image_265058.2015-09-05_6_296401
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের আদর্শে বিশ্ব মানবতা জাগ্রত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হলো রাজধানীর ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এবারের জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রাটি ছিল ৪৬০তম।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শনিবার বিকালে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বের করা হয় জন্মাষ্টমীর মূল আকর্ষণ জমকালো ও বর্ণাঢ্য এই মঙ্গল শোভাযাত্রা।
এ উপলক্ষে দুপুরের পর পর থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল নামে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে পলাশীর, আমিজপুর মোড়সহ আশেপাশের এলাকাতে।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। আর শোভাযাত্রাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথিহিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় হাতি, ঘোড়া, গরুরগাড়ি, টমটম, বিভিন্ন প্লেকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানার এবং অসংখ্য ট্রাক স্থান পায়।
‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ/ হরে রাম, হরে রাম’- ধ্বনিতে শতাধিক ঢাক, খোল, করতাল, শঙ্খ, উলুধ্বনিতে চারদিক মুখরিত করে তুলে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় ব্যান্ড পার্টি, ঢোলঢাক ও লাউড স্পিকারের গান-বাজনার তালে তালে হাজার হাজার পুণ্যার্থী নেচে-গেয়ে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণের করুণা চেয়ে তার আবাহন সঙ্গীতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।
দীর্ঘ শোভাযাত্রায় অসংখ্য ট্রাকে, টমটমে, ঘোড়া গাড়িতে ধর্মাবতার শ্রীকৃষ্ণের প্রতিমা ও প্রতিকৃতি বহন করা হয়। অনেক শিশুদের কৃষ্ণ, রাধা, কংস, শিব, পার্বতীসহ বিভিন্ন সাজে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হয়। শোভাযাত্রাটি পলাশীর মোড় থেকে শুরু হয়ে জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, প্রেসক্লাব, পল্টন, জিপিও, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান এবং নবাবপুর রোড হয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দু’দিন ব্যাপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির ছিল প্রথম দিন। জন্মষ্টামী উপলক্ষে সকালে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে শুভ সূচনা হয়। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করেন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের শংকর মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসীরা। সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এই গীতাযজ্ঞ আয়োজন শেষে প্রসাদ বিতরণ করা হয় সমবেত ভক্তদের মাঝে।
এ ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ-ইসকন, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, স্বামী ভোলানন্দ গিরি আশ্রম, প্রভু জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, রাধামাধব জিও দেব বিগ্রহ মন্দির, রাধা গোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং মাধব গৌড়ীয় মঠসহ বিভিন্ন মন্দির, পূজামন্ডপ ও ধর্মীয় সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় ছিল গীতাযজ্ঞ, জন্মাষ্টমীর মিছিল এবং আনন্দ শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, আলোচনা সভা, কীর্তন, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ইত্যাদি। দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টিভি ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো প্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে।
সনাতন হিন্দু ধর্মের প্রবক্তা ও প্রাণপুরুষ মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণর দ্বাপর যুগের শেষ দিকে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন। সনাতন ধর্মানুসারে, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করতেই এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
এদিকে জন্মষ্টমী উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১ টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ এই সংবর্ধনায় যোগ দেন। এ সময় ভারতের হাইকমিশনার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শুভ সমরাটপ্রথম পাতা
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের আদর্শে বিশ্ব মানবতা জাগ্রত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হলো রাজধানীর ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এবারের জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রাটি ছিল ৪৬০তম। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শনিবার বিকালে রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বের করা হয় জন্মাষ্টমীর মূল আকর্ষণ জমকালো ও বর্ণাঢ্য এই মঙ্গল...