84687_x1

মীরসরাই উপজেলার ওসমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার। গতকাল পর্যন্ত দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। মাছের প্রকল্প তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে অনেকের লাখ লাখ টাকার মাছ। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষগুলোর নেই খাবারের সন্ধান। কয়েক হাজার মানুষের এই দুর্ভোগে ওদের পাশে আসেনি কেউ।
উপজেলার ৫ নং ওসমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালি ও ৬ নং ইছাখালি ইউনিয়নের সাহেবদীনগর গ্রামের পানিবন্দি পরিবারগুলো গতকাল পর্যন্ত এক সপ্তাহ ধরে দিন কাটাচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে। টানা বৃষ্টিতে এই এলাকার কোন কোন ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে ৩০টিরও অধিক পরিবার। খাল দখল করে বাঁধ দেয়ায় পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে ভেসে গেছে অনেক মৎস্য ঘের। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ভেসে যেতে পারে এই এলাকার অবশিষ্টগুলোও। এর ফলে হুমকিতে পড়বে মাছ চাষ আর পথে বসবে মাছ চাষের ওপর নির্ভরশীল মানুষগুলো।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, অনেক বসতবাড়ির আঙ্গিনায় হাঁটু পানি, মাছের ঘের ডুবে গেছে পানিতে। এলাকার মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে হাঁটু সমান পানিতে। অনেককে ঘরে পানি ওঠায় রাস্তায় এসে বসে থাকতে দেখা যায়।
পানিবন্দি হোসেনুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পানি বসতঘরে উঠে যাওয়ায় এখন রাস্তায় এসে উঠেছি। পানি না নামলে রাস্তায় দিনযাপন করতে হবে। পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাবো এই চিন্তায় এখন আর চোখে ঘুম আসে না। একই অবস্থা তার অপর ভাই নাদেরুজ্জামানেরও। তারাও বসতঘর ছেড়ে রাস্তায় উঠে এসেছে।
বাঁশখালি গ্রামের জলদাশপাড়ার ফুলেশ্বরী জলদাশ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় চুলোয় জ্বলছে না আগুন। ফলে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তিনি বলেন, জলদাশপাড়ার ৭০টি পরিবারের চিত্র একই।
মাছচাষী আনোয়ার সওদাগর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পানিতে ইতিমধ্যে ৩ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। জলাবদ্ধতার এই সমস্যা দূর না হলে আমাদের পথে বসতে হবে। অপর মাছচাষী আলমগীরও জানান একই সমস্যার কথা। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষী হারুন অর রশিদ, নাছির উদ্দিন, নিজাম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্তরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বসতঘরে পানি উঠে পড়ায় ইতিমধ্যে বাড়ি ছেড়েছে অনেক পরিবার। বাঁশখালি গ্রামের দিনমজুর মিয়া খান পার্শ্ববর্তী সোনাগাজী শ্বশুরবাড়িতে ও আলমগীর গিয়ে উঠেছে পাশের গ্রামের বোনের বাড়িতে। আর যে পরিবারগুলো এখনও বসতঘরে আছে তারাও পোহাচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এছাড়া, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে। দুটো পোশাক নিয়ে স্কুলে রওনা দিচ্ছে অনেকে। আর যাদের দুটো নেই ওরা ভেজা পোশাকেই যেতে হবে। গ্রামবাসী আরও জানান, ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকেও এই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতেও বলেছেন। কিন্তু এরপরও গ্রামবাসীরা এখনও পানির নিচে। কেউ দাঁড়ায়নি তাদের পাশে।
এ বিষয়ে মীরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমেদ সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন বিষয়টি আমায় কেউ অবহিত করেনি। তবে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিচ্ছি আমি।
৫ নং ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন- অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি, সরকারি খাল দখল করে বাঁধ তৈরির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে এই সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য দখলদারদের কাছ থেকে খাল দখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

হীরা পান্নাএক্সক্লুসিভ
মীরসরাই উপজেলার ওসমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার। গতকাল পর্যন্ত দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। মাছের প্রকল্প তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে অনেকের লাখ লাখ টাকার মাছ। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষগুলোর নেই খাবারের সন্ধান। কয়েক হাজার মানুষের এই দুর্ভোগে...