6
অনলাইন ডেস্ক ।
মশা বাহিত নানা রোগের ঝুঁকির মুখে রয়েছে প্রায় সব মানুষই। মানুষের ইতিহাসে যুগে যুগে এ রোগগুলো ব্যাপক আক্রমণ করেছে এবং বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এক্ষেত্রে অতীতে যেসব রোগ ছিল এখন সে রোগগুলো কিছুটা পাল্টে গেছে কেবল। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
অতীতে যেমন ইয়োলো ফিবার, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ অসংখ্য জীবনহানির জন্য দায়ী তেমন এখন জিকা ভাইরাসের হুমকি নতুন করে সে ধরনের কথাকেই স্মরণ করে দিচ্ছে।
জানা যায়, মশা বাহিত রোগের কারণে পানামা খাল নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আর পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সেই কাজ হস্তগত করে।
মশাবাহিত কয়েকটি রোগ-
১. ডেঙ্গু : মশার কামড়ের মাধ্যমে দেহে সংক্রমিত হতে পারে ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস। এ রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা (মাথার সামনের অংশে), চোখের পেছনে ব্যথা, মাংসপেশিতে ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা। এ ছাড়া র‌্যাশ, বমি-বমি ভাব, বিতৃষ্ণাবোধ ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
২. ম্যালেরিয়া : কয়েক ধরনের ম্যালেরিয়ার মধ্যে পি ফ্যালসিপ্যারাম সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এটি মস্তিষ্কে আক্রমণ করে এবং রোগী প্রায়ই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এ ধরনের ম্যালেরিয়ায় বর্তমানে প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগটি নিরাময়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৩. এনসেফালাইটিস : এ রোগটি ‘জাপানি এনসেফালাইটিস’ নামে পরিচিত। এ রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী মশা বাড়ির চারপাশের জলাভূমি ও স্থির পানিতে হয়। মানবদেহে সংক্রমণের পর রোগটি কেন্দ্রীয় নার্ভাস সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডে রোগটি বাসা বাঁধে। এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে বহু লোকই মারা যায়। এ ছাড়া মারাত্মক মস্তিষ্কের ক্ষতি ও প্যারালাইসিসের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয় বহু মানুষ।
৪. চিকুনগুনিয়া : এডিস এইজিপটি মশার আক্রমণে চিকুনগুনিয়া নামের একটি রোগ হয়। এ রোগের জন্য দায়ী মশা ডেঙ্গু রোগও বহন করতে পারে। এ রোগের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, জ্বর, উদ্যমহীনতা, বমিভাব, মাংসপেশি ব্যথা ও অস্থিসন্ধি ব্যথা। তবে রোগটি দীর্ঘায়িত হলে সংক্রমণও হতে পারে। রোগটির আফ্রিকায় উৎপত্তি। এ রোগটির কোনো প্রতিষেধক নেই।
৫. লিমফেটিক ফাইলেরিয়াসিস : লিমফেটিক ফাইলেরিয়াসিস রোগটি ফাইলেরিয়া ধরনের একটি রোগ। এটি একটি মারাত্মক ইনফেকশন, যার প্রভাবে মানুষের পা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক গুণ ভারী হয়ে ওঠে।
৬. জিকা : জিকা রোগের আক্রমণে মানুষের তেমন ক্ষতি হয় না। তবে গর্ভবতী নারী এ রোগে আক্রান্ত হলে তাদের বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মশা কামড়ানোর দুই থেকে সাত দিন পর এ রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এ রোগের লক্ষণ হলো মাথাব্যথা, হালকা জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, লাল চোখ, ত্বকে র‌্যাশ, বমি, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা ইত্যাদি।
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয়
মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে মশাবাহিত রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। এজন্য কয়েকটি করণীয়-
১. বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
২. জমে থাকা নালা-নর্দমার পানি, ফুলের টবে জমে থাকা পানি, বাসার ছাদে জমে থাকা পানি ইত্যাদি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ। এসব স্থান সম্পর্কে সাবধান থাকুন।
৩. নিয়মিত মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
৪. বাড়ির ভেতর মশা যেন ঢুকতে না পারে সেজন্য দরজা-জানালায় নেট লাগানো যেতে পারে।
৫. কেউ যদি ডেঙ্গু বা অন্য কোনো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে অতিদ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
৬. মশা মারার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৭. ময়লা ফেলার ট্র্রাশ বিন ঢাকা দিয়ে রাখুন।
৮. পশু-পাখিকে দেওয়া খাবারের প্লেটে যেন মশা-মাছি বংশবিস্তার না করে সেজন্য খেয়াল রাখুন।
৯. যে কোনো পাত্রে পানি যেন জমতে না পারে সেজন্য তা উল্টে রাখুন।
১০. বাড়ির পুকুর ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখুন।
১১. বাড়িতে কোনো পরিত্যক্ত টায়ার থাকলে তাতে ফুটো করে দিন যেন কোনো পানি জমতে না পারে। টায়ারের জমা পানিতে মারাত্মক রোগ বিস্তারকারী মশা বংশবৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
সূত্র : ফক্স নিউজ।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/08/646.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2016/08/646.jpgনৃপেন পোদ্দারস্বাস্থ্য কথা
অনলাইন ডেস্ক । মশা বাহিত নানা রোগের ঝুঁকির মুখে রয়েছে প্রায় সব মানুষই। মানুষের ইতিহাসে যুগে যুগে এ রোগগুলো ব্যাপক আক্রমণ করেছে এবং বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এক্ষেত্রে অতীতে যেসব রোগ ছিল এখন সে রোগগুলো কিছুটা পাল্টে গেছে কেবল। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। অতীতে যেমন ইয়োলো ফিবার,...