88141_32
জন্মের ২৫ দিন পর স্থায়ীভাবে মায়ের কোলে স্থান পেলো মাগুরার গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া। শিশুকে কোলে পেয়ে প্রশান্তির হাসি হেসেছেন মা নাজমা বেগম। হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন শিশুর পিতা বাচ্চু ভূইঁয়া ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। সুরাইয়ার শারীরিক অবস্থা ভাল হলেও তার ডান চোখ নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসকরা। গুলির কারণে সংক্রমণ হয়েছে চোখে। ওই চোখে ছানি পড়েছে। কিছুদিন পরে তার চোখে অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তার হার্ট নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা নেই এখন। মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সুস্থ হচ্ছে শিশুটি। দু-তিনদিনের মধ্যেই শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে পারেন তার মা-বাবা। রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার কেবিনে মায়ের কোলে তুলে দেয়া হয় সুরাইয়াকে। তার আগ পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে তাকে। তার মা নাজমা বেগম ছিলেন আলাদা কেবিনে। নাজমা বেগম ক্রাইম রিপোার্টার ২৪.কমকে বলেন, সন্তানকে কাছে পেয়ে বুক ভরে গেছে। চিকিৎসকরা ছুটি দিলেই যত দ্রুত সম্ভব বুকের মানিককে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। তিনি জানান, দুপুরে তার কোলে আসার পর থেকেই বেশ হাসিখুশি সুরাইয়া। হাত-পা নাড়াচাড়া করছে খুব। নাজমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসছে সে। পরম মমতায় তাকে বুকের দুধ পান করিয়েছেন নাজমা।
কেবিনের সামনে প্রহরায় রয়েছেন একজন আনসার সদস্য। সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন একজন নার্স। কেবিনের বাইরে দাঁড়ানো সুরাইয়ার পিতা বাচ্চু ভূইঁয়া ক্রাইম রিপোার্টার ২৪.কমকে জানান, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তাকে ভেতরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে শিশুকে তার মায়ের কোলে দেখে আনন্দিত তিনি। জানালেন, সুরাইয়া এখন নিজ থেকেই মায়ের বুকের দুধ পান করছে। তার খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে।
হাসপাতালের সিভিল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনা ক্রাইম রিপোার্টার ২৪.কমকে জানান, শিশুটি মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রায় দেড় মাস আগে জন্মেছে। তার বয়স এখন ২৫ দিন হলেও স্বাভাবিকভাবে এখনও তার জন্ম হওয়ার কথা ছিল না। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম হওয়ার কারণে সুস্থ হতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে শিশুকে। অপরিণত হয়ে জন্ম হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ গ্রাম ওজন কম ছিল শিশুটির। ২৫ দিন বয়সে তার ওজন আড়াই কেজির বেশি হওয়ার কথা। ডা. কানিজ হাসিনা জানান, এখন শিশুটির ওজন ১৯শ’ ৯৫ গ্রাম। অপরিণত বয়সে জন্মানোর কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই বললেই চলে সুরাইয়ার। এজন্য সংক্রমণের আশঙ্কায় কেবিনে তাকে বিশেষভাবে রাখা হয়েছে। মা, নির্দিষ্ট চিকিৎসক এবং নার্স ছাড়া কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না তার সঙ্গে।
শুরুতে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন তার হার্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু এ সমস্যাটি এখন আর নেই বলে জানান ডা. প্রফেসর আবদুল হানিফ। তবে তার ডান চোখ নিয়ে শঙ্কিত তারা। মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় শরীরের পাঁচটি স্থানে গুলির আঘাত ছিল সুরাইয়ার। শিশুটির পিঠ দিয়ে গুলি ঢুকে বুক ও হাতে আঘাত করে ডান চোখের নিচ দিয়ে বের হয়ে গেছে। এতে তার চোখের পাপড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের ওপরে এক ধরনের ছানি পড়েছে। এজন্য অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানান ডা. প্রফেসর আবদুল হানিফ। ইতিমধ্যে ঢামেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফরিদুল হাসানসহ জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটের তিন বিশেষজ্ঞ সুরাইয়ার চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির বয়স আরও কিছুদিন বাড়ার পরে অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের উপযোগী হয়ে উঠলে তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হবে।
রোববার দুপুরে মায়ের কোলে আসার পরই বুকের দুধ পান করেছে সুরাইয়া। তারপর ঘুমিয়ে যায়। পুরো দিনে তিনবার ঘুম থেকে জেগেছে বলে জানান শিশুর না নাজমা বেগম। মায়ের বুকের দুধ ঠিক রাখতে হাসপাতালের রুটিন খাবার ভাত, মাছের সঙ্গে কলা, পাউরুটি, ডিম, বিস্কুট ও দুধ রয়েছে। শিশুর পিতা বাচ্চু ভূইঁয়া ক্রাইম রিপোার্টার ২৪.কমকে জানান, মাঝে মাঝে বাইরে থেকে ফল কিনে নেন তিনি। এখন মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য দিন গুনছেন বাচ্চু। তবে এ ঘটনায় করা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শঙ্কা কাটেনি তার। ক্ষোভ প্রকাশ করে বাচ্চু ভূঁইয়া জানান, যারা তার গর্ভবতী স্ত্রী নাজমাকে গুলি করেছিল ছাত্রলীগের সেই সন্ত্রাসী আলী, আজিবর ও মজিবরকে এখনও গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে উল্টো ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে তাকে। আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে বাড়িতে গেলে তার ওপর হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।
গত ২৩শে জুলাই বিকাল ৪টার দিকে মাগুরায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন নাজমা বেগম। মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই দিনই মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় শিশুটির। ২৬শে জুলাই শিশুকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পরেই গুলিবিদ্ধ কচি শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। ৩০শে জুলাই নাজমা বেগম ঢাকায় এসে একই হাসপাতালে ভর্তি হন। শিশুর নাম না রাখায় ‘বেবি অব নাজমা’ হিসেবেই ডাক্তাররা খাতায় লিখেছিলেন। কেউ কেউ ‘বুলেট কন্যা’ ডাকতেন। পরে ওই দিনই সবার সামনে বড় মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে মিল রেখে শিশুর পিতা বাচ্চু তার নাম রাখেন সুরাইয়া।

তুনতুন হাসানএক্সক্লুসিভ
জন্মের ২৫ দিন পর স্থায়ীভাবে মায়ের কোলে স্থান পেলো মাগুরার গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া। শিশুকে কোলে পেয়ে প্রশান্তির হাসি হেসেছেন মা নাজমা বেগম। হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন শিশুর পিতা বাচ্চু ভূইঁয়া ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। সুরাইয়ার শারীরিক অবস্থা ভাল হলেও তার ডান চোখ নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসকরা। গুলির কারণে সংক্রমণ হয়েছে চোখে। ওই চোখে...