APORADHER DAYRE THEKE
এক বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভুয়া জামিননামা দেখিয়ে কারাগার থেকে অবৈধভাবে বের করে আনা হয়েছে ১১০ জন চিহ্নিত দাগি আসামিকে। তাদের নাম-ঠিকানা এখন দুদকের হাতে। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত দ্বিতীয় দায়রা জজ শামসুন্নাহারের স্বাক্ষর জাল করা হয়। ৭৭টি মামলার ভুয়া জামিননামা তৈরি করে সেগুলো কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করে সুকৌশলে ছাড়িয়ে আনা হয় আসামিদের। এর বিনিময়ে আসামিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ওই বিচারকের এজলাসের পেশকার মোসলেউদ্দিন ও পিয়ন শেখ নাঈম এবং অপর একটি আদালতের উমেদার ইসমাইল জালিয়াতি করে ওইসব জামিননামা তৈরি করেন। আদালতে এ তিনজনই ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত দ্বিতীয়
দায়রা জজ শামসুন্নাহারের স্বাক্ষর জাল করে শতাধিক আসামিকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। উমেদার ইসমাইল গতকাল বুধবার জালিয়াতির কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বাকি দু’জন আগেই স্বীকার করেন। দুদকের তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগির আদালতে চার্জশিট পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে দাগি আসামিদের মুক্ত করে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির উবায়দুল করিম আকন্দ বাদী হয়ে পেশকার মোসলেউদ্দিন ও পিয়ন শেখ নাঈমকে আসামি করে চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। তদন্তে উমেদার ইসমাইলের নামও চলে আসে। এই তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো ভুয়া জামিনামাগুলোতে বিচারক, জামিনদার এবং আইনজীবীদেরও সিল-স্বাক্ষর ছিল। দুদকের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তদন্তে ইতিমধ্যে বিচারকের স্বাক্ষর জাল বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা। তবে আইনজীবীদের স্বাক্ষর-সিল জাল কি-না তা এখনও তদন্ত করা হয়নি। তদন্তের এক পর্যায়ে আইনজীবীদের স্বাক্ষরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে তারা জানান। কারাগার কর্তৃপক্ষ আদালতের জামিন আদেশ পরীক্ষা ছাড়াই সরল বিশ্বাসে আসামিদের ছেড়ে দিয়েছে। বেরিয়ে যাওয়া এসব দাগি আসামি এখন লাপাত্তা।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রতিটি মামলার জামিনের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে কম-বেশি ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী ৭৭ মামলায় জামিন দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই পেশকার, উমেদার ও পিয়ন।

আসামিদের নাম :ভুয়া জামিনে বেরিয়ে যাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা ছিল। তারা সবাই দাগি আসামি। কেউ সন্ত্রাসী, কেউ মাদক ব্যবসায়ী। ১১০ আসামির নাম_ কুমিল্লার দাউদকান্দির নারিকেলতলা গ্রামের আজহারুল আলম, খিলক্ষেতের ডুমান ইউনিয়নের আকবর হোসেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সোনাগান্দি গ্রামের রহিম, পল্লবী থানার চাকুলির সোহেল খাঁ, ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের আবদুল হাই, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর গাংয়ের পাশের মোল্লা বাড়ির বাবুল ওরফে বাবু, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার গোলবাগের মো. মানিক, গেণ্ডারিয়ার এ কে দাস রোডের শাহিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ সদরের কেওঢালার মোহনা আকতার, হাবিব উল্লাহ হাবিব, খিলক্ষেতের কনকর্ড লেকসিটির ‘বাসন্তী’ ভবনের ৩নং ফ্ল্যাটের কাজী বারবার শরীফ মিথুন, পাকিস্তানের করাচির পাকিস্তান বাজারের গুলবিহারের ৭নং গলির পারভীন, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার বাহালপুর গ্রামের শেখবাড়ির মো. রাজু, নেত্রকোনা সদরের কাঞ্চনপুরের খায়রুল আলম, শেরপুর সদরের চান্দানগরের খোরশেদ আলম, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের সাগর মিয়া, পিরোজপুর সদরের বারৈকাঠির জাফর খান, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার উত্তর ভাটারাপাড়ার কাজল ইসলাম (মিয়া), ঢাকার বাড্ডার পূর্বপদর মিয়া আলীনগরের জসিম উদ্দিন খান, মোহাম্মদপুরের মিনাবাজারের পূর্ব পাশের বেড়িবাঁধের ঢালের টিপু আহম্মেদ, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার শামসু পাটোয়ারির বাড়ির নাজিব উদ্দিন ওরফে নাদিম, ঢাকার দক্ষিণখানের আইনুলবাগ কলেজ রোডের আনিছুর রহমান (মাউরা জাবেদ), ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিকদার চরপদ্মমনসার রুহুল আমীন, পল্লবীর মেডিকেল ক্যাম্প লাইনের মুজাহিদ শেখ, বরিশালের উজিরপুরের ডহরপাড়ার বশির আহম্মেদ, কুমিল্লার মুরাদনগরের গোলাম রব্বানী, ঢাকার কদমতলীর মো. দেলোয়ার, উত্তরার ৫নং সেক্টরের ৬/এ নম্বর রোডের ৪৮নং বাড়ির ডি-৫ ফ্ল্যাটের রেজাউল করিম, ঢাকার বংশালের ৬৫/১ আগামসিহ লেনের লিটন চন্দ্র বর্মণ, আগা সাদেক রোডের মো. জুয়েল, নিমতলির লাকি আলী, দিনাজপুরের বিরামপুরের দবিরুল ইসলাম, মিরপুরের লালকুঠি থাই কলোনির বশির হোসেন, পাবনার সুজানগর উপজেলার দড়িয়াপুরের হেলাল উদ্দিন মোল্লা, খিলক্ষেত ফকিরবাড়ির মামুন আকন্দ, গোপালগঞ্জের কাজুলিয়ার হাচার সরদার, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সভারচরের মোছাম্মাৎ লাকী, মধ্যবাড্ডার পোস্ট অফিস গলির জরিনা বেগম, ঢাকার রমনা থানার ২৭৯ নম্বর মগবাজারের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন, ২৭৭ নম্বর আমবাগান মগবাজারের জামাল শেখ, পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পের মো. হৃদয়, কামরাঙ্গীরচরের হাসাননগরের সবুজ বেপারী ও ইসমাইল হাওলাদার, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ২ নম্বর গলির শ্যামল এ রানা, ঢাকার ওয়ারীর টিকাটুলির মো. জলিল, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের রোমান আক্তার রুনা, মিরপুরের ১১নং সেকশনের বি ব্লকের ১২ নম্বর রোডের মো. জনি, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সোহাগ মিয়া, ঢাকার পল্লবীর তালতলা বস্তির মো. আলমগীর, জামালপুরের মহিমাচরের মোসাম্মাৎ ফরিদা বেগম, ময়মনসিংহের চরপাড়ার মিনা বেগম, শেরপুরের ঝিনাইগাতির নাজমা বেগম, কারওয়ানবাজার রেললাইন বস্তির নীলা (নিলু বেগম), যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল বাড়ির ফজলুল হক (টিটু), ঢাকার শাহজাহানপুরের হাফিজুর রহমান আসলাম, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের মো. রেজাউল, নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মো. ফয়সাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কটাপাড়ার আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তার ও মালবাগডাঙ্গার বাহাদুর আলী। তেজগাঁও থানার হাজেরা বেগম, মন্টু, ঝর্ণা বেগম, পারভিন, হাবিব গাজী, লালবাগ থানার আবুল হোসেন, রমনা থানার মো. জাফর, ভাটারা থানার মাহবুব আলম ওরফে মামুন, মমিন উদ্দিন, যাত্রাবাড়ী থানার আবদুর রাজ্জাক রবিন, কদমতলী থানার আতাউর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানার আনোয়ার হোসেন মোক্তার, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, কদমতলী থানার আনোয়ার হোসেন, মিন্টু হাওলাদার, সাবি্বর হোসেন, মুগদা থানার তরিকুল ইসলাম, গেন্ডারিয়া থানার মো. আবুল, বিমানবন্দর থানার রেজাউল করিম, বংশাল থানার পলি আক্তার, মো. রমজান, কামাল হোসেন বাবু, মো. সজীব, আনোয়ার হোসেন ওরফে আইনাল, দেলোয়ার হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শাওন, শেরেবাংলা নগর থানার বশির হোসেন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সুবর্ণা আক্তার ওরফে রিম্পা, হাজারীবাগ থানার মাহবুব, শাহজাহানপুর থানার জুয়েল মিয়া, মতিঝিল থানার মাহবুব আলম ওরফে রুবেল, রমনা থানার এম.এম. নূর হোসেন মুন্না, কামরাঙ্গীরচর থানার শারমীন বেগম, ভাটারা থানার মামুন খন্দকার, শ্যামপুর থানার মো. পারভেজ, রামপুর থানার রমজান আলী, সামসুল, তুরাগ থানার নাজমা বেগম, রমজান আলী, মোহাম্মদপুর থানার মো. রব্বানী, মিরপুর থানার আরিফুল ইসলাম, কাবিল সর্দার, ওয়ারী থানার মনিরুল ইসলাম ওরফে মানিক, রিপন মিয়া, রুনা বেগম, মোহাম্মদপুর থানার নূর ইসলাম, শেরেবাংলা নগর থানার মো. মাসুদ ও রামপুরা থানার মোসাম্মাৎ শারমীন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/APORADHER-DAYRE-THEKE.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/APORADHER-DAYRE-THEKE-300x300.jpgহীরা পান্নাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
এক বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভুয়া জামিননামা দেখিয়ে কারাগার থেকে অবৈধভাবে বের করে আনা হয়েছে ১১০ জন চিহ্নিত দাগি আসামিকে। তাদের নাম-ঠিকানা এখন দুদকের হাতে। ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত দ্বিতীয় দায়রা জজ শামসুন্নাহারের স্বাক্ষর জাল করা হয়। ৭৭টি মামলার ভুয়া জামিননামা তৈরি করে সেগুলো কারা...