1438234352
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং দলের স্থায়ী কমিটির দীর্ঘদিনের প্রাক্তন সদস্য ড. কর্নেল অলি আহমদকে (অব.) দলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিলুপ্ত করে দল দু’টিকে বিএনপিতে একীভূত করানোর আগ্রহ রয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের। একইসঙ্গে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা দলটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে একসময়ে ছাত্রনেতা ছিলেন তবে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় কিংবা রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়েছেন, তাদেরকে দলে ফিরিয়ে সক্রিয় করানোর পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। অধ্যাপক বি. চৌধুরী ও অলি আহমদসহ তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে। তবে বিএনপির এই আগ্রহ কিংবা উদ্যোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না দলের অন্য নেতারা। এমনকি বিকল্পধারা ও এলডিপি নেতারাও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অন্ধকারে। বিএনপি, বিকল্পধারা ও এলডিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ধরনের উদ্যোগ থেকে থাকলেও সেটি সম্ভবত এখনও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। কেননা বাস্তবে এখনও বিকল্পধারা কিংবা এলডিপির সঙ্গে কেউ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি, কোন কথাবার্তাও হয়নি। অবশ্য বিএনপির এই ধরনের উদ্যোগের কথা স্বীকার করেছেন দলটির অন্যতম থিংকট্যাংক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন ‘বি. চৌধুরী ও অলি আহমদসহ যারা একসময় বিএনপিতে ছিলেন তারাসহ এরকম উল্লেখযোগ্য যারা এখন দলের বাইরে, তাদেরকে দলে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আমরাই বেগম জিয়াকে বলেছিলাম। তিনি এতে একমত পোষণ করেছেন। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে আমরা এখনও কাজ শুরু করতে পারিনি। আশা করছি শিগগিরই আলাপ-আলোচনা শুরু করতে পারবো।’

জানা গেছে, অধ্যাপক বি. চৌধুরী বর্তমানে সপরিবারে ব্যাংকক রয়েছেন। আগামীকাল ৩১ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। অলি আহমদও এখন ব্যাংককে, তার দেশে ফেরার কথা ২ আগস্ট। বি. চৌধুরীর প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন ‘বিএনপিতে ফেরার বিষয়ে বি. চৌধুরী কিংবা বিকল্পধারা কিছুই জানে না। এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে কথাও হয়নি। বি. চৌধুরী বিদেশে যাওয়ার সময় আমাকে বলে গেছেন—এ ব্যাপারে কেউ জানতে চাইলে বলে দেবে যে, বিকল্পধারা বিলুপ্ত করে বিএনপিতে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

প্রসঙ্গত, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মে মাসে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বি. চৌধুরী বলেছিলেন— ‘বিএনপি আজ জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বহু বহু দূরে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জিয়াউর রহমানের আদর্শে দল পরিচালিত হলে এই দুঃসময় আসতো না। দলে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ফিরিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী সকল শক্তিকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে।

বি. চৌধুরীর ওই বক্তব্য উদ্ধৃত করে তার প্রেস সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের কথা বি. চৌধুরী সবসময়ই বলেছেন। তবে বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসার পর কখনও ফিরে যাওয়ার কথা বলেননি। বরং এ ব্যাপারে তার একটিই বক্তব্য ছিল—‘নো, নেভার, নো।’

বি. চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে আসা মেজর (অব.) আবদুল মান্নান বর্তমানে বিকল্পধারার মহাসচিব পদে থাকলেও নানা কারণে তিনি চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরই বিরক্ত। সম্প্রতি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, রাজনীতি এখন অনেকটাই দুর্বৃত্তায়নে পরিণত হয়েছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের আমলেই ভয়াবহ দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেউ হয়তো মন্দের ভালো। এসব কারণে রাজনীতির প্রতিই তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এদিকে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম সোমবার রাতে অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। তিনি তার কাছ থেকে এলডিপিকে ফেরানোর জন্য বিএনপির আগ্রহ কিংবা খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনার বিষয়ে জানার চেষ্টা করেছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে শাহাদাত হোসেন সেলিম মঙ্গলবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন,‘সবকিছু আমার কাছে ইতিবাচকই মনে হয়েছে। অলি আহমদ দেশে ফেরার পর হয়তো তার সঙ্গে এমাজউদ্দিন ও খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বসবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন—‘যদি সবার সম্মান বজায় রেখে এলডিপি বিএনপিতে একীভূত হয়, তাতে অবশ্যই দু’পক্ষই সুফল পাবে।’ বিএনপি কার্যকর উদ্যোগ নিলে এ প্রয়াস সফল হবে বলেও আশাবাদী এলডিপির এই নেতা। সূত্রমতে, পুরো বিষয়টি নিয়ে সোমবার রাতেই এমাজউদ্দিন আহমদ ও খন্দকার মাহবুব হোসেন নিজেদের মধ্যেও আলাপ করেছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, তারা মনে করছেন- বিকল্পধারা ও এলডিপি বিএনপিতে একীভূত হলে অবশ্যই সেটি দলের জন্য ইতিবাচক। তবে দল দুটির কোন কোন নেতার বিষয়ে বিএনপিতেও আপত্তি রয়েছে। কারণ ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে ‘সন্দেহভাজন’ এই নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে এসব নেতার কেউ কেউ বারবার অবস্থানও বদল করেছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে ২০ দলের শরিক হিসেবে থাকা কাজী জাফর আহমদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদেরও অনেকেই দল বিলুপ্ত করে সরাসরি বিএনপিতে যুক্ত হতে আগ্রহী। তারা তাদের এই আগ্রহের কথা ইতিমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে প্রকাশও করেছেন। যার কারণে কাজী জাফরের দলের সঙ্গেও কথা বলবেন এমাজউদ্দিনসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ২০ দলের আরও দু’তিনটি শরিক দল রয়েছে, যেসব দল মূলত ‘এক নেতা নির্ভর’, সেসব দলকেও বিলুপ্ত করিয়ে বিএনপিতে একীভূত করা যায় কি-না, সে ব্যাপারেও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এছাড়া রাজপথে সক্রিয় থাকা একসময়ের যেসব ছাত্রনেতা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় এবং মান-অভিমানসহ নানা কারণে যেসব নেতা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন, তাদেরও দলে ফিরিয়ে এনে নতুন দায়িত্ব দেয়া যায় কি না তাও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

হীরা পান্নাজাতীয়
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং দলের স্থায়ী কমিটির দীর্ঘদিনের প্রাক্তন সদস্য ড. কর্নেল অলি আহমদকে (অব.) দলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বিলুপ্ত করে দল দু’টিকে বিএনপিতে একীভূত করানোর আগ্রহ রয়েছে দলটির শীর্ষ...