আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণত তেমন একটা উত্তাপ চোখে পড়ে না। ভোটের হারও হয় কম।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
পরিবর্তন হয় না প্রেসিডেন্ট পদেও। প্রভাব পড়ে কেবল কংগ্রেসের দুই কক্ষে। তবে এবার অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য এবং পদক্ষেপ রাজনীতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরেও বাড়তি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। নির্বাচনে চোখ রাখছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন না হলেও, এই নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে পরিষ্কার করবে। কংগ্রেসে ডেমোক্রেটরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যে তা সমূহ বিপদের কারণ হিসেবে দেখছেন অ্যাটর্নি শেখ সেলিম। তিনি বলেন, হাউজ বা প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটদের বিজয়ের সম্ভাবনাই আমি দেখছি। বিভিন্ন জরিপও তেমন কথাই বলছে। তবে সিনেটে কঠিন লড়াই হলেও, নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে। কারণ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যের মেয়াদ দুই বছর। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে এবার ৩৫টিতে ভোট হবে। সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচন হবে। প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে এই ভোটগ্রহণ হয়ে থাকে।

বর্তমানে হাউজ বা প্রতিনিধি পরিষদের ২৩৫টি আসনই রিপাবলিকানদের দখলে।

ডেমোক্রেটদের রয়েছে ১৯৩টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদেরকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হবে। অন্যদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ৫১টি এবং ডেমোক্রেটদের রয়েছে ৪৯টি আসন। বিভিন্ন জরিপ নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের জয়ের সম্ভবনাকেই এগিয়ে রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজি সাহিদ হাসান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেটদের প্রাধান্য বিস্তার করতে ২৩ আসন উল্টে যেতে হবে। এটা সম্ভব হতে পারে। কেননা হাউজ সদস্য হয় জনসংখ্যা অনুপাতে। তিনি অংক কষে দেখান এমনও রাজ্য রয়েছে যেখানে হাউজের জন্যে মাত্র একটি আসন। কিন্তু সিনেটের বিষয়টি ভিন্ন। অনেকটা ইলেকটোরাল কলেজের মতো। রাজ্য যত ছোট কিংবা বড়ই হোক, সবগুলোতেই দুটি করে পদ। ফলে রিপাবলিকান অধ্যুষিত ছোট রাজ্যগুলোও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। তাই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের নিয়ে নেওয়া অত সহজ হবে না বলেই মনে করেন তিনি।

গত নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের পপুলার ভোট বেশি পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, এরপরও নির্বাচনে হিলারি হেরে যান, কেবল মাত্র ইলেকটরাল কলেজ ভোটের কারণে। কাজি সাহিদ হাসান বলেন, ২০৪৪ সালে আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘু হয়ে যেতে পারে, এমন শংকার কারণে এই নির্বাচনেও সাদারা বেশি সংখ্যায় ভোট দেবে।

আর সেই ভোটও রিপাবলিকানদের পক্ষে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিভিন্ন জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পিছিয়ে থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্র্যাডলি ইফেক্ট বলে একটি বিষয় আছে। যার কারণে জরিপ সব সময় সঠিক কথা বলে না।

যদিও অভিবাসন ইস্যু, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দেওয়া বক্তব্য, দেশের অভ্যন্তরে বিভক্তি তৈরির অভিযোগ, গণমাধ্যমের প্রতি আক্রমণ এবং সবশেষ পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরে ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যে বিরূপ প্রভাবের আশংকাই করছেন বিশ্লেষকরা। আর ডেমোক্রেটদের বিজয় হলে, তা হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যে গভীর শংকার কারণ। সে ক্ষেত্রে কেউ কেউ তার অভিসংশনের ঝুঁকিও দেখছেন।

আর অভিবাসন ইস্যুটিকে সামনে রেখে, বেশির ভাগ বাংলাদেশিই ডেমোক্রেটদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন অ্যাটর্নি শেখ সেলিম। তিনি মনে করেন, আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় বাংলাদেশি আমেরিকান এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/11/102.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/11/102-300x254.jpgশিশির সমরাটআন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক । যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণত তেমন একটা উত্তাপ চোখে পড়ে না। ভোটের হারও হয় কম। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। পরিবর্তন হয় না প্রেসিডেন্ট পদেও। প্রভাব পড়ে কেবল কংগ্রেসের দুই কক্ষে। তবে এবার অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য এবং পদক্ষেপ রাজনীতিকে এমন...