sim_163582
গ্রাহক নম্বর অপরিবর্তিত রেখে মোবাইল অপারেটর পরিবর্তনের সুবিধা অর্থাৎ মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি বা এমএনপি চালু করার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। গতকাল রোববার এ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরই এমএনপি চালুর জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করায় এমএনপি চালুর জন্য এখন দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরই বৈঠক করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিংবা আগামী বছরের শুরুতেই এমএনপি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

এমএনপি চালু হলে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা ব্যবহৃত নম্বর অপরিবর্তিত রেখে নির্দিষ্ট হারে ফি দিয়ে যে কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমএনপি চালু রয়েছে।

এর আগে বিটিআরসির ১৭৯তম কমিশন সভায় তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনপি সেবা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে এমএনপি সুবিধা চালুর ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা আহ্বান করলেও কোনো অপারেটরই বিটিআরসির আহ্বানে সাড়া দেয়নি। পরে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গ্রাহকের মতামতের ভিত্তিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এমএনপি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।

ওই সভায় বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) এমএনপি চালু সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৬ মে অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ১৫২তম কমিশন সভায় এমএনপি সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ পর সাত মাসের মধ্যে এমএনপি চালুর নির্দেশ দিয়ে বিটিআরসি নির্দেশনা জারি করে। তবে সে নির্দেশনা মোবাইল ফোন অপারেটররা মানেনি। ২০১৪ সালের ২১ মে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবিরকে সভাপতি করে এমএনপি সুবিধা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। সে বছর ২১ আগস্ট এই কমিটি একটি প্রতিবেদন দেয়, যেখানে এমএনপি চালুর সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা করা হলেও এ ব্যবস্থা কার্যকরে কোনো মডেল উপস্থাপন করা হয়নি।

স্টিয়ারিং কমিটি অসম্পূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ায় ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ১৭২তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়েবসাইট এবং একাধিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে এমএনপি চালুর ব্যাপারে সাধারণ গ্রাহকদের মতামত নেওয়া হয়।

কমিশনের ১৭৯তম সভায় বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনপি সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট গাইডলাইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশোধিত গাইডলাইন পরবর্তী সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। গাইডলাইনে একবার কোনো গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তন করলে কমপক্ষে ৪৫ দিন নম্বরটি ব্যবহারের বাধ্যকতা আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরে এই গাইডলাইন অনুযায়ী এমএনপি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়।

নৃপেন পোদ্দারপ্রথম পাতা
গ্রাহক নম্বর অপরিবর্তিত রেখে মোবাইল অপারেটর পরিবর্তনের সুবিধা অর্থাৎ মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি বা এমএনপি চালু করার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। গতকাল রোববার এ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরই এমএনপি চালুর জন্য ডাক...