08225734fe0e4ffa59ed4f24b8c5783b-34
মেঘ আর বৃষ্টিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। প্রকৃতির এই দুই চিরসখা বলতে পারে, বর্ষা তো আমাদেরই মৌসুম, এই সময় কেন ক্রিকেট? তারপরও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের একটু মন খারাপ। মেঘ-বৃষ্টির সম্ভাবনাকে ধুয়েমুছে প্রথম দিনে যেখানে পুরো খেলা হলো, দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনেই কেন তোমরা হানা দিলে আকস্মিক! ৫৩ মিনিট বাধার পর এক বল হতেই কেন শেষ করে দিলে দিনটিকে!
বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট যথারীতি বৃষ্টির কবলে। এর মধ্যেও মূল ক্রিকেটীয় বার্তাটি হলো নির্ধারিত ওভারের ২৫টি বাকি থাকতেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ রয়েছে বেশ ভালো জায়গায়। তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডটা যথেষ্টই উজ্জ্বল। এটি আরও ঝলমলে দেখাতে পারত, চাই কি ৬৯ রানে পিছিয়ে থাকাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের বেশ কাছাকাছিই যাওয়া যেত। যদি বাংলাদেশের এই দুই ব্যাটিং নায়ক ক্ষণিকের ভুলে আউট না হয়ে যেতেন। চা-বিরতির তিন ওভার আগে তামিম আউট হয়ে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর প্রথম হাফ সেঞ্চুরির পর। স্টেইন নয়, মরকেল নয়, ফিল্যান্ডারও নয়, শিকার কিনা এক খণ্ডকালীন বোলারের! বাঁহাতি স্পিনার ডিন এলগারের ওই বলটি ছিল ফুলটস, তামিম বলের লাইনের আড়াআড়ি সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড।
ছয় ইনিংস পর একটি ফিফটি করে মাহমুদউল্লাহ (৬৭) আউট বৃষ্টির আগের ওভারটিতে। দারুণ খেলতে খেলতেই এলবিডব্লুর ফাঁদে। ফিল্যান্ডারের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসত্রয়ীর একমাত্র সাফল্য। এই আউটটাই বাংলাদেশের বুকে বাজছে বেশি করে। মাহমুদউল্লাহ দিনটি শেষ করে আসতে পারলে কী দারুণই না হতো!
তবে তামিমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের নায়ক যা করেছেন, সেটিও দলকে জড়িয়ে রাখে কৃতজ্ঞতাপাশে। স্কোরবোর্ডে ৫৫ রান, ফিরে গেছেন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক নামের দুই নির্ভরতা। মাথায় সাদা ব্যান্ড পরে বোলিংয়ে প্রাণপাত করে হুমকি দিচ্ছেন র্যা ঙ্কিংশ্রেষ্ঠ বোলার ডেল স্টেইন। মরকেল ও ফিল্যান্ডারও তাঁদের পেস বোলিংয়ের নখ-দাঁত বের করতে চাইছেন। হাশিম আমলা বোলিংয়ের সবগুলো তাস বের করে তাঁদের বিচ্ছিন্ন করতে চাইছেন। এর মধ্যেই তাঁরা সংযমের সঙ্গে সাহসকে একীভূত করে গড়লেন ৮৯ রানের জুটি। যা কিনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি। জাভেদ ওমর ও হাবিবুল বাশারের দ্বিতীয় উইকেটে গড়া ১৩১ রানই এক যুগ ধরে রয়েছে সর্বোচ্চ হয়ে। পরাজিত দলের পক্ষে সেই কীর্তিও চট্টগ্রামে, যদিও এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে।
সংযম ও সাহসিকতার আগে আরও দুটি প্রায় সমার্থক শব্দ যোগ করা উচিত—ধৈর্য ও সতর্কতা। তামিমের ব্যাট দিল সাহসিকতার প্রথম প্রমাণ—স্টেইনের টানা দুই বলে চোখ জুড়ানো দুটি বাউন্ডারিতে। ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। দল পঞ্চাশের কাছাকাছি যেতেই ছন্দপতন। স্টিয়ান ফন জিলের বলের গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্টাম্পড ইমরুল। মুমিনুল ফিরে গেলেন মাত্রই ৯ রান পর। অফ স্পিনার সাইমন হার্মারের সোজা একটি বল স্টাম্পের খুব কাছ থেকে কাট করতে গিয়ে বোল্ড। এই অবস্থায় তামিম-মাহমুদউল্লাহ হাল না ধরলে বাংলাদেশ কোথায় যে ভেসে যেত, কে বলতে পারে!
কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বমানের পেসারত্রয়ীকে সামলানোই আসল চ্যালেঞ্জ। অধিনায়ক মুশফিক বলেছিলেন, ওদের সামলাতে সব প্রস্তুতিই তাঁদের সারা। তা দ্বিতীয় দিনটি যেমন গেল, তাতে বলতেই হচ্ছে সেই প্রস্তুতিতে কাজ হয়েছে। ৩৬ ওভারে ৯৬ রান দিয়ে এই ত্রয়ীর একটি মাত্র উইকেট। বাংলাদেশের এই প্রত্যয়ী ব্যাটিংই হয়তো হতাশায় অনূদিত হয়েছে তামিমকে দেওয়া উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককের কাঁধের ধাক্কায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার বল হাতে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে। বাকি উইকেটটি অবশ্য বিশেষজ্ঞ স্পিনার হার্মারের। ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে হয়তো স্লো বোলাররা (ফন জিলের গতিও কিন্তু ১১৫-এর কিলোমিটারের মধ্যে) থেকে গিয়েছিল দৃষ্টির আড়ালে। মাহমুদউল্লাহ মোটেই তা মানতে চাইলেন না। আবার সলজ্জ হাসিতে সামান্য দ্বিমত করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের ‘অগ্রগামিতা’র শতকরা তত্ত্বে। ল্যাঙ্গেভেল্ট বাংলাদেশকে ৬০-৪০-এ এগিয়ে রাখছেন শুনে প্রথমে একমত হয়েও পরে পাল্লাটা বাংলাদেশের দিকে ৬৫-৩৫ করে দিলেন।
প্রথম দিনের বোলিংয়ের পর দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং সত্যিই বাংলাদেশকে ‘ঐতিহাসিক’ এক সম্ভাবনার সামনে নিয়ে গেছে। আজ সেটিকে আরও ঔজ্জ্বল্য দেওয়ার দায়িত্ব মুশফিক-সাকিবের।
কাল স্টেডিয়ামে বৃষ্টিভেজা দর্শকদের প্রার্থনা ছিল এটাও—বৃষ্টি যেন তুলে না দাঁড়ায় বাধার দেয়াল। অবশ্য এই বৃষ্টি আশার, না নিরাশার, না ভরসার—বোঝা ভার। ফতুল্লায় সর্বশেষ টেস্টটি যে ছিল এক বিষম বিভ্রম!

ওয়াজ কুরুনীখেলাধুলা
মেঘ আর বৃষ্টিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। প্রকৃতির এই দুই চিরসখা বলতে পারে, বর্ষা তো আমাদেরই মৌসুম, এই সময় কেন ক্রিকেট? তারপরও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের একটু মন খারাপ। মেঘ-বৃষ্টির সম্ভাবনাকে ধুয়েমুছে প্রথম দিনে যেখানে পুরো খেলা হলো, দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনেই কেন তোমরা হানা দিলে আকস্মিক! ৫৩...