85658_thumb_f8
বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রবাসীর স্ত্রীরাই ছিল তার টার্গেট। অনেকক্ষেত্রে আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত মধ্যবয়সী নারীদেরও টার্গেট করতো সে। প্রথমে নিজের ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যোগ করতো তাদের। পরে টার্গেট করে করে বিভিন্ন কৌশলে জেনে নিতো তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে। এমনকি তাদের প্রিয়জন সম্পর্কে খোঁজ নিতো। তারপরই হ্যাক করা হতো টার্গেটকৃত নারীর ফেসবুক আইডি। হ্যাক করে হাতিয়ে নেয়া হতো ওই নারীর গোপন তথ্য ও ছবি। যা দিয়েই পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইতো সে। এরকম শতাধিক নারীর আইডি হ্যাক করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছে সে। বিকৃত রুচির এই হ্যাকারের নাম মাহমুদুল হাসান। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র সে। গতকাল রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ বিষয়ে গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদুল হাসান জানিয়েছে, সে ফিশিং কী লগার প্রোগ্রাম এবং সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে থাকে। ফেসবুক হ্যাক হওয়ার পর ওই নারী নতুন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুললেই হ্যাক হওয়া ফেসবুক থেকে বার্তা পাঠিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিতো মাহমুদুল। প্রস্তাবে রাজি না হলে ছবিগুলো ফেসবুকসহ সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার হুমকি দিতো। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোরও চেষ্টা করতো বলেও ডিবির কাছে স্বীকার করেছে সে। এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই বিকৃত রুচির যুবক বিবাহিতা এবং স্বামী বিদেশে থাকেন এমন নারীদের অ্যাকাউন্টকেই টার্গেট করে হ্যাক করতো। এ পর্যন্ত শতাধিক নারীর ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাক করেছে সে। এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে সংরক্ষিত করে রেখেছে।
মনিরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় এক ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১লা জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন তিনি। এর আগে গত ২৯শে মে ওই নারীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মাহমুদুল হাসান। এরপর ওই নারী নতুন একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। গত ২৯শে জুন কামাল আহমেদ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই নারীর নতুন অ্যাকাউন্টে যৌন-নিপীড়নমূলক বার্তা ও ছবি পাঠানো হয়। ওই নারীর একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাককারীর দখলে রয়েছে বলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তায় জানানো হয়। এসব জানিয়ে কামাল আহমেদ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই নারীকে অনৈতিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয় মাহমুদুল। প্রস্তাবে রাজি না হলে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার হুমকি দেয় সে। এ ঘটনার পরই ওই নারীর স্বামী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন। সে এ পর্যন্ত কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে কি-না তা জানার জন্য তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার কারণে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে ভাল জ্ঞানার্জন করেছে মাহমুদুল হাসান। তবে এসব ভাল কাজে ব্যবহার না করে খারাপ কাজে ব্যয় করছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন নামে তার একাধিক ফেসবুক একাউন্টের তথ্য পেয়েছে। এসব একাউন্টের ফ্রেন্ডলিস্ট তালিকার বেশিরভাগই নারী। ব্ল্যাকমেইল করার জন্য সে বেছে বেছে নারীদেরই ফ্রেন্ডলিস্টে যোগ করতো।

তাহসিনা সুলতানাশেষের পাতা
বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং প্রবাসীর স্ত্রীরাই ছিল তার টার্গেট। অনেকক্ষেত্রে আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত মধ্যবয়সী নারীদেরও টার্গেট করতো সে। প্রথমে নিজের ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যোগ করতো তাদের। পরে টার্গেট করে করে বিভিন্ন কৌশলে জেনে নিতো তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে। এমনকি তাদের প্রিয়জন সম্পর্কে খোঁজ নিতো। তারপরই হ্যাক করা হতো টার্গেটকৃত...