নিজস্ব প্রতিবেদক ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতন তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল। মানুষরূপী জানোয়ারদের রুদ্ররূপ যেমন দেখেছেন, পাশাপাশি দেখেছেন শান্তি ও সত্যের সপক্ষে মানুষের অবিরল ভালোবাসা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
তিনি সবার প্রিয়জন; মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। প্রকৃতিকেই তিনি মানতেন প্রথম ও শেষ আশ্রয়। প্রকৃতির নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি করতেন শিল্পকর্ম। সেই প্রকৃতির কোলেই নিলেন তিনি শেষ আশ্রয়। কিডনি ও হৃদরোগের জটিলতা নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্বামী আহসান উল্লাহ, তিন ছেলে কারু তিতাস, কাজী মহম্মদ নাসের ও কাজী মহম্মদ শাকের তূর্য্য এবং তিন কন্যা রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী, রত্নেশ্বরী প্রিয়দর্শিনী, ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী।

মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে ওই দিন জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর লাশ মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আমৃত্য সংগ্রামী শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করেছেন, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু প্রমুখ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে বাথরুমে পড়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। হাসপাতালে ভর্তি করার পর হার্ট অ্যাটাক হলে তাঁর হৃদযন্ত্রে স্থায়ীভাবে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর ডিসেম্বরের শেষদিকে আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ভর্তি করা হয় ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন আগে তাঁর গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছিল না। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সকালে তাঁকে ল্যাবএইডের সিসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি আর ফেরেননি।

গতকাল বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ নেওয়া হয় বারিধারার পিংক সিটিতে তাঁর বাসায়। সেখানে তাঁকে গোসল করিয়ে রাতে মরদেহ রাখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমঘরে।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর বড় ছেলে শিল্পী কারু তিতাস বলেন, ‘মা দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গতকাল দুপুরে তাঁর একটি ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়। এর কিছু সময় পর আমাদের ছেড়ে চলে যান তিনি। আপনারা তাঁর আত্মার জন্য দোয়া করবেন।’

ল্যাবএইড হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুর রহমান লেনিন জানান, ‘তিন দফায় তিনি ল্যাবএইডে ভর্তি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিএসএমএমইউতে ভর্তি ছিলেন। সর্বশেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে তাঁকে এখানে ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলমের তত্ত্বাবধানে ভর্তি ছিলেন তিনি। গতকাল সকাল পর্যন্ত তিনি কেবিনে ছিলেন। দুপুর ১২টায় তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। পৌনে এক ঘণ্টা চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী বলেন, ‘আমার মা তাঁর চেয়েও বেশি এ দেশকে ভালোবাসতেন। মৃত্যুর আগেও তিনি দেশের কথা বলে গেছেন। এ দেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে তিনি চলে গেলেন।’
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/84.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/03/84-300x300.jpgজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনজাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক । মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতন তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল। মানুষরূপী জানোয়ারদের রুদ্ররূপ যেমন দেখেছেন, পাশাপাশি দেখেছেন শান্তি ও সত্যের সপক্ষে মানুষের অবিরল ভালোবাসা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। তিনি সবার প্রিয়জন; মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। প্রকৃতিকেই তিনি মানতেন প্রথম ও শেষ আশ্রয়। প্রকৃতির...