1442056024
ব্যঙ্গ করা ও রম্য-ব্যঙ্গ লেখা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে অত্যন্ত তীক্ষ্ম ও সফল এবং আন্দোলনকারীদের কাছে জনপ্রিয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র ওপর বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্লোগান-প্ল্যাকার্ডের মাঝে ‘মন পাবি, দেহ পাবি, তবু ভ্যাট পাবি না’ এমন একটি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ঘুরছে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে। বিভিন্ন মহলে এর প্রশংসা করতে দেখা গেছে আবার কেউ কেউ এর সমালোচনাও করছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে এ নিয়ে কথা বলেছেন অনেকে।

এমতাবস্থায় ওই প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ানো এবং ওই প্ল্যাকার্ডের স্লোগানে ঠিক কী বুঝিয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা দিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বাঁধন। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন যে তিনি সাবেক ইস্ট ওয়েস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থী নন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতেই সেখানে গিয়েছিলেন।
‘মন পাবি, দেহ পাবি, তবু ভ্যাট পাবি না’ প্ল্যাকার্ডের ব্যাখ্যা
তিনি ফেসবুক ওয়ালে নিজের পোস্টে স্লোগানের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ”যদি সরকার আমাদের কথা মানে তাহলে আমরা সরকারের উপর খুব হ্যাপি হবো (মন পাবি)। যদি পুলিশ দিয়ে গুলি করতে চায় তাও রেডি আছি (দেহ পাবি), কিন্তু কোনো ভ্যাট নয়।”

তিনি আরও লিখেছেন, ”এই সিম্পল কথাটা না বুঝে যারা উল্টা-পাল্টা কমেন্ট করছে তাদের কিছু বলার নেই আমার। অন্যদের শ্রদ্ধা করলেই কেবল আপনি কারো কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে পারেন।”

বাঁধন তার ফেসবুকে আরেক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ”আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্টেরও সাবেক শিক্ষার্থী। বেশ ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে বেশ ভালো একটি পদে কর্মরত আছি। কাল ইউআইটিএস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই প্ল্যাকার্ডসহ ছবিটা তুলেছিলাম। তারপর বসুন্ধরা গেটে গিয়ে বসেছি। আরো অনেক প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ছবি তুলেছি, কিন্তু কোনোটাই আমার নিজের (প্ল্যাকার্ড) না। এই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে কারণ আমি মেয়ে এবং লেম মেন্টালিটির কিছু মানুষ আছে। এই প্ল্যাকার্ডের লেখাটা ফানি (মিনিংলেস না, কিন্তু সেটা বোঝার ক্ষমতা সবার নেই)। আমি মেয়ে বলে আসলে আমার প্ল্যাকার্ড ধরা ঠিক হয়নি, ঘরে বসে অন্যরা কে কি করলো সেটা দেখে চুলকানো ঠিক ছিল, তাই না? আমি নিজেকে মানুষ ভাবতে পছন্দ করি, নিজেকে সেভাবেই ট্রিট করি।”
প্ল্যাকার্ডের এ স্লোগানের প্রশংসায় শিক্ষক নাসরিন খন্দকার লিখেছেন, ‘মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন অর্থহীন ক্লিশে ভাষা আর ‘এক কাপ চা হয়ে যাক’ মার্কা পুতুপুতু সুশীল ভাষা থেকে বের হয়ে আন্দোলনের, প্রতিবাদের ভাষাকে চলতি জীবনের সাথে, হাস্যরসের সাথে ব্যবহার দেখে আমি মুগ্ধ, অনুপ্রাণিত। কতো কিছু যে শেখার আছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে! এই সাহসিকতার প্রতি স্যালুট।’

সুব্রত সরকার লিখেছেন, “I don’t need sex because the government fucks me everyday” বিখ্যাত প্ল্যাকার্ডটার কথা আর একবার মনে করায় দিতে চাই যেটা এক সময় এতো বিখ্যাত হয়েছে যে ইউরোপ-আমেরিকার প্রায় সব সরকার বিরোধী আন্দোলনে এই প্ল্যাকার্ড দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তিতে টিশার্টেও পরিণত হয়। ফেসবুকে এই নামে পেজ আছে।
আমি সাজেস্ট করছি ‘মন পাবি, দেহ পাবি, ভ্যাট পাবি না’ স্লোগানটা ভাইর‌্যাল হোক। টিশার্ট হোক। ফেসবুকে পেজ হোক। টুইট হোক।’

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
ব্যঙ্গ করা ও রম্য-ব্যঙ্গ লেখা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে অত্যন্ত তীক্ষ্ম ও সফল এবং আন্দোলনকারীদের কাছে জনপ্রিয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি'র ওপর বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্লোগান-প্ল্যাকার্ডের মাঝে 'মন পাবি, দেহ পাবি, তবু ভ্যাট পাবি না' এমন একটি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড ঘুরছে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে।...