85980_x1
ঘড়ির কাঁটা ১২টা স্পর্শ করতেই আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে উঠলো মশালডাঙ্গা। আনন্দে যেন ফেটে পড়লেন ৬৮ বছর শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া ৫১ হাজার মানুষ। এ সময় তারা নেচে গেয়ে মুক্ত জীবনের আনন্দ উপভোগ করেন। সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ছিটমহলের বিলুপ্তির পর নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া এসব মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। শুক্র ও শনিবারের মিলনক্ষম রাত ১২টায় তাই প্রজা্বলিত মশাল ও মোমবাতি হাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এসব মানুষ। তাদের চোখেমুখে নতুন আশার আলো- এখন তারা সব অধিকার পাবেন। একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যেসব অধিকার মানুষের আছে তারা তার সবটুকুই প্রত্যাশা করছেন। সরকারও তাদেরকে আশ্বস্ত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় অবস্থিত সাবেক মশালডাঙ্গা ছিটমহল। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি সেখানেই আয়োজন করেছিল এই আনন্দ উৎসবের। গত ৬৮টি বছর এসব ছিটের অধিবাসীরা ছিলেন রাষ্ট্রহীন। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রজ্বালন করা হয় ৬৮টি মোমবাতি। এর পাশাপাশি তাদের নাগরিকত্বের পক্ষে যে সংগ্রাম হয়েছে এতদিন তার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সীমান্তের দু’পাশেই সাবেক সব ছিটমহলে উড়ানো হয়েছে জাতীয় পতাকা। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালামের মৃত্যুতে ভারতজুড়ে চলছে শোক। তাই ভারতীয় অংশে তিন রঙা জাতীয় পতাকা রাখা হয়েছে অর্ধনমিত। নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষগুলো দীর্ঘ দিন বঞ্চনায় কাটিয়েছেন। এখন তাদের মাঝে অন্য রকম এক আনন্দের ঝিলিক। ভারতীয় ভূখণ্ডে ৫১টি বাংলাদেশী ছিটমহলে বসবাস করছিলেন প্রায় ১৪০০০ মানুষ। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে বসবাস করছিলেন আরও ৩৭০০০ মানুষ। তাদের কোন পরিচয় ছিল না এত দিন। তারা কোন দেশের নাগরিক তার কোন সংজ্ঞা ছিল না। ছিল না কোন মৌলিক অধিকার। এখন তাদের পরিচয় আছে। তাদের দেশ আছে। নাগরিকত্ব আছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার পাওয়ার জায়গা আছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের জন্য ২০১৫ সালের ৩১শে জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন। স্বাধীনতার পর থেকে যে সমস্যা এতদিন ধরে বিদ্যমান ছিল তা সমাধানের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে দিনটি। এ দিনটি সেই দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যেদিন দু’পাশের ছিটমহলের অধিবাসীরা বাংলাদেশ বা ভারতের নাগরিক হিসেবে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তারা সরকারি চাকরি পাবেন। শিক্ষা পাবেন। স্বাস্থ্য সেবা পাবেন। পাবেন নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সুবিধা। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের চুক্তির অধীনে ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালের প্রটোকল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্ণব ভট্টএক্সক্লুসিভ
ঘড়ির কাঁটা ১২টা স্পর্শ করতেই আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে উঠলো মশালডাঙ্গা। আনন্দে যেন ফেটে পড়লেন ৬৮ বছর শৃঙ্খলিত জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া ৫১ হাজার মানুষ। এ সময় তারা নেচে গেয়ে মুক্ত জীবনের আনন্দ উপভোগ করেন। সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ছিটমহলের বিলুপ্তির পর নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া এসব মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন...