85046_s1
প্রথমে বাংলাদেশের বোলার-ব্যাটসম্যানদের দাপট। এরপরে বৃষ্টির বাগড়া। শেষ পর্যন্ত ড্র মেনে নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা। দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রানে পিছিয়ে থেকে কোন উইকেট না হারিয়ে ৬১ রান করে প্রোটিয়ারা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলার দাবি এই ম্যাচে ড্র হলেও তারাই এগিয়ে ছিলেন। বাকি সময়টা খেলা হলে ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকতো। কিন্তু সেই দাবির সঙ্গে একমত নন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। সংবাদ সম্মেলনে তারও দাবি নিজেদের এগিয়ে থাকার। তাই ড্রর ফলাফল নিয়ে আছে হতাশাও। এই হতাশা থেকে ঢাকা টেস্টে ভাল করার প্রত্যাশা যোগাবে দাবি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মুশফিক বলেন, ‘দাবিটা তার (আমলা) চিন্তা থেকে বলেছে। তারা ১৭ রানে পিছিয়ে ছিলেন। তাদেরও কিন্তু দ্রুত রান তুলতে হতো। বলাবাহুল্য দ্রুত রান তুলতে গিয়ে যদি দুই-তিন উইকেট হারালে কিন্তু আবার ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসতো। কারণ প্রথম ইনিংসে আমরা ভাল বল করেছি, পেসাররা ভাল করেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা আরও সহায়তা পেত। সেদিক থেকে আমরা এগিয়ে ছিলাম। আসলে এই টেস্টে আমি ভিন্ন আশায় ছিলাম বলতে পারেন। তবে এটা আমার ব্যক্তিগত চিন্তা। আশা করছি এই টেস্টের পজিটিভ দিকগুলো পিক করে সামনে ভাল করবো। তারাও চাইবে ঢাকায় ভাল করতে। ঘুরে দাঁড়াতে। আর মিরপুরের উইকেটও একটু ভিন্ন হবে। আশা করবো সামনে থেকে যেন ভালভাবে পরিকল্পনাগুলো করতে পারি এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
বৃষ্টির কারণে টেস্ট ড্রর হতাশা নিয়ে মুশফিক আরও বলেন, ‘টেস্টের নাম্বার ওয়ান দলের সঙ্গে লিড নেয়া আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক ছিল। খেলা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। আবহাওয়ার ওপর আমাদের কারও হাত নেই। তবে এই টেস্ট থেকে ইতিবাচক দিকগুলো আমরা সংগ্রহ করতে পারি যা সামনের টেস্টে কাজে দিবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দাপটের সুযোগ টেস্ট ক্রিকেটে তেমন ছিল না টাইগারদের। টাইগাররা এখন টেস্টেও ভাল করছে এবং এই ভাবে খেলতে থাকলে আরও ভাল করতে পারবে এই পারফরম্যান্স তার প্রমাণ বলে দাবি করেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এরকম সুযোগ খুব কমই আসে। এরকম উইকেটে চতুর্থদিন আর পঞ্চমদিনে উইকেট থেকে স্পিনাররা খুব হেল্প পায়। আমাদের দলে চারজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছিল। খেলতে না পারায় সবাই হতাশা ব্যক্ত করেন। আর ছেলেরা সবাই খেলার জন্য মুখিয়ে ছিল। সবাই ভাল কিছু করার জন্য ক্ষুধার্ত ছিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেভাবে ভাল করছে, টেস্টে কেন পারছে না। সেটা প্রমাণ করার কিছু বিষয় ছিল। একটা টেস্ট ভাল খেলেই যে বলবো প্রমাণ করেছি তা না। এটা একটা শুরু করতে পেরেছি। এটা আমাদেরকে সামনে ভাল করতে, মানসিক শক্তি বাড়াতে অনেক সাহায্য করবে। এভাবে খেলতে পারলে টেস্টেও ভাল করা সম্ভব।’
অন্যদিকে দলে তরুণ বাঁহাতি পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমান টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডের পর টেস্টও রেখেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। টেস্ট দলে এমন একজন প্রতিভার যোগ হওয়াতে দলের বোলিং আক্রমণেও এসেছে বৈচিত্র্য। টেস্টেও এই তরুণের কার্যকারিতা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘একজন বাঁহাতি সিমার যে কোন দলের আক্রমণ ভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মুস্তাফিজ এই মূহূর্তে ভাল ক্রিকেট খেলছে, ভাল ফর্মে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে যারা নতুন এসেছে তাদের জন্য মুস্তাফিজের বল খেলাটা একটু কঠিন হয়ে উঠছিল। আমার প্রত্যাশা টেস্টেও যদি মুস্তাফিজ ওর ফর্মটা ধরে রাখতে পারে সেক্ষেত্রে ওদের ব্যাটসম্যানদের জন্য অনেক কঠিন হবে। এবং আশা করি ও যে ফর্মে আছে এটা দ্বিতীয় টেস্টেও বজায় রাখবে।’ চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট-বলে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এবার ঢাকা টেস্ট সেটি ধরে রাখার পালা। তার জন্য চট্টগ্রাম টেস্টের ভাল দিকগুলো হবে ঢাকা টেস্টে মুশফিক বাহিনীর আত্মবিশাস। মুশফিকও তা বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, ‘তাতো অবশ্যই! প্রত্যেকটা সিরিজ শুরু হওয়ার আগে পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাটাঘাটি হয়। তাদের সঙ্গে আমাদের অতীতে পারফরম্যান্স কি। এটা আসলে কখনই প্রভাব ফেলে না ম্যাচগুলোতে। শেষ ৫-৭ কিংবা ১০ বছর আগে আমরা কি ছিলাম, আর এখন বর্তমান ফর্ম আর বর্তমান টিম এটা ভিন্ন বিষয়। বাংলাদেশ এখন খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে। এভাবে খেলতে পারলে আশা করবো পরবর্তী টেস্ট আমাদের পক্ষে আসবে।’

ওয়াজ কুরুনীখেলাধুলা
প্রথমে বাংলাদেশের বোলার-ব্যাটসম্যানদের দাপট। এরপরে বৃষ্টির বাগড়া। শেষ পর্যন্ত ড্র মেনে নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা। দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৮ রানে পিছিয়ে থেকে কোন উইকেট না হারিয়ে ৬১ রান করে প্রোটিয়ারা। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম...