1440440825
বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম কিংবা ওয়ার্ড নেই যেখানে ইয়াবা পৌঁছেনি। সহজলভ্য ও বহন করতে সুবিধা হওয়ায় মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ইয়াবা। ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিশোর, তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা এটম বোমার মতোই ভয়ঙ্কর। শিক্ষিত তরুণ সমাজ ধ্বংস করার জন্য ইয়াবার বিস্ফোরণ ঘটছে এদেশে। ইয়াবার আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে না পারলে জাতি অচিরেই বিকলাঙ্গ হয়ে পড়বে বলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ায় মিয়ানমার থেকে ইয়াবার প্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু ইয়াবা প্রবেশ রোধ করা যাচ্ছে না। কারণ, শর্ষের মধ্যেই যে ভূত। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আইনজীবীসহ রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পেশার লোকজনই যে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

মিয়ানমারে সীমান্তবর্তী ৩৭টি কারখানায় উত্পাদিত ইয়াবা ট্যাবলেট কক্সবাজার জেলার অন্তত ৪২টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রশাসন এ প্রবেশ পথগুলো চিহ্নিত করেছে। পুলিশ র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করে। কিন্তু তারা আইনের ফাঁক-ফোকর গলে বের হয়ে ফের ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

এ ৪২টি পয়েন্ট হচ্ছে উখিয়ার ঘুমধুম, বটতলী, বালুখালী ও কুতুপালং, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার নতুন ট্রানজিট ঘাট, জালিয়াপাড়া, সাবরাং বিওপি এলাকার সাবরাং নয়াপাড়া, ৩ ও ৪ নম্বর সুইচ গেট এলাকা ঘোনাপাড়ার, শিকদার পাড়া, হাড়িপাড়া, খুরের মুখ, বীচ রোড, টেকনাফ বিওপি এলাকার আড়াই নম্বর সুইচ গেট, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, হাবিবপাড়া, ডেইলপাড়া, শিলবনিয়াপাড়া, চকবাজার, খানকাপাড়া, ২ নম্বর সুইচ গেট, পুরাতন ট্রানজিট ঘাট এলাকার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কুলালপাড়া, নাইটংপাড়া ও হ্যাচারী খাল, শাহপরীর দ্বীপ।

এছাড়া দমদমিয়া বিওপির বোড়াইতলী, কেরুনতলী, টেকনাফ স্থলবন্দর, ইমিগ্রেশন ঘাট, দমদমিয়া ১৪ নম্বর জাহাজ ঘাট, হাজিরখাল, জাদুমোড়া, জালিয়াঘাট মৌচনি এলাকা, হীলা বিওপির রঙ্গীখালী, আলীখাল, আনোয়ার প্রজেক্ট, নীলা চৌধুরী পাড়া, জালিয়াপাড়া, কাস্টমসঘাট এবং জীম্বখালী বিওপির খারংখালী মগপাড়া, ২, ৩ ও ৪ নম্বর স্লুইচ গেট এলাকা দিয়েও ইয়াবা আসে।

এদিকে, স্থলপথে কড়াকড়ির কারণে মাছ ধরার নৌকায় করে দেশের অভ্যন্তরে ইয়াবা ঢুকছে। টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাশাপাশি এখন ইয়াবার বড় চালান ঢুকছে চট্টগ্রাম, খুলনা, সুন্দরবন, পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন নৌ-রুট দিয়ে।

জানা গেছে, পরের মাথা ওয়াই, নিচের মাথা বাবা, ডব্লিউ ওয়াই পেপসি, সেভেন আপ, চম্পা, গোলাপ, গুটি, দানা, বড়ি ইত্যাদি হল ইয়াবা ট্যাবলেটের বাহারি নাম। যদিও বা গায়ে লেখা থাকে ডব্লিউ ওয়াই বা আর সেভেন। সিগারেট থেকে গাঁজা, হেরোইন, ফেন্সিডিলের পথ ধরে নেশার জগতে এখন শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে ইয়াবা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন ইয়াবার ছড়াছড়ি।

জানা গেছে, নাফ নদীর মিয়ানমার অঞ্চলে রয়েছে ওই ৩৭ কারখানা। ইয়াবার বড় মার্কেট বাংলাদেশ। মিয়ানমারের মানুষ ইয়াবা খাওয়া তো দূরের কথা ধরেও দেখে না বলে জানান একাধিক রোহিঙ্গা। অথচ ইয়াবা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মিয়ানমারের একটি চক্র। ইয়াবার টাকা লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন চিহ্নিত বড় মাপের ব্যাংক গ্রাহক সকালে কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কোটি টাকার চেক জমা দিয়ে হুন্ডির টাকা লেনদেন করছে ব্যাংকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। তবে বড় ধরনের একটা ঝাঁকুনি আমরা দেবো। ইয়াবা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় হুমকির নাম। কেননা এই নেশায় বুঁদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরুণরা।

অর্ণব ভট্টচোরাচালানের খবর
বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম কিংবা ওয়ার্ড নেই যেখানে ইয়াবা পৌঁছেনি। সহজলভ্য ও বহন করতে সুবিধা হওয়ায় মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ইয়াবা। ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিশোর, তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা এটম বোমার মতোই ভয়ঙ্কর। শিক্ষিত তরুণ সমাজ ধ্বংস করার জন্য ইয়াবার বিস্ফোরণ ঘটছে এদেশে। ইয়াবার আগ্রাসন...