89151_31
দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরস গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরকম বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিল-২০১৫ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এ সংক্রান্ত আইনের আলোকে বিলটিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। চূড়ান্ত বিলে এই আইনের অধীনে গতকাল সংসদ সচিবালয়ে কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভারত, বৃটেন, কোরিয়া, ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করে সেইসব দেশের আইনের আলোকে বিলটির উপর সংসদীয় সাব-কমিটির প্রতিবেদন বৈঠকে উত্থাপন করেন। কমিটির সদস্য বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মো. শামসুল হক টুকু, তালুকদার মো. ইউনুস, জিয়াউল হক মৃধা ও সফুরা বেগম বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশী-বিদেশী পুঁজি একত্রিত করে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে। কিন্তু আইন শুধু পাস করলেই হবে না। তা
আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। যাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে পারে। তাই বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত বিলে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরস গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেটা বাংলাদেশে প্রথম। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ১লা সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ওই দিনই বিলটি পাসের সুপারিশ বিলের উপর প্রতিবেদন সংসদে জমা দেয়া হবে। আগামী অধিবেশনেই বিলটি পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কমিটি সূত্র জানায়, অবকাঠামো নির্মাণসহ সেবাখাতে ব্যাপক বিনিয়োগের লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সৃষ্টির আইনি কাঠামো প্রদানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বিল-২০১৫ পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ১লা ফেব্রুয়ারি সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বর্তমানে পিপিপি’র আওতায় বিভিন্নখাতে ৪২টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, পিপিপি কার্যক্রমের পর্যালোচনা, তত্ত্বাবধান, প্রকল্পের অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বোর্ড অব গভর্নরস থাকবে। অর্থমন্ত্রী এই বোর্ডের সহ-সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এর সদস্য সচিব হবেন। পিপিপি প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকারের অর্থ বিভাগ, মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা প্রণোদনা ঘোষণা করতে পারবে। বিলে আরও বলা হয়েছে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বা জনসাধারণের বড় ধরনের কোন দুর্ভোগ দ্রুত নিরসনের প্রয়োজনে সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যে কোন প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প’ ঘোষণা করতে পারবে। এছাড়া, পিপিপি প্রকল্পে কোন বিরোধ দেখা দিলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

হাসন রাজাএক্সক্লুসিভ
দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দুর্নীতি বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পিপিপি কর্তৃপক্ষের বোর্ড অব গভর্নরস গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরকম বিধান রেখে সংসদে উত্থাপিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বিল-২০১৫ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটি পৃথিবীর...