chamra+jugantor_329697
কোরবানিতে এবছর সারা দেশ থেকে চামড়া সংগ্রহ হয়েছে খুবই কম। কারণ এবার ট্যানারি মালিকরা ঢাকার বাইরে মোকামগুলোতে চামড়া কিনতে প্রয়োজনীয় টাকা দেননি।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনেছে বেশি দামে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনছে কম দামে। এতে করে লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ চামড়া পাচারের আশংকা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, কোরবানীর পর দেশের যশোর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নওগাঁ এবং খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর কাঁচা চামড়া মজুদ রয়েছে। সঠিক দাম না পেলে এসব চামড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
ভারতের কয়েকটি প্রদেশে সম্প্রতি গরু জবাই করা বন্ধ হওয়ায় সেখানে কাঁচা চামড়ার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী বাংলাদেশ থেকে কাঁচা চামড়া নিতে মোটা অংকের টাকা লগ্নি করেছেন।
সাধারণত মৌসুমি ব্যবসায়ীদের হাত বদল হয়ে চামড়া আসে ফড়িয়াদের কাছে। তাদের কাছ থেকে চামড়া চলে যায় বড় ব্যবসায়ী অথবা ট্যানারি মালিকদের হাতে। এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনলেও ফড়িয়া ও আড়তদাররাও বেশি দামে চামড়া নিতে চাইছেন না।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, যারা প্রকৃত মধ্যস্বত্বভোগী চামড়া ব্যবসায়ী তারা ঠিক দামেই চামড়া কিনেছেন এবং লাভও করছেন। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়ো করে বেশি দামে চামড়া কিনে নিজেদের ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজেশে প্রতিবছরই ভারতে পাচার হয়ে যায় চামড়ার বিরাট একটি অংশ। একই অবস্থা নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীদেরও। তাদের অভিযোগ, ট্যানারি ব্যাবসায়ীরা তাদের গত বারের টাকা না দেয়ায় তারা এখন লোকসান গুণছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি জানান, চলতি বছর ট্যানারী মালিকদের পক্ষ থেকে চামড়ার দাম আগে থেকে নির্ধারণ করে দেয়ার পরও চামড়া ক্রয়ে রীতিমতো প্রতিযোগীতায় ছিল মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চামড়ার বাজারমূল্য কম হওয়ায় অধিকাংশ চামড়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার হওয়ার আশংকা করছেন এ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া ব্যুরো জানায়, গত ১০ বছরের তুলনায় বাজারে চামড়ার আমদানি তুলনামূলক কম। সরবরাহে ধসের কারণে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেয়া দামের দ্বিগুণ মূল্যে বগুড়ার বাজারে কেনাবেচা হয়েছে কোরবানীর চামড়া।
চট্টগ্রামে এবার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে পাঁচ লাখ থাকলেও সে অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করা হয়নি। চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এবার গরু, মহিষ ও ছাগল মিলে সাড়ে তিন লাখের মতো চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। গরুর দাম বেশি থাকায় এবং বাজারে গরু না থাকায় চামড়া সংগ্রহে ধস নেমেছে। কয়েকজন মিলে একটি গরু কোরবানী দিয়েছে।
যশোরের বেনাপোলেও বেশি দামে চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল বাজারে বিক্রির জন্যে শার্শা গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে আসা ব্যাপারি খায়রুর হাসান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে বেকায়দায় পড়েছেন তিনি।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়া মোকাম যশোরের রাজারহাট থেকে আসা অসীম দাস বলেন, বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসা থেকে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন তিনি। অন্যবার লাভ করলেও এবার ক্ষতির আশংকা করছেন তিনি।
ফুলবাড়ী প্রতিনিধি জানান, তুলনামূলকভাবে ভারতে চামড়ার দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় পাচার করার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দিয়ে চামড়া মজুদ করেছে চোরাকারবারি বেশ কয়েকটি চক্র।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/chamra-jugantor_329697.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/chamra-jugantor_329697-300x298.jpgমিস্টি রহমানপ্রথম পাতা
কোরবানিতে এবছর সারা দেশ থেকে চামড়া সংগ্রহ হয়েছে খুবই কম। কারণ এবার ট্যানারি মালিকরা ঢাকার বাইরে মোকামগুলোতে চামড়া কিনতে প্রয়োজনীয় টাকা দেননি। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনেছে বেশি দামে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে তাদের কাছ থেকে চামড়া কিনছে কম দামে। এতে করে লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় বিপুল...