1436900910

মাধ্যমিক স্কুলের বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই কেজি দরে রাতের আঁধারে বাজারে বিক্রি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য ও অফিস সহকারী যোগসাজশ করে সরকারি বই ওজন করে বাজারে বিক্রি করেছেন। মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া উচ্চবিদ্যালয়ে এ সরকারি বই কেজি দরে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভাওড়া এলাকায় গেলে ভাওড়া উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ আবুল হোসেন ও এলাকাবাসী বই বিক্রির ঘটনা তুলে ধরেন।

সোমবার এলকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য, কয়েকজন সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারী মিলে গত ৬ জুলাই রাতের আঁধারে পিক-আপ ভ্যানভর্তি করে বিদ্যালয়ের ১২শ কেজি বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই বিক্রি করেছেন। বই কিনেছেন ভাওড়া গ্রামের আদম আলী (৫০) নামে ভাঙ্গারী দোকানদার। রাত তিনটার দিকে গোপনে এই বই বিক্রি করে পাচার করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বই পাচারের সময় ভাওড়া বাজারের পাহারাদার মোঃ মিজান দেখে তিনি ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য আবুল হোসেনকে অবহিত করেন। তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিস, নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান। সরকারি বই বিক্রি করায় এলাকার ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বই বিক্রির প্রায় ২০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

হাবিবুর রহমান হাবিব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ইতিপূর্বে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলআপ, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ও বেতনের টাকা এবং উপবৃত্তির টাকা আত্মসাত্সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিয়য়ে পরে কথা হবে। এখন কিছু বলতে পারব না। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আবু সাইদ ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কিছু পুরনো খাতাপত্র ও উইপোকায় খাওয়া নষ্ট বই ছিল। ম্যানেজিং কমিটির সভায় রেজুলেশন করে তা বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুরনো ও উইপোকায় নষ্ট হওয়া বই ও খাতাপত্র বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে তা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা রাখা হয়েছে। বিনামূল্যের বই বিক্রির কথা তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, সরকারি বই বিক্রির খবর ফাঁস হওয়ার পর একটি বিশেষ মহলের পরামর্শে নিজেদের দোষ আড়াল করার জন্য গোপনে রেজুলেশন খাতায় বিভিন্ন ‘সিদ্ধান্ত’ লেখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন। মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাকির হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুভ সমরাটপ্রথম পাতা
মাধ্যমিক স্কুলের বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই কেজি দরে রাতের আঁধারে বাজারে বিক্রি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্য ও অফিস সহকারী যোগসাজশ করে সরকারি বই ওজন করে বাজারে বিক্রি করেছেন। মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া উচ্চবিদ্যালয়ে এ...