বিশেষ প্রতিবেদক ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবন বাজি রেখে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
কিছু নিতে নয়, আমরা দেশকে দিতে এসেছি। দেশের জন্য আমার বাবা-মা, ভাইসহ সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন উন্নত-সমৃদ্ধ হয়, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটে, বিশ্ব দরবারে যেন মর্যাদার সঙ্গে চলে- এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, নিজের জীবনে অর্থ সম্পদ টাকা পয়সা কি আছে না আছে, এ নিয়ে আমি কখনো চিন্তাও করি না। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম সম্প্রতি পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সামপ্রতিক গবেষণা রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, রিপোর্টে সত্ সরকার প্রধান হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। আর কর্মঠ সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আরো বলেন, অনুভূতি এটা আগেও বলেছি এখনো বলব- কি পেলাম, কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আমি আসিনি। কে আমাকে রিকগনাইজড (স্বীকৃতি) করল কি করল না সেই হিসাব আমার নাই। আমার একটাই হিসাব এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কতটুক কাজ করতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে বড়। তিনি বলেন, ধন-সম্পদ চিরদিন থাকে না। মানুষকে মরতে হয়। সব রেখে চলে যেতে হয়। তবু মানুষ অবুঝ হয়ে সম্পদের লোভে অস্থির হয়ে পড়ে। এটা মানুষের একটা প্রবৃত্তি, এই প্রবৃত্তিটা যিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তিনি দেশ ও জনগণকে কিছু দিতে পারেন। এত রাস্তাঘাট, এত বড় বড় প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করছি, দুর্নীতি হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে সেটা আমরা করতে পারতাম না।

শেখ হাসিনা বলেন, এটুকু বলতে পারি- মাথায় (সরকার প্রধান) পচন নেই, যদি শরীরের কোথাও একটু (সরকারের মন্ত্রী) কিছু ঘা থাকে তবে তা আমরা সারিয়ে ফেলতে পারবো। সরকারে ওই রকম দুর্নীতি হলে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের উপরে হতো না। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হতো না। আমরা দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দেশে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ (সামরিক স্বৈরতন্ত্র) চলে, যে দেশে গণতন্ত্রের অভাব থাকে, যে দেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকে- সেই দেশে দুর্নীতিটা শিকড়ে গেড়ে যায়। সেই শিকড় উপড়ে ফেলা কঠিন হয়ে যায়। পঁচাত্তরের পর থেকে ২১টি বছর এই অবস্থাই দেশে বিরাজমান ছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকিনি

এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত ক্ষতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর পথপ্রদর্শক। এ ব্যাপারে তেমন বৈদেশিক সাহায্য না পেলেও আমরা কারোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকিনি। নিজস্ব অর্থায়নে ১৩৫টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাজেটে প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় পক্ষপাতহীন সহযোগিতায় আগ্রহী চীন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা/আরাকানের মুসলমানদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞসহ সব কর্মকাণ্ড পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আখ্যায়িত করে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে জোরপূর্বক বাস্তুুচ্যুত লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় প্রদানের ফলে আমাদের উদ্যোগ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এ সমস্যার উত্পত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় মিয়ানমারকেই এ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। অসহনীয় নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠন ও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে নাগরিক হিসেবে বসবাসের অধিকার এবং নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালানোর ফলে রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে আজ বিশ্ব জনমত গঠিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি খসড়া হস্তান্তর করেছে। এটি নিয়ে দুই দেশই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। এ সময়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ও আলোচনায় পক্ষপাতহীন সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন এবং নভেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে।

১১৭ কোটি টাকার বিশেষ কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম

জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের বন্যায় ফসলের কিছুটা ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যশস্য উত্পাদনে তেমন ঘাটতি হবে না। বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলের ৬টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য ১১৭ কোটি টাকার বিশেষ কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে কৃষি উত্পাদনে অসামান্য সফলতা অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরে দেশে দানাদার খাদ্যশস্য (চাল, গম ও ভুট্টা) উত্পাদিত হয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/340.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/340-300x300.jpgশিশির সমরাটজাতীয়
বিশেষ প্রতিবেদক । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জীবন বাজি রেখে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। কিছু নিতে নয়, আমরা দেশকে দিতে এসেছি। দেশের জন্য আমার বাবা-মা, ভাইসহ সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন উন্নত-সমৃদ্ধ হয়, আর্থ-সামাজিক...