম শিশু বাংলাদেশে এসেছে। এ বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তর এরই মধ্যে জরিপ শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তাদের সেবাযত্ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য নতুন ক্যাম্প এলাকাকে ২০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সর্বশেষ প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের সবাইকে খাদ্য সহায়তার সম্মতি দিয়েছে। এ মাস থেকে চালের পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সরবরাহ করছে ডব্লিউএফপি। এদিকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে আসা অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ৮৭ হাজার। ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার। সব মিলিয়ে ছয় লাখ ২৪ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে বসবাস করছে।
 খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/722.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/722-300x300.jpgশিশির সমরাটশেষের পাতা
বিশেষ প্রতিবেদক । রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু জন্মহারে সরকার উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন শিশু জন্ম নিচ্ছে ক্যাম্পে।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। গত দুই মাসে নবজাতকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার। অপরদিকে প্রসূতির সংখ্যা বেড়েছে পাঁচ হাজার। গত অক্টোবরে ছিল ৩০ হাজার, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজারে। দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন...