03_246119
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিসের প্রথম দুই দিন তেমন ভিড় না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পুরনো চেহারা ফিরে পায় ঢাকা সদরঘাট। সকাল থেকে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে যাত্রীরাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। প্রতিটি লঞ্চের ডেক, কেবিন, কেবিনের করিডর কোথাও পা ফেলার জায়গা ছিল না। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় অনেক লঞ্চই ছেড়ে দেয় নির্ধারিত সময়ের আগে। ঢাকা বন্দর ভবনে থাকা বিশেষ মনিটরিং টিম লঞ্চগুলোকে ঘাট ছাড়তে বাধ্য করে। কোনো কোনো লঞ্চ প্রশাসনের চাপে আগাম বুকিং দেওয়া যাত্রী ফেলেই গন্তব্যের পথে রওনা দেয়। এমনকি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামালকেও ফেলে গিয়েছিল সুন্দরবন-৭ নামের লঞ্চটি। পরে কিছুদূর থেকে আবার ঘাটে ফিরে কামালকে তুলে নেয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

গতকাল দুপুর ২টায় ঢাকা নৌবন্দরে গিয়ে নির্ধারিত লঞ্চটি না পেয়ে বিড়ম্বনার শিকার বরিশালগামী যাত্রী তোফায়েল আহম্মেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘বাসা থেকে রওনা দেওয়ার আগে লঞ্চে ফোন করেছিলাম। তখন জানানো হয়েছিল ২টায় লঞ্চ ছাড়বে। কিন্তু রাস্তার ভোগান্তি পেরিয়ে দেড়টায় ঘাটে এসে শুনি আমার লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এখন যে কী করব বুঝতে পারছি না। যদিও ওই লঞ্চ থেকে বলা হয়েছে একই কম্পানির আরেকটি লঞ্চের অপেক্ষায় থাকতে। কিন্তু ওই লঞ্চে কেবিন পাওয়া যাবে কি না তা অনিশ্চিত। আর কেবিন না পেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মহাবিপদেই পড়ে যাব।’ তোফায়েলের মতো আরো অনেক যাত্রী এমন ভোগান্তিতে পড়ে দুপুর থেকে অপেক্ষায় থাকেন সন্ধ্যা পর্যন্ত।

ঘাট ছেড়ে শ্যামপুর পেরিয়ে যাওয়া সুন্দরবন লঞ্চটি ফের ঘাটে এসে বরিশালের মেয়রকে তুলে নেওয়ায় অনেক সময় নষ্ট হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ওই লঞ্চের যাত্রী মোকলেসুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘আরো অনেক মানুষকে রেখেই তো লঞ্চটি অনেক দূর চলে গিয়েছিল। কিন্তু কেবল মেয়রের জন্য লঞ্চের তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষকে এমন ভোগান্তি দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে মেয়র তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অন্যায় করেছে। কারণ আমরা ওই এক ঘণ্টা সময়ে অনেকটা পথ এগিয়ে থাকতে পারতাম।’

গতকাল যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে কোনো কোনো লঞ্চকে আগেভাগে ঘাট ত্যাগে বাধ্য করা হলেও এর আগেই এসব লঞ্চ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যাত্রী বোঝাই করে। তবে ভিড় বেশি থাকলেও এবার ঘাটে অন্যবারের চেয়ে অনেকটা সুশৃঙ্খল চেহারা দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও বিআইডাব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চেষ্টা করেন শৃঙ্খলা রক্ষার। কোন লঞ্চ কোন ঘাটের কত নম্বর পন্টুনে অবস্থান করছে তা জানিয়ে দেওয়া হয় কন্ট্রোল রুম থেকে।

বিআইডাব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর) মাহাবুল আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বন্দরে এবার যাত্রীদের আগের মতো হয়রানি নেই। বরং যাত্রীসেবায় অনেক উন্নতি ঘটানো হয়েছে।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি সাইদুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ঈদের সময় কখনোই শিডিউল ঠিক রাখা যায় না। কারণ যাত্রী ভরে গেলে প্রশাসনের লোকজন লঞ্চ ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। এ ছাড়া স্পেশাল সার্ভিসের আওতায় থাকা লঞ্চগুলোর শিডিউল ঠিক রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে।

হীরা পান্নাজাতীয়
ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিসের প্রথম দুই দিন তেমন ভিড় না থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পুরনো চেহারা ফিরে পায় ঢাকা সদরঘাট। সকাল থেকে প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে যাত্রীরাই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। প্রতিটি লঞ্চের ডেক, কেবিন, কেবিনের করিডর কোথাও পা ফেলার জায়গা ছিল না। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় অনেক লঞ্চই ছেড়ে দেয়...