1440775168
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়ার একটি রহস্য ঘেরা বাড়ি থেকে মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি’র সহযোগী সন্দেহে অংনু ইয়ান রাখাইন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার অটকের পর রাজস্থলী থানায় বিদেশি নাগরিক সম্পর্কিত আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সকালে রাজস্থলী থানা পুলিশের কড়া পাহাড়ায় অংনুকে রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালতে হাজির করা হয়। বিকালে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলী আহসান তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

রাজস্থলীর তাইতং পাড়ার সেই বাড়িটি রহস্যে ঘেরা। তিন তলাবিশিষ্ট আধুনিক বাংলো বাড়িকে ঘিরে এখন সাধারণ মানুষের কৌতূহল। পাহাড়ি গহিন জঙ্গল এলাকায় এই সুন্দর বাড়িটি ছিল মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি’র আশ্রয়স্থল। এখান থেকেই আরাকান আর্মির কার্যক্রম মনিটরিং করা হতো। বাড়ির চারদিকে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা) রয়েছে। এ থেকে পুলিশ ধারণা করছে—আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে এই বাড়ি থেকে তথ্য বাইরে আরাকান আর্মিদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ হতো।

শুক্রবার বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—বাড়ির মালিক নেদারল্যান্ড প্রবাসী ডা. রেনাইজো। তার এই বিলাশবহুল বাড়িটি ছিল আরাকান আর্মির আশ্রয়স্থল। আরাকান আর্মিদের কেউ অসুস্থ হলে ওই বাড়িতে রেখে চিকিত্সা সেবা প্রদান করা হতো।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান—অংনু ইয়ান রাখাইন এক মাস আগে ওই বাড়িতে থাকা শুরু করেন। এর আগে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তার দুই হাত উড়ে গেলে তাকে চট্টগ্রামে গোপনে চিকিত্সা দেয়া হয়। সুস্থ হওয়ার পর অংনু ওই বাড়িতে আসেন।

এ ব্যাপারে গ্রেফতার অংনু ইয়ান রাখাইন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন—সম্প্রতি তিনি আহত হওয়ার পর দেয়া হয়। ওই বাংলো বাড়িতে আসার পর তিনি কখনোই ঘর থেকে বের হতেন না। তাকে সময় মতো লোকজন খাবার দিয়ে যেত। কিন্তু তাদের তিনি চেনেন না।

তাইতং পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান—১৯৯৬ সালে ডা. রেনাইজো ঐ এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। এলাকায় তিনি একটি চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতেন। এরপর থেকে তার স্থানীয় জনগণের সাথে সুসসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ডা. রেনাইজো তাইতুং পাড়ায় বিয়ে করেন। ৫-৬ বছর আগে ডা. রেনাইজো বিলাশবহুল বাংলোর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এলাকায় তিনি দানবীর নামে পরিচিত। এলাকার যেকোনো পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। অনেক অনুষ্ঠানে তিনি নিজে উপস্থিত থাকেন।

ডা. রেনাইজোর আরাকান আর্মির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে তেমন কোনো তথ্যই স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন না। তবে বিশাল বাংলো নির্মাণের পর সেখানে ১৫টি ঘোড়া থাকত। বাংলোর পাশে ঘোড়ার আঁস্তাবলও নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ২-৩ মাস আগে থেকে ১৫টি ঘোড়ার পরিবর্তে সেখানে ২টি ঘোড়া দেখতে পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় ওই দুই ঘোড়া জব্দ করা হয়। এ ছাড়া, বড় মোদকে বিজিবির হাতে আটক ১৩ ঘোড়া আগে ওই বাংলোতে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা ধারণা করছেন।

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান—রাজস্থলী উপজেলার এত সুন্দরবাড়ী আর কারো নেই। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ডা. রেনাইজো সম্পর্কে সে রকম কোনো তথ্য ছিল না। ডা. রেনাইজো নেদারল্যান্ড প্রবাসী ছিলেন বলে তার বিলাশবহুল বাংলো থাকতে পারে বলে ধারণা ছিল সবার। তিনি গ্রামের দানবীর হিসাবেও পরিচিত লাভ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকালে বান্দরবানের থানচির বড় মোদকে ঘোড়া আটক হওয়ার পরই ওই বাংলোর ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়। এরপর যৌথ বাহিনী ওই বাংলোতে অভিযান চালায়। বাংলো থেকে আরাকান আর্মির সহযোগী অংনু ইয়ানকে আটকের সময় বড় মোদকের সদৃশ আরো ২টি ঘোড়া জব্দ করা হয়। এ ছাড়া, ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ সবের মধ্যে আইপি ক্যামেরাও ছিল। ওই বাড়িতে ইন্টারনেট প্রযুক্তিও ছিল। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে—সেখান থেকে আরাকান আর্মিদের সঙ্গে যোগাযোগ হতো।

উল্লে­খ্য, গত ২৬ আগস্ট রাতে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী তাইতুং পাড়ার বাংলো আকৃতির একটি বিলাশবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকসহ আরাকান আর্মির পোশাক, ল্যাপটপ, সিসি ক্যামেরা, আইপি ক্যামেরা, ই-ক্যামেরা এবং ২টি ঘোড়া আটক করে।

তাহসিনা সুলতানাপ্রথম পাতা
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়ার একটি রহস্য ঘেরা বাড়ি থেকে মিয়ানমারের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি’র সহযোগী সন্দেহে অংনু ইয়ান রাখাইন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার অটকের পর রাজস্থলী থানায় বিদেশি নাগরিক সম্পর্কিত আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সকালে রাজস্থলী থানা পুলিশের কড়া পাহাড়ায় অংনুকে রাঙ্গামাটি জেলা...