untitled-7_166915
রাজধানী থেকে অবৈধ বিলবোর্ড নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের ঘোষিত সময়সীমা। এ সময়ে রাজধানীর চেহারায় তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি; বরং আগের মতোই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিলবোর্ড, ইউনিপোল, মেগাসাইন প্রভৃতি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আনিসুল হক বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের রাজধানী থেকে অবৈধ বিলবোর্ডগুলো নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে অপসারণ না করলে এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বিলবোর্ডের অনুমোদন দেওয়া হলে এসব বিলবোর্ডে শোভা পাওয়া বিজ্ঞাপনগুলো নিষিদ্ধ করা হবে। এর পরও বিলবোর্ড উচ্ছেদে জোরালো ভূমিকা রাখেননি ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ আউটডোর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. রাশেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সংবাদ সম্মেলনের পরই তারা মেয়র আনিসুল হকের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা জানান। পরে মেয়র ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব বিলবোর্ড অপসারণের জন্য সময় দিয়েছেন। তারা সে অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। রাশেদ আরও বলেন, মেয়রের কথা অনুসারে তারা বিমানবন্দর সড়কের ৭৫ শতাংশ ও সংসদ ভবনসংলগ্ন খামারবাড়ি এলাকার ৩০ শতাংশ বিলবোর্ড-ইউনিপোল (বড় আকারের বিলবোর্ড) উচ্ছেদ করেছেন। এসব এলাকার সব ইউনিপোল-বিলবোর্ড উচ্ছেদের পর তারা আবার মেয়রের সঙ্গে বসে পরের ধাপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

মেয়র আনিসুল হক বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, একটি সুন্দর, স্মার্ট, দৃষ্টিনন্দন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার ওয়াদা নির্বাচনের আগে নগরবাসীকে তিনি দিয়েছিলেন। সেটা বাস্তবায়ন করতে বিলবোর্ড উচ্ছেদ তার প্রথম পর্যায়ের পদক্ষেপ। ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদ না করলে সিটি করপোরেশনই উচ্ছেদ করবে। তখন তাদের অনেক টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কোনো সময়সীমা বেঁধে না দিলেও গত জুলাইয়ের পর তারাও কোনো বিলবোর্ড নবায়ন করেনি। ফলে অবৈধ হয়ে যাওয়া এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদ কার্যক্রম তারা ধীরে ধীরে চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করেন অনেকেই।

ডিএসসিসির বিউটিফিকেশন সেলের প্রধান মোস্তফা কামাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তারা প্রথমে বড় আকৃতির বিলবোর্ডগুলো (্ইউনিপোল) অপসারণের কাজ করছেন। ভিআইপি সড়কের কোথাও এখন আর ইউনিপোল নেই। কেবল মালিবাগ ও রামপুরা এলাকায় কিছু আছে। সেগুলোও দ্রুত উচ্ছেদ করে ফেলবেন। আর ছোট বিলবোর্ড ও মেগাসাইনের ব্যাপারে তারা কোনো কঠোর সিদ্ধান্তে এখনও যাননি। তবে সেগুলোও বর্তমানে অবৈধ।

গতকাল রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে অবৈধ অনেক বিলবোর্ড ও ইউনিপোল দেখা গেছে। বিশেষ করে রাস্তার সংযোগ সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আগের মতোই রয়ে গেছে এসব। বিজয় সরণির দক্ষিণ-পূর্ব দিকের কোণে দেখা যায়, অটোবির বিজ্ঞাপনশোভিত বিশালাকৃতির বিলবোর্ড। আরেকটিতে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক পদকপ্রাপ্তি নিয়ে রমনা থানা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও বড় আকৃতির ছবি শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে। এটির বিপরীত পাশে রয়েছে আকিজ সিমেন্টের বিজ্ঞাপনসংবলিত আরেকটি বিশালাকৃতির বিলবোর্ড। তার পাশেই রয়েছে বিডিজবসের বিজ্ঞাপনের আরেকটি বিলবোর্ড। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের বাইপাসেও বড় বড় আকৃতির বিলবোর্ড রয়েছে। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক চিকেনের মতো নানা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন রয়েছে এসব বিলবোর্ডে।

এ ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য কিছু বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ফার্মগেট হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত সড়কেরও দু’পাশে শোভা পাচ্ছে বিলবোর্ড। অথচ গত ২৪ মার্চ স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের লক্ষ্যে প্রায়ই বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি-সচিবালয় হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত ভিআইপি রাস্তায় চলাচল করে থাকেন। এ রাস্তায় অসংখ্য বিলবোর্ড/হোর্ডিং যত্রতত্র স্থাপিত আছে। এসবের আড়ালে থেকে দুষ্কৃতকারীরা ভিআইপি মোটরকেডের ওপর নাশকতা চালাতে পারে। তা ছাড়া অবকাঠামোর দুর্বলতার কারণে বিলবোর্ড যেকোনো সময় পড়ে গিয়ে ভিআইপি মোটরকেডে দুর্ঘটনা সৃষ্টি করতে পারে।’ ওই চিঠি পাওয়ার পর কিছু বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য এলাকা প্রায় আগের মতোই রয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিউটিফিকেশন সেলের প্রধান ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, একসঙ্গে এত সংখ্যক বিলবোর্ড উচ্ছেদ করাও সম্ভব নয়। এ জন্য ধাপে ধাপে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এয়ারপোর্ট রোডের অনেক বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও বিমানবন্দরের সামনে থেকে আট-দশটি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরাও কিছু বিলবোর্ড উচ্ছেদ করছেন। উচ্ছেদ করার বিষয় তারা সিটি করপোরেশনকেও জানাচ্ছেন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/untitled-7_166915.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/untitled-7_166915-300x300.jpgহীরা পান্নাশেষের পাতা
রাজধানী থেকে অবৈধ বিলবোর্ড নিজ উদ্যোগে অপসারণের জন্য বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তাতে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের ঘোষিত সময়সীমা। এ সময়ে রাজধানীর চেহারায় তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি; বরং আগের মতোই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে...