87578_x1
৯০ সালের পর থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রকট আকারে দখল ও দূষণ চলছে। এরপর থেকে পানি সম্পদ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে নাব্যতা ফেরানো, দখল প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার নামে দেদার অর্থ খরচ করে চলেছে। মোট কথা ‘বুড়িগঙ্গা’ পুনরুদ্ধারের নামে বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ চলছেই। তবে এবার নতুন ফর্মেটে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এবারের প্রকল্পের নাম ‘ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম’। যা বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের লেটেস্ট ভার্সন। তবে উচ্চাভিলাষী এ প্রকল্পের অর্থ সংস্থান নিয়ে এরই মধ্যে নানা কথা উঠেছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি প্রায় এক যুগ আগের। ২০০৬ সালে প্রথম ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। ৯৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে গত ৫ বছরে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, শুধু অর্থেরই অপচয় হয়েছে। এখন আগের প্রকল্প ‘বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাতিল করে নতুন করে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যাতে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পের সময়কাল হবে তিন বছর। সরকারি ও দাতা সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ২২৬ কিলোমিটার নৌপথ খনন করে যমুনা থেকে পানি এনে দূষণ-দখলে মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো হবে। এ বিষয়ে নদী বিশেষজ্ঞরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগেই বলেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাবে না। কারণ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর উৎসমুখ থেকে শুরু করে যে পথে ২২৬ কিলোমিটার খনন করে বুড়িগঙ্গায় আসতে হবে ওই খনন পথে এখন ৬০টিরও বেশি গ্রাম, কয়েকটি শহর, বিপুলসংখ্যক স্থায়ী হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও নদীর চিহ্ন নেই। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী খননের জন্য সরকারকে ৬৭৪ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এত জমি অধিগ্রহণ করা কষ্টকর। তাই এ প্রকল্প নতুন করে প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবের সঙ্গে এর কোন মিল নেই। এ কারণে প্রকল্পের মাধ্যমে কাজের বদলে অর্থের অপচয় ও লুটপাট হবে। এদিকে গত ১১ই মে পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের উপস্থিতিতে কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে ‘বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সভায় মন্ত্রী সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ব্যয় সম্পর্কে বৈঠকে বলেন, প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় আনুমানিক ১৫০০ কোটি টাকা। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রতি বছর গড়ে ৩৫০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। যা সরকারি অর্থায়নে দেয়া সম্ভব হবে না। তাই অর্থায়নের জন্য দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। নতুন প্রকল্প সম্পর্কে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ২০১০ সালে নেয়া ৯৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পের ১০০ কোটিরও বেশি টাকা জলে গেছে। এখন নতুন প্রকল্প করে এর ব্যয় বাড়িয়ে যদি ১৫০০ কোটি টাকা করা হয় তবে এবার ৫০০ কোটি টাকা জলে যাবে। লুটপাটের একটা ক্ষেত্র হবে। বুড়িগঙ্গা বাঁচানের জন্য যে কাজগুলো করতে হবে, সেদিকে কারও নজর নেই। বুড়িগঙ্গা বাঁচানোর জন্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে এবং চামড়া শিল্পসহ বুড়িগঙ্গা দূষণের জন্য দায়ী শিল্পগুলোকে ঢাকা থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
৯০ সালের পর থেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রকট আকারে দখল ও দূষণ চলছে। এরপর থেকে পানি সম্পদ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে নাব্যতা ফেরানো, দখল প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার নামে দেদার অর্থ খরচ করে চলেছে। মোট কথা ‘বুড়িগঙ্গা’ পুনরুদ্ধারের নামে বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি...