85278_thumb_x4
ধনীর বাড়ির বিয়ে অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র না পেয়েও তারা ছুটে যান। দুটো ভাত তরকারির জন্য ঠেলাঠেলি কিংবা গলাধাক্কা খেতে হতো। কখনও বা দাওয়াতি মেহমানদের খাবারের পর যদি খাবার থাকে তাহলে তাদের দুই মুঠো খাবার জোটে যেমন তেমন পলিথিনের প্যাকেটে। সেই পলিথিনের প্যাকেটে তাদের কখনও ভাত-ডাল দেয়া হলেও তাতে থাকে না মাংস। এভাবেই হাত পেতে যাদের জীবন-জীবিকা চলতো আজ তাদের এবার রীতিমতো দাওয়াত করে ডেকে এনে বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেবিল-চেয়ারে বসিয়ে খাওয়ানো হলো। শুধু সম্মানের সঙ্গে খাওয়ানো নয় তাদের সকলের হাতে একটি করে রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে বরণও করে নেয়া হয়। গতকাল দুপুরে নীলফামারীর শিল্প প্রতিষ্ঠান নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ান আহসান হাবিব লেলিন এমন একটি ব্যতিক্রম দাওয়াতের আয়োজন করেন এই জেলার ভিক্ষুকমুক্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভিক্ষাবৃত্তি পরিহারকারী দেড় হাজার নারী পুরুষের প্রীতিভোজের মাধ্যমে। নীলসাগর গ্রুপের কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নে অবস্থিত অনুভব সেভিংস অ্যান্ড কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ক্যাম্পাসে এই আয়োজন করা হয়।
এই আয়োজনে ওই উপজেলার দেড় হাজার ভিক্ষাবৃত্তি পরিহারকারীদের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন নীলফামারী ৪ আসনের সংসদ সদস্য বিরোধীদলীয় হুইপ আলহাজ শওকত চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান, র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর দুইটি ইউনিট সাংবাদিকসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষজন।
বিশাল সাজসজ্জার এই দাওয়াতি অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল দেখে এক সময়ের এই ভিক্ষুুকরা হতবাক হয়ে পড়েন। দাওয়াত খেতে আসা উপজেলার রনচণ্ডি গ্রামের আমজাদ হোসেন (৬৫) বলেন যখন ভিক্ষা করতাম তখন কোন দাওয়াত বাড়িতে চিঠির মাধ্যমে পাইনি। পেটের ক্ষিধার তাগিদে ওই সব দাওয়াতি অনুষ্ঠানে ছুটে যেতাম। পেতাম গালমন্দ ও গলা ধাক্কা। কেউবা দিতো মেহমানদের খাওয়া শেষে পড়ে থাকা ভাত ডালের পলিথিনের যেমন তেমন একটা প্যাকেট। কোন দিন টেবিল-চেয়ারে বসে পোলাও মাংস খাওয়ার ভাগ্যে জুটেনি। আজ এমন খাওয়া খেলাম যা জন্মের পরে বাপ দাদারাও আমাকে খাওয়াতে পারেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন যখন দাওয়াত পত্র নিয়ে এই দাওয়াতি অনুষ্ঠানে এলাম তখন আমাকেসহ অন্য যে ভিক্ষুকরা এসেছে তাদের একটি করে হাতে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় নীলসাগর গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তখন ভাবছিলাম এটাকি স্বপ্ন দেখছি না বাস্তবতা। নিজের শরীরে চিমটিও কাটি। সরেজমিনে দেখা যায় চেয়ার-টেবিলে প্লেট-গ্লাস এক সময়ের এই ভিক্ষুকদের পোলাও, বুটের ডাল, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডিম, টিকিয়া, সালাত, লেবু, দই মিষ্টি ও কোল্ডড্রিংকস খেতে।
শিল্প প্রতিষ্ঠান নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব লেলিন ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে বলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল এক বছর আগে। এজন্য উপজেলা পরিষদ তাদের বিভিন্নভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করেছেন। তিনি বলেন এদের নিয়ে চিন্তা করলাম যে এই উপজেলার প্রায় দেড় হাজার ভিক্ষুক ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিলেও এদেরতো কোন বিয়ে বাড়ি অথবা বড় কোন অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত করে খাওয়ানি। তাই এই আয়োজন করেছি। ভাবছি প্রতি বছর এদের একদিন করে এভাবে দাওয়াত করে খাওয়াবো।
অনুষ্ঠানে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে বলেন, এই উপজেলা ভিক্ষাবৃত্তি পরিহারকারী গরিব ও ভিক্ষুকদের জন্য নীলসাগর গ্রুপ যে ব্যবস্থা করেছে তা সত্যিই একটি ভাল উদ্যোগ এবং দেশের একটি মডেল হওয়ার মতো ঘটনা। তিনি বলেন ২০১৪ সালের ৫ই জুলাই কিশোরীগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ ভিক্ষুুককে ছাগল, গরু, ভেড়া, হাঁসমুরগি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নগদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। এ ছাড়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে তাদের সদস্য করে তাদের পুনর্বাসন করে দেয়া হয়েছে। এতে তারা আজ সকলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।

শুভ সমরাটএক্সক্লুসিভ
ধনীর বাড়ির বিয়ে অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্র না পেয়েও তারা ছুটে যান। দুটো ভাত তরকারির জন্য ঠেলাঠেলি কিংবা গলাধাক্কা খেতে হতো। কখনও বা দাওয়াতি মেহমানদের খাবারের পর যদি খাবার থাকে তাহলে তাদের দুই মুঠো খাবার জোটে যেমন তেমন পলিথিনের প্যাকেটে। সেই পলিথিনের প্যাকেটে তাদের কখনও ভাত-ডাল দেয়া...