1444207692
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজন বাড়ি। আর একটি বাড়িতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রান্নাঘর। কারণ এ ঘরে যে রান্না করা হয় তার পরিচ্ছন্নতা ও ভেজালহীনতার ওপর নির্ভর করে পরিবারের সবার স্বাস্থ্য। তাই রান্নাঘরে কাজ করার সময় কিছু বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তাহলে রান্নাঘরে থাকবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। এমনই কিছু টিপস দেয়া হলো এই প্রতিবেদনে :

১. কাচের গ্লাস ও জগ থেকে ঠাণ্ডা শরবত ঢালার পরে কোনো বরফ ফেলে রাখবেন না। তা হলে গ্লাসে ফাটল ধরতে পারে।
২. প্লাস্টিকের বা কাঠের হ্যান্ডেলসমেত ছুরি গরম পানিতে পুরোটা ডুবিয়ে পরিষ্কার করবেন না। প্লাস্টিকের রঙ হালকা হয়ে যাবে। শুধু ছুরির ধারালো অংশ গরম পানিতে ডুবিয়ে পরিষ্কার করুন।
৩. স্টিলের বাসন, বিশেষ করে গ্লাস বা বাটি অনেক সময় একসঙ্গে আটকে যায়, সেক্ষেত্রে ভেতরের বাটি বা গ্লাসে ঠাণ্ডা পানি ঢালুন এবং বাইরের গ্লাস বা বাটিতে গরম পানি ঢালুন। কয়েক মিনিট পর সহজেই আলাদা করতে পারবেন।
৪. ছাঁকা তেলে ভাজার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করুন। এতে কড়াই ধীরে ধীরে গরম হলেও বেশিক্ষণ গরম থাকবে। কম অাঁচে রান্না করলে তামা বা পিতলের কোটিং দেয়া বাসন ব্যবহার করুন। লোহার কড়াই পরিষ্কার করার জন্য নারকেলের ছোবড়া বা সিনথেটিক স্ক্রাবার ব্যবহার করতে পারেন।
1444207692_1
৫. রান্না করার পরই গরম বাসনে পানি ঢালবেন না। কারণ, অতিরিক্ত গরম বাসন ঠাণ্ডা পানির সংস্পর্শে এলে বাসনের মেটাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন বেশি দিন সে বাসন ব্যবহারযোগ্য থাকে না।
৭. পিতলের কোটিং দেয়া বাসন পরিষ্কার করার জন্য ভিনিগারের সঙ্গে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে ওয়াশিং সোডা ব্যবহার করবেন না। অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে রান্নার কারণে কুকিং সোডা ব্যবহার করলে কালো হয়ে যেতে পারে। ওই পাত্রে সমপরিমাণ পানি ও ভিনিগার দিয়ে ফোটালে দাগ উঠে যাবে। এছাড়া এর পরিবর্তে লেবুর রস ও সমপরিমাণ পানিও ব্যবহার করতে পারেন।
৮. ননস্টিকের বাসন পরিষ্কার করার সময় স্টিল উল ব্যবহার করবেন না। নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন। তেল-মশলার গ্রেভি রয়েছে এরকম লোহার পাত্রে সোডা ও পানির মিশ্রণ দিয়ে ভালো করে ফোটান, তারপর সিনথেটিক স্ক্রাবার দিয়ে পরিষ্কার করুন। ময়দা চেলে নেয়ার পর যে ভুসি পড়ে থাকে, তা স্টেনলেস স্টিলের তেল চিটচিটে বাসন পরিষ্কার করার জন্য দারুণ কাজে লাগে।
৯. কেটলির ভেতর চায়ের কড়া দাগ দূর করার জন্য ওর ভেতরে পানি ও ১ কাপ ছাই দিয়ে ভালো করে ফোটান, তারপর পানি ফেলে দিন, দেখবেন ওর মধ্যে জমে থাকা সব ময়লা বের হয়ে আসবে।
১০. অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ভেতরের দিক দিয়ে পুড়ে গেলে ওর মধ্যে সামান্য পানি ও পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে ফোটান, তারপর ধীরে ধীরে পোড়া অংশ উপরে ভেসে উঠবে ও প্যানের নিচের অংশ পরিষ্কার থাকবে।
১১. চাল ধোয়ার পানি না ফেলে গ্লাস ও স্টেনলেস স্টিলের পাত্র কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন বাসন চকচক করছে।
১২. প্রতিটি ছোটখাটো বাসন নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ব্যবহারের যেসব বাসন, যেমন—লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, গ্লাস ও কাপ, চায়ের কাপ-পিরিচ, ছুরি, চামচ; এগুলো খাবার ঘরের সাইড-বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্নাঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে।বাসনপত্র ধোয়ার পর, ভালো করে মুছে তারপর তুলে রাখুন। বাসন মোছার জন্য সবসময় পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন।
১৩. যদি সম্ভব হয় গ্যাস স্টোভের সামনের দেয়ালে জানালার মতো চারকোণা খোপ কেটে নিতে পারেন। আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখতে পারেন। তাহলে রান্নার সময় এ ক্যাবিনেট থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বের করে হাতের কাছে নিতে পারবেন। সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্র্যাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিনস গুছিয়ে রাখুন। রান্নাঘরে অবশ্যই একটি ঢাকনা দেয়া নোংরা ফেলার বালতি রাখবেন।
১৪. অনেকদিন বন্ধ থাকা বা অব্যবহৃত ঘর খুললে একটা ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়। দু-তিনটে দেশলাই কাঠি জ্বালালে দু-তিন মিনিটের মধ্যে ঘর থেকে গন্ধ চলে যাবে।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444207692_1.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444207692_1-300x300.jpgওয়াজ কুরুনীলাইফ স্টাইল
সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজন বাড়ি। আর একটি বাড়িতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রান্নাঘর। কারণ এ ঘরে যে রান্না করা হয় তার পরিচ্ছন্নতা ও ভেজালহীনতার ওপর নির্ভর করে পরিবারের সবার স্বাস্থ্য। তাই রান্নাঘরে কাজ করার সময় কিছু বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তাহলে রান্নাঘরে থাকবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। এমনই কিছু টিপস...