1439911767
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজে অব্যবস্থা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে বিমানের বছরে আয় ৩০০ কোটি টাকা। অথচ সেবার মান বৃদ্ধির দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বললেই চলে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ে অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে ২৩টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দৈনিক প্রায় ১০০ ফ্লাইট এই বিমানবন্দরে ওঠা-নামা করে। এসব এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের। কিন্তু এ কাজে বিমান তেমন কোন কৃতিত্ব দেখাতে পারছে না। বিদেশি অন্য কোন এয়ারলাইন্স তো দূরের কথা, বিমান তার যাত্রীদের ব্যাগেজ পর্যন্ত হ্যান্ডেলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

দীর্ঘ আকাশ পথ পাড়ি দিয়ে ফ্লাইট থেকে নেমে এই বিমানবন্দরে ব্যাগেজ হাতে পেতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিমানবন্দরে ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের কাজের মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। এ কাজে অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাগেজ থেকে যাত্রীদের মূল্যবান মালামাল খোয়া যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ডেলিভারি এলাকায় একটি চক্র নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। কিন্তু সেখানে বিমানের কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতি চোখে পড়ে না। ব্যাগেজ ডেলিভারির কাজে মাত্রাতিরিক্ত বিলম্বের কারণে যাত্রীরা টার্মিনাল ভবনে প্রায়শ বিক্ষোভ দেখিয়ে থাকেন। এ নিয়ে অতীতে ভাংচুরের নজিরও রয়েছে। কিন্তু কিছুতেই টনক নড়ছে না বিমান কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি একজন যাত্রী চিকিত্সার জন্য গত ৬ আগস্ট বিমানের বিজি ১৮৬ ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাশ নেওয়ার সময় ওই যাত্রী সংশ্লিষ্ট চেক-ইন কাউন্টারে একটি ব্যাগেজ জমা দেন।

এ জন্য তাকে একটি ব্যাগেজ ট্যাগ দেয়া হয়। ওই ব্যাগের মধ্যেই তার চিকিত্সার যাবতীয় কাগজপত্র ছিল। কিন্তু কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ব্যাগেজটি না পেয়ে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে তাকে জানানো হয় যে, তার ব্যাগেজ ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর না পাঠিয়ে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে চিকিত্সা সম্পন্ন না করেই ৮ আগস্ট ওই যাত্রী কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। দুই দিন পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তিনি তার হারনো ব্যাগেজটি হাতে পান।

বিষয়টি নিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তিনি লিখিত অভিযোগ করে সপ্তাহকাল অতিবাহিত হলেও কোন জবাব পাননি।

এ ব্যাপারে বিমানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর গাফিলতির কারণে হ্যান্ডেলিং ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

সুরুজ বাঙালীপ্রথম পাতা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজে অব্যবস্থা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে বিমানের বছরে আয় ৩০০ কোটি টাকা। অথচ সেবার মান বৃদ্ধির দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই বললেই চলে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ে অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে...