91192_thumb_f2
রিফিউজি সংকট নিরসনে উদ্যোগী হতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী। অপরদিকে এ ব্যাপারে বৃটেনকে আরও ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এমপি রুশনারা আলীও। বাঙালি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী এক বিবৃতিতে বলেছেন- নিপীড়িত এবং যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা মানুষদের সাহায্যের ব্যাপারে বৃটেনের অনেক ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। বৃটেন অন্যান্য দেশকে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের জন্য উৎসাহিত করে আসলেও বর্তমান সমস্যায় অবদান একেবারেই নগণ্য। সারা বিশ্বের মানুষ যখন বৃটেনের দিকে তাকিয়ে আছে তখন এ ব্যাপারে আমরা ইতস্তত করছি। রুশনারা আলী এমপি বলেন, আমাদের সেরা দিকটি তুলে ধরে বিশ্বের সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করা উচিত। তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জন্য ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, রিফিউজি সমস্যা সমাধানে লন্ডনের হলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাসের এমপি কেইর স্ট্যার্মার এবং হর্নস ও উডগ্রিনের এমপি ক্যাথেরিন ওয়েস্টের সঙ্গে যৌথভাবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে টিউলিপ শরণার্থীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন তুরস্ক উপকূলে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা এক সিরীয় শিশুর মৃতদেহের ছবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রে শিরোনাম হওয়ার বিষয়টির ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, “বৃটেন সম্পূর্ণভাবে তার দায়িত্ব পালন না করলে এটা ঘটতে থাকবে।”এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের জন্য উদ্যোগী হতে বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।
টিউলিপ সিদ্দিকী তার যৌথ চিঠিতে বলেন, অভিবাসী সংকটের আন্তর্জাতিক সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয়ার মতো ভাল অবস্থানে আছে বৃটেন। আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য ১৯৯০ সালের ‘ডাবলিন প্রটোকল’ পর্যালোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এতে সদস্য দেশগুলো সমানভাবে আশ্রয় প্রার্থীদের দায় নেবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ‘সেঙ্গেন’ সীমান্তের অংশ আমরা নই বলে এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বৃটেন। এটা একটি সন্দেহজনক অজুহাত। যা থেকে দুটি ইস্যু বেরিয়ে আসে। কিন্তু আমাদের ইউরোপিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় সংযুক্ত হতে ব্যর্থতা আরও গভীরে প্রথিত। অন্য ইউরোপীয় দেশগুলো যে পরিমাণ বিদেশী নাগরিককে আশ্রয় দেয় বৃটেন তার থেকে কম আশ্রয় অনুমোদন দিয়ে থাকে। সিরীয় যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ লাখ শরণার্থী। এর ফলে সৃষ্ট চাপ কমানোর জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) কোটা পদ্ধতিসহ একটি আন্তর্জাতিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে যেন উন্নত দেশগুলো সমানভাবে এ ভার বহন করতে পারে। এর পরিবর্তে বৃটেন আমাদের নিজস্ব কার্যক্রম দিয়ে কাজ করা বেছে নিয়ে ওই স্কিমে স্বাক্ষর করতে অব্যাহতভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। আমাদের স্কিমে সর্বোচ্চ ১ হাজার সিরীয়কে আশ্রয় অনুমোদন দেয়া হবে, যা জার্মানি ও অন্য দেশগুলো যেসব হাজার হাজার মানুষকে সহায়তা করেছে তার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। শরণার্থীদের যে কষ্টদায়ক পরিস্থিতি সহ্য করতে হয় আমরা তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করছি না। যেসব শরণার্থী ইউরোপে আসার জন্য সমুদ্রযাত্রা বেছে নিয়েছে, তাদের ওই সফর ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
যাদের সাহায্য প্রয়োজন তাদের উদ্ধার অভিযানের অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর পরিবর্তে তারা অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরের একটি অভিযান চালু করেছে। এই ইস্যুতে বৃটেন নীরব রয়েছে। ইউরোপের সীমান্তে যেসব শরণার্থী পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে তা নিয়ে এতে কিছুই বলার নেই। অনেকে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়। তাছাড়া আশ্রয় আবেদন করার ক্ষেত্রে তারা যে সহায়তা পেয়ে থাকেন তা নিতান্তই নগণ্য। আর যারা একবার আশ্রয় আবেদন থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে সহায়তা আরও কমানোর কথা বিবেচনা করছে বৃটেন। ফলে তাদের আপিল করার সুযোগও কার্যত প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
এটা বন্ধ হতে হবে। এ ইস্যুতে সরকারের বর্তমান অবস্থানের ফলে আমাদের সম্মুখের সঙ্কট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এসবের শোচনীয় মানবিক প্রভাব পরিষ্কারভাবে বুধবারের পত্রপত্রিকার প্রচ্ছদে চিত্রায়িত হয়েছে। বৃটেন সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা না করলে এসব ঘটতেই থাকবে।
এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিতে আমরা বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
ডাবলিন প্রটোকল পুনর্বিবেচনায় আমাদের উচিত ইইউ আংশীদারদের সঙ্গে যোগ দেয়া। এর ফলে সীমান্তবর্তী ইইউ রাষ্ট্রসমূহের ওপর সৃষ্ট চাপ বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রধানতম কাজ হচ্ছে শরণার্থী সঙ্কটের ফলে সৃষ্ট চাপের সমান অংশ অন্য সদস্যরাও নিতে পারে কিনা তা যাচাই করা।
এর অংশ হিসেবে, বর্তমানে বিশ্বে বিদ্যমান সব শরণার্থী বিষয়ক চুক্তি আমাদের অবশ্যই ইইউজুড়ে বিস্তৃত আকারে পর্যালোচনা করতে হবে। এর মধ্যে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, সঠিক শরণার্থী অনুসন্ধান ও উদ্ধারাভিযানে অর্থায়ন করা এবং ইউরোপের মাটিতে তাদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে তা নিয়ে সব রকমের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করা।
চূড়ান্তভাবে, অন্যান্য ইইউভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি এ সংকটের শিকার মানুষের সমান সংখ্যক ভার আমাদেরও অবশ্যই নিতে হবে। সিরিয়ান শরণার্থীদের জন্য ইউএনএইচসিআরের প্রচেষ্টায় বৃটেনের পূর্ণ অংশগ্রহণ অবশ্যই এর অংশ হতে হবে।

নৃপেন পোদ্দারপ্রথম পাতা
রিফিউজি সংকট নিরসনে উদ্যোগী হতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী। অপরদিকে এ ব্যাপারে বৃটেনকে আরও ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এমপি রুশনারা আলীও। বাঙালি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী এক বিবৃতিতে বলেছেন- নিপীড়িত এবং যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা মানুষদের সাহায্যের...