1_104604
১৮ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে মাগুরার এক স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই মৃত ব্যক্তির নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সদর উপজেলার আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আব্দুর রউফ বিশ্বাস নামে স্কুলটির এক এমএলএসএসকে নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু ফরিদপুরের গয়েশপুর গ্রামের তালেব বিশ্বাসের ছেলে রউফ ১৯৯৭ সালে মারা গেছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

তাহলে কেন এই নোটিশ?

উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, রউফ মারা গেলেও তার নাম নিয়ে বিদ্যালয়টিতে চাকরি করে যাচ্ছেন পুখুরিয়া গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে আকবর হোসেন। আর অভিযোগটি আসলে তারই বিরুদ্ধে।

কিন্তু বিদ্যালয়ের কাগজপত্রে আকবর নামে কেউ না থাকায় নোটিসটি গেছে রউফের নামেই।

রউফ-আকবরের এই বিভ্রান্তিতে ওই বিদ্যালয়টিতে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শামসুর রহমান মোল্যা বলেন, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবদুল গফুর বিশ্বাস দায়িত্ব পালনের সময় ১৯৭৪ সালের ১ মে তার ছোট ভাই রউফ বিশ্বাসকে এমএলএসএস পদে চাকরি দিয়েছিলেন। কিন্তু রউফ কখনও বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। তবে তার নামে বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হত।

গফুর বিশ্বাস চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮২ সালে মারা যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন গোলজার হোসেন। রউফ তখনও এই বিদ্যালয়ে আসতেন না। কিন্তু বেতন-ভাতা ঠিকই তোলা হত।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে রউফ মারা গেলে তার পদটি শূন্য ঘোষণা না করে আকবরকে ডেকে পিয়ন হিসেবে তার ‘প্রক্সি’ দিতে বলা হয়। সেই থেকে রউফ সেজে আকবরই চাকরি করে আসছেন।

এর পেছনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে বলে অভিযোগ।

জানতে চাইলে আকবর অবশ্য নিজেকে ‘রউফ’ বলেই দাবি করেন।

তবে আবুল হোসেন নামে রউফের এক স্বজন বলেন, চার চাচাই ওই চাকরিতে ছিলেন এবং ১৮ বছর আগে তিনি মারা যান।

এসব বিষয়ে আকবরের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোলজার স্যার আমাকে কাজের সুযোগ দিয়েছেন। কাজ করছি, মাস গেলে বেতন পাচ্ছি। আর কিছু জানি না।

সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলজার হোসেন বলেন, ”আমার সময়ে ওই পদে রউফ বা আকবর কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমন দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক অসিত শিকদার বলেন, ”মেয়েটির বাবার মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শোকজ করা হয়েছে পিয়নকে।”

তাকে কেউ কেউ আকবর নামে ডাকলেও প্রকৃত নাম আব্দুর রউফ বিশ্বাস বলেই সবাই জানেন বলে দাবি করেন তিনি।

তাহসিনা সুলতানাশেষের পাতা
১৮ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে মাগুরার এক স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওই মৃত ব্যক্তির নামে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সদর উপজেলার আলোকদিয়া পুখরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আব্দুর রউফ বিশ্বাস নামে স্কুলটির এক এমএলএসএসকে...