93958_x3
মৌলভীবাজার কারাগারের অভ্যন্তরে তৈরি হচ্ছে ধানি সেমাই ও পাঁপর। এর অন্যতম কারিগর হলো মহিলা কয়েদিরা। অল্পদিনেই এ দুটি পণ্য স্থানীয় বাজারগুলোতে সাড়া ফেলেছে। দিন দিন বাড়ছে এ পণ্যগুলোর চাহিদা। দেখতে আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। পণ্য দুটির দামও রয়েছে সাধ্যের মধ্যেই। ঈদ ও পূজায় অত্যাবশ্যকীয় এই মুখরোচক খাবারটি সবার পছন্দ। সবদিক লক্ষ্য রেখেই তাদের এমন উদ্যোগ- এমনটিই ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানালেন জেল সুপার আল মামুন। তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ঈদকে সামনে রেখে জেলা কারাগারের কয়েদিদের তৈরি ধানি সেমাই ও পাঁপরের চাহিদা বেড়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সৃষ্টিশীল কাজে উৎসাহ প্রদান ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জেল সুপারের। উৎপাদিত পণ্যের নাম ‘ধানি সেমাই’। দূর থেকে দেখলে মনে হবে হাইব্রিড ধানের ছোট প্যাকেট। মৌলভীবাজার জেল সুপার এবং কারাভ্যন্তরের ১৮-২০ জন হাজতি মহিলা হচ্ছে ধানি সেমাইয়ের কারিগর। ১৮-২০ জন মহিলার কর্মহীন কারাজীবনকে কীভাবে শ্রমবান্ধব পর্যায়ে উন্নীত করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন জেল সুপার আল মামুন। একপর্যায়ে গত জানুয়ারি মাসে তিনি ৬-৭ জন মহিলা হাজতিকে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্যনের প্রস্তাব দিলে তারা সে প্রস্তাব লুফে নেয়। এরপর শুরু হয় সেমাই তৈরির কার্যক্রম। আগ্রহীদের পরীক্ষামূলক ময়দা দেয়া হলো সেমাই তৈরির জন্য। শুকনা ময়দার ‘খামি’ দিয়ে সেমাই তৈরি করা হলেও তার প্রকৃতি বা আকার নিয়ে বাধে সংশয়। একপর্যায়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো যে মিশিনের তৈরি সেমাই এবং হাতের তৈরি সেমাইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। অতঃপর ‘খামি’ থেকে ক্ষুদ্র কুঁচি বের করে সেটিকে দেয়া হলো ধানের আদল। রৌদ্রে শুকিয়ে তৈরি সেমাইকে তাওয়াতে ভেজে প্যাকেটবন্দি করা হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তা অত্যন্ত যন্তসহকারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবেই তৈরি করা হয়। ২০০ গ্রামের প্রতিটি সেমাই প্যাকেটের দাম রাখা হয়েছে ১৫ টাকা। জেলগেট, মৌলভীবাজার শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ সেমাই বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতি কেজি সেমাই তৈরি বাবদ মজুরি দেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। ফলে জেলা কারাগারের মহিলা হাজতি ওয়ার্ড হয়ে উঠেছে কর্মচঞ্চল। অন্যদিকে সম্প্রতি পুরুষ হাজতিদের ও কর্মদক্ষ করতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে পাঁপর, যা বাজারে পাওয়া অন্য পাঁপরের চেয়ে ভিন্ন এবং স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। বর্তমানে ৬ জন হাজতি এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চানাচুরের মতো দেখতে এ পণ্যটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কুড় কুড়ে পাঁপরে’। আর দামের দিক দিয়েও তা রয়েছে হাতের নাগালে। ১০০ গ্রামের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আর দেড় শ গ্রামের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। দুটি পণ্যের প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুত প্রণালি লেখা থাকায় যে কেউ ঝটপট সহজেই তা রান্না করতে পারেন।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
মৌলভীবাজার কারাগারের অভ্যন্তরে তৈরি হচ্ছে ধানি সেমাই ও পাঁপর। এর অন্যতম কারিগর হলো মহিলা কয়েদিরা। অল্পদিনেই এ দুটি পণ্য স্থানীয় বাজারগুলোতে সাড়া ফেলেছে। দিন দিন বাড়ছে এ পণ্যগুলোর চাহিদা। দেখতে আকর্ষণীয় এবং স্বাদেও রয়েছে ভিন্নতা। পণ্য দুটির দামও রয়েছে সাধ্যের মধ্যেই। ঈদ ও পূজায় অত্যাবশ্যকীয় এই মুখরোচক খাবারটি সবার...