নিউ ইয়র্ক সংবাদদাতা ।
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর গ্রেপ্তার হলেন এক বাংলাদেশি রসায়নবিদ (বিজ্ঞানী)।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের লওরেন্সের বাসিন্দা রসায়নের অধ্যাপক সৈয়দ আহমেদ জামাল গত ২৪ জানুয়ারি বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে বাড়ির সামনেই তাকে গ্রেপ্তার করেন মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের (আইসিই) কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় ক্যানসাসসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ফাঁদে পড়া তিনিই প্রথম উচ্চপদস্থ বাংলাদেশি কর্মকর্তা।

সৈয়দ আহমেদ জামাল বাংলাদেশি ৩০ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তাঁর স্ত্রী এবং ১৪, ১২ ও সাত বছর বয়সী তিন সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর পাঁচ ভাইবোনের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

সৈয়দ জামালের বিরুদ্ধে মার্কিন পুলিশের কাছেও কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড নেই। কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আইসিই-এর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কোনো জবাব দেননি। জামাল এমন কি করেছেন, যাতে তাকে সন্দেহ করা যেতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিতারণ করা যায় এমন কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিই কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে, তাদের ওপর এখন নজর দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ব্যক্তিকে বিপজ্জনক মনে হলে তাকে গ্রেপ্তার করা বাধ্যতামূলক।

আইসিই’র কার্যনির্বাহী প্রধান থমাস হোমান জানান, আদালতের আদেশেই জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১১ সালে জামালের ভিসা একবার বাতিল হয়ে যায়। তিনি জানান, আদালত ‘ভলান্টারি ডিপারচার’র নির্দেশ দিলেও সে সময় (২০১১) যুক্তরাষ্ট্র থেকে জামালকে বিতাড়িত করা হয়নি। পরে তিনি স্থায়ী বসবাসের ভিসা আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন অভিবাসন আপিল বিভাগ।

বিজ্ঞানী ও কমিউনিটি নেতা জামালকে গ্রেপ্তার করায় তাঁর বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীরা চরম ব্যথিত হয়েছেন। ৩০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি কানসাসের এই শহরাঞ্চলেই বসবাস করছিলেন। এ জন্য স্থানীয়দের মাঝে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

জামালের পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা জামাল একসময় এইচ-ওয়ানবি ভিসায় সেখানে কাজ শুরু করেন। বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে যুক্তরাষ্ট্র এ ভিসা দেয়। পিএইচডি ডিগ্রির সময় তিনি ফের স্টুডেন্ট ভিসা নেন।

আটকের সময় তার সাময়িক কাজের অনুমতি ছিল। তিনি কানসাস সিটির পার্ক ইউনিভার্সিটির রসায়নের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতলে তিনি গবেষণা করছিলেন। ২০১১ সালে একবার জামানলে ভিসা বাতিল হলে বিচারক তাঁকে স্বেচ্ছা প্রস্থানের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁকে নজরদারিতে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ওয়ার্ক পারমিট রক্ষা করতে প্রতিবছর আইসিই’র কাছে রিপোর্ট করার ভিত্তিতে তাঁকে থাকতে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন অভিবাসন নীতিতে নজরদারিতে থাকার ওই নিয়মে দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর খড়গহস্ত হন। ২৫ লাখ মার্কিন অভিবাসী এ শ্রেণিতে পড়েন। তাদের ৮০ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/10.gifhttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/10-300x300.gifজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনপ্রবাস জীবন
নিউ ইয়র্ক সংবাদদাতা । দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর গ্রেপ্তার হলেন এক বাংলাদেশি রসায়নবিদ (বিজ্ঞানী)।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের লওরেন্সের বাসিন্দা রসায়নের অধ্যাপক সৈয়দ আহমেদ জামাল গত ২৪ জানুয়ারি বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে বাড়ির সামনেই তাকে গ্রেপ্তার করেন মার্কিন অভিবাসন ও...