93900_f2
বাস, ট্রেন ও লঞ্চে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। বৃষ্টির কারণে গতকাল মহাসড়কগুলোতে ছিল অতিরিক্ত যানজট। এছাড়া, অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো স্টেশনে না পৌঁছায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রেন ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে। তবে, আজ ভিড় বাড়বে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে নাড়ির টানে মানুষ ঢাকার বাইরে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে আসছে রাজধানী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রী ফিরোজ মিয়া অভিযোগ করে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, রাজশাহী এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল ১১টা ২০ মিনিটে। কিন্তু ২ ঘণ্টা দেরি করে ছেড়েছে। বিলম্ব ও বিড়ম্বনা হলেও বাড়ি যেতে পেরে খুশি তিনি। সকালে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা ছিল ৬টা ২০ মিনিটে। কিন্তু ৫০ মিনিট দেরিতে তা ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন খান। অনেক যাত্রী আগাম ট্রেনের টিকিট কাটতে পারলেও কেউ কেউ আবার গতকাল স্টেশনে এসে তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) টিকিট করে বাড়ি যাচ্ছিলেন ট্রেনে। এমনই দুই যাত্রী রেজাউল ও আলমগীর হোসেন। তারা দুজনই রাজশাহীগামী সিল্কসিটির টিকিট কেটে কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছেন ট্রেনের জন্য। ২টা ৪০ মিনিটে তাদের ট্রেন। আলাপকালে তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কষ্ট হলেও পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতেই বাড়ি যাচ্ছেন। স্টেশনে আসতে পথে নানা ভোগান্তি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালে অগ্রিম টিকিট কিনেও বাসের জন্য বসে ছিলেন যাত্রীরা। সমস্যা হতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট সময়ের আগে টার্মিনালে আসেন তারা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলছে না। যদিও যানজট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে বাস পৌঁছাতে পারেনি- এমন দাবি বাস কর্মচারীদের। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন অগ্রিম টিকিট কেনা যাত্রীরা। যাত্রী সিরাজ উদ্দিন মিয়া ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পরিবহনের লোকজন বলছে যানজটের কারণে গাড়ি দেরিতে ঢাকায় পৌঁছেছে। অধিকাংশ দূরপাল্লার পরিবহন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। টিকিট কাউন্টার মাস্টার বলেন, বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানজট লেগে আছে। এছাড়া ফেরি পারাপারে সময় নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে সকাল থেকেই আস্তে আস্তে সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবার পরিজন নিয়ে লঞ্চযাত্রীরা আগেভাগেই ঘাটে পৌঁছান। কাঙিক্ষত লঞ্চের অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করেন টার্মিনালে। বরিশালগামী যাত্রী মিলন হালদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ঈদের সময় বাড়ি যেতে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। তারপরেও বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদে বাড়ি থাকলে আনন্দের কমতি থাকে না। ঘাটে কোন লঞ্চ না পেয়ে যাত্রীরা পন্টুন থেকে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নোঙর করে রাখা লঞ্চে উঠেন। পন্টুনে আসার আগেই নদীর মাঝখানেই লঞ্চগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

অর্ণব ভট্টশেষের পাতা
বাস, ট্রেন ও লঞ্চে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। বৃষ্টির কারণে গতকাল মহাসড়কগুলোতে ছিল অতিরিক্ত যানজট। এছাড়া, অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো স্টেশনে না পৌঁছায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি ট্রেন ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে...