1439706950
পেশাদার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা তুলে নিলেও এর অন্যতম আকর্ষণ মোহামেডান এবং আবাহনী মর্যাদার লড়াই অনুষ্ঠিত হবে আজ রবিবার। দেশের বিপুল সংখ্যক সমর্থকধন্য ঐতিহ্যবাহী বড় দল দুটির শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে গেছে আগেই। এখন মোহামেডান আবাহনী লিগ রানার্সআপ হবে কিনা সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুদলের মধ্যকার পেশাদার লিগের ফিরতি খেলাটি শুরু হওয়ার আগে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং রহমতগঞ্জ মুখোমুখি হবে। শেখ রাসেল জিতলে তাদের লিগ রানার্সআপ নিশ্চিত। তাতে মোহামেডান আবাহনীর লিগ রানার্সআপ হওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়ে যাবে। শেখ রাসেল রহমতগঞ্জ ম্যাচে কী হয় সেটা জানতে আজ এক টেবিলে মোহামেডান আবাহনী। ম্যাচটার শুরু থেকে খেলা দেখার জন্য মাঠে থাকবে উভয় দল। দুই শিবিরে একটাই কথা শেখ রাসেলের ম্যাচটা দেখে তারা নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করবে। যদি শেখ রাসেল লিগ রানার্সআপ হয়ে যায় তাহলে মোহামেডান-আবাহনীর আর কোনো চেষ্টা থাকবে না।

লিগে আজ মোহামেডানের শেষ ম্যাচ। ১৯ খেলায় ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে তারা। আবাহনীর বিরুদ্ধে জিতলে ৪০ পয়েন্ট হবে। আর আবাহনী ১৮ খেলায় ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে পঞ্চম স্থানে। মোহামেডানের সাথে খেলা শেষ হওয়ার পরও তাদের হাতে থাকবে আরো এক ম্যাচ। সে খেলায় প্রতিপক্ষ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আজ মোহামেডানকে হারিয়ে শেষ ম্যাচে শেখ জামালকে হারালে আবাহনীর পয়েন্ট হবে ৪০। রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ থাকবে, যদি দিনের শুরুতে শেখ রাসেল হেরে যায়। ১১ দলের লিগে রহমতগঞ্জ ১৯ খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বর স্থানে রয়েছে। তারপরও বলা যায় না রহমতগঞ্জ খুব সহজেই ছেড়ে দেবে শেখ রাসেলকে। এসব নানা সমীকরণে আজ শেখ রাসেল-রহমতগঞ্জ ম্যাচের আগে মোহামেডান আবাহনী সমর্থকরা প্রার্থনা করবে জিতুক রহমতগঞ্জ, হেরে যাক শেখ রাসেল। তাতে নিজেদের ভাগ্য খুলতেও পারে।

কিন্তু এমন পরিস্থিতি হলো কেন? যেখানে দুই চিরশত্রুর লড়াইয়ের আগে নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখিও হওয়ার কথা না। সেখানে তারা মাঠে নামার আগে এক কাতারে বসে অন্যের হার কামনা করবে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায়।

কাল মোহামেডান আবাহনী শিবিরে ম্যাচের আগে যেন আফসোস ঝরছিল, এক-দুইটা ম্যাচ জিতে যদি এগিয়ে থাকা যেতো তাহলে অন্য ম্যাচের হারজিত নিয়ে ভাবতে হতো না। মোহামেডান কোচ কাজী জোসিম উদ্দিন জোসী রাখঢাক না করে বললেন, ‘আমি শেখ রাসেল রহমতগঞ্জ ম্যাচের আগে কোনো পরিকল্পনা করতে পারছি না। ম্যাচটা দেখে সিদ্ধান্ত নেবো।’ এতো সব হিসাব-নিকাশের পরও খেলোয়াড়রা বলছেন তাদের কাছে এটা মর্যাদার লড়াই।

২০০২ সাল থেকে এপর্যন্ত কমবেশি মিলিয়ে ২৫টি মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ খেলেছেন আবাহনীর অধিনায়ক প্রাণতোষ কুমার। তার কাছে মর্যাদার লড়াই আজ। কেন অন্য ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে? প্রাণতোষ বলছেন, ‘লিগের প্রথম পর্বে আমরা ভালো খেলেও গোল পাইনি। প্রথম লেগে পিছিয়ে গিয়েছিলাম স্কোরার না থাকায়। আর ফিরতি পর্বে বৃষ্টি-কাদা মাঠে আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’

মোহামেডান অধিনায়ক অরূপ বৈদ্যের কাছে এখন আর পেছনের ইতিহাস দেখে চোখের পানি ফেলে কোনো লাভ নেই। সামনে কি আছে সেটাই তার কাছে মূল্যবান। মর্যাদার লড়াইয়ের পারদ ছড়িয়ে ম্যাচটা জিততে পারলে সেটাই হবে অনেক বেশি সান্ত্বনার। মোহামেডান অধিনায়ক অরূপ বৈদ্য এবং আবাহনীর অধিনায়ক প্রাণতোষের একটা মিল আছে। তারা আবাহনীর হয়ে সুপার কাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ২০০৯ সালে। মোহামেডানের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আবাহনী ম্যাচটা ড্র করে ট্রাইব্রেকারে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অধিনায়ক ছিলেন প্রাণতোষ। দু’জনের কাছেই স্মরণীয় ম্যাচ ছিল সেটি। আজ দুই দলের সেনাপতি দুই জন। বাঁচা-মরার ম্যাচ মনে করে নামতে চান অরূপ এবং প্রাণতোষ। লিগের প্রথম পর্বে মোহামেডান ১-০ গোলে হারিয়েছিল আবাহনীকে।

আজকের খেলা
শেখ রাসেল ও রহমতগঞ্জ এবং মোহামেডান ও আবাহনী, ৪টা ১৫ ও ৬টা ৩০, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

হাসন রাজাখেলাধুলা
পেশাদার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা তুলে নিলেও এর অন্যতম আকর্ষণ মোহামেডান এবং আবাহনী মর্যাদার লড়াই অনুষ্ঠিত হবে আজ রবিবার। দেশের বিপুল সংখ্যক সমর্থকধন্য ঐতিহ্যবাহী বড় দল দুটির শিরোপা জয়ের আশা শেষ হয়ে গেছে আগেই। এখন মোহামেডান আবাহনী লিগ রানার্সআপ হবে কিনা সেটা নিয়েও...