1441080843
আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরগুলো (আইজিডব্লিউ) হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক কলরেট বাড়িয়ে দিয়েছে। দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে এটা করা হয়েছে দুই সেন্ট। বাড়তি এই চার্জের কোন রাজস্ব সরকার পাবে না। গেটওয়ে অপারেটরগুলো এই বাড়তি টাকা নিজেরাই ভাগাভাগি করে নেবে। অথচ গত বছরের সেপ্টেম্বরে আর্ন্তজাতিক কলরেট তিন সেন্ট থেকে কমিয়ে যখন দেড় সেন্ট করা হয়, তখন বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলে অবৈধ টার্মিনেশন (ভিওআইপি) বন্ধ করতে এ ব্যবস্থা। কলরেট কম থাকলে বৈধ চ্যানেলেই সব ফোন আসবে। এতে সরকারের রাজস্ব আপাত কম মনে হলেও কলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় তা পুষিয়ে যাবে। বাস্তবে কল কিছু বাড়লেও সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে শত শত কোটি টাকা। এখন আবার কলরেট বাড়িয়ে দেয়ায় বৈধ পথে কলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বাড়ছে অবৈধ ভিওআইপি। কমে যাচ্ছে সরকারের রাজস্বও।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে কাছে স্বীকার করেন- গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি মিনিটের বেশি কল কমে গেছে। এতে প্রতিদিন সরকার ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব কম পাচ্ছে। মাসে যেটা দাঁড়ায় ১৪ কোটি টাকার মতো। এখানেই শেষ নয়, আরো কমে যেতে পারে। রাজস্ব এভাবে কমে গেলে বিটিআরসি তো আর বসে থাকতে পারে না। দুই-এক দিনের মধ্যেই আমরা মন্ত্রণালয়ে এসব বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠাবো। এ মাসেই ওদের নবায়নের মেয়াদ শেষ হবে। তখন নতুন করে নবায়নের পাশাপাশি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন দিক-নির্দেশনা নিশ্চয় দেবে। তবে এটা সত্যি যে, এই সেক্টরে এখন শৃঙ্খলা এসেছে। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন। সরকারকেও তার রাজস্ব ঠিকভাবে পেতে হবে। কোন ব্যবসায়ী যেন সরকারকে রাজস্ব কম দিয়ে যেতে না পারে তা দেখা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট থেকে আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) আন্তর্জাতিক কলরেট দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে দুই সেন্ট করে দেয়। এই বাড়তি টাকা আবার সব আইজিডব্লিউ অপারেটর পাবে না। টায়ার-২-এ থাকা ৭টি আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান এই বাড়তি টাকা পাবে। এই বাড়তি কলরেট চালু হওয়ার পর থেকেই কমতে শুরু করেছে বৈধ কলের সংখ্যা। আগে যেখানে প্রতিদিন বৈধ কল আসত সাড়ে ১০ কোটি মিনিট, আর এই এক সপ্তাহেই কল কমে গেছে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি মিনিট। এখন আসছে সাড়ে ৯ কোটির মতো কল। প্রতিদিন এই বৈধ কল কিছু কিছু করে কমে যাচ্ছে। বৈধ কল কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্বও কমে যাচ্ছে। বৈধ পথে কল কমে যাওয়ার অর্থ অবৈধ পথে কলের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কলরেট বাড়ার ফলে বিদেশ থেকে যারা দেশে কল করবেন, তাদেরও খরচ বাড়বে।

আইওএমএফের সভাপতি এ কে এম শামসুদ্দোহা কল কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘এ কদিনে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কল কমেছে সত্য; কিন্তু এটা আবার বেড়ে যাবে। সরকারকে অবৈধ কলের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই বৈধ চ্যানেলে কল আসবে।’ কলরেট বাড়িয়ে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো অনেক টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে এই ব্যবসা করছি। কিছু লোকের মতো টাকা মেরে চলে যাচ্ছি না। ফলে এখান থেকে আমাদেরও তো ব্যবসা হতে হবে। না হলে এত টাকা বিনিয়োগ করে লাভ কি?’ তিনি গত শনিবারের কলের হিসাব দিয়ে বলেন, এ দিন আন্তর্জাতিক কলে এসেছে ৯ কোটি ৪০ লাখ মিনিট। আগে এই কলের পরিমাণ সাড়ে ১০ কোটি মিনিটের বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেন আইওএমএফ সভাপতি।

বলা হচ্ছে, সরকারের কোন অনুমতি না নিয়েই নিজেদের ইচ্ছে মতো কলরেট বাড়িয়ে দিয়েছেন আইজিডব্লিউ অপারেটররা। তবে সংগঠনটির সভাপতির দাবি, কল বাড়ানোর জন্য কারো অনুমতির দরকার নেই। আমরা বিটিআরসিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আগে সর্বনিম্ন কলরেট ছিল ৩ সেন্ট। আর এটা বাড়িয়ে ৫ সেন্ট করার সুযোগ ছিল আইনে। নতুন করে এটি সংশোধন হওয়ায় সর্বনিম্ন কল দেড় সেন্ট হয়েছিল। আর বাড়িয়ে কত করা যাবে তা বলা নেই। অতএব আগের জায়গা অর্থাত্ ৫ সেন্ট পর্যন্ত করতে কারো অনুমতি লাগবে না।

কয়েকদিন আগে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে বৈঠক করে আইওএফের নেতা বলেছেন, মোবাইল ফোনের কলরেট কমালে ভিওআইপি বেড়ে যেতে পারে। আইওএফের অন্যতম সদস্য এবং ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান ইমরান করিম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, অহেতুক কথা বলে সময় নষ্ট করার সুযোগ আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। এতে সমাজ এবং মূল্যবোধেরও ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, ‘সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য তো রাজস্ব আদায় নয়। কলরেট কমানোর সামাজিক প্রভাবটাও সরকারকে দেখতে হবে।’ তবে হঠাত্ করে আন্তর্জাতিক কলরেট দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে দুই সেন্ট করায় কোন প্রভাব পড়বে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈধ পথে কল কিছু কমে যেতে পারে; কিন্তু একটা সময় ঠিক হয়ে যাবে। ২০১৬ সাল নাগাদ এই সেক্টর থেকে সরকারের রাজস্ব অনেক বেড়ে যাবে বলে দাবি তার।

টেলিকম সংশি­ষ্ট একাধিক ব্যক্তি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সরকার কলরেট দুই সেন্ট করেনি, তাই রাজস্ব ভাগাভাগির টাকা সরকার দেড় সেন্ট থেকেই পাবে। ফলে কলরেট দুই সেন্ট হলেও (দেড় সেন্ট সমান ১ টাকা ১৭ পয়সা। আর দুই সেন্ট সমান ১ টাকা ৫৬ পয়সা।) আধা সেন্টের পুরোটাই অপারেটরদের পকেটে যাবে। এতে সরকার বছরে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। আইওএফ সভাপতিও ক্রাইম রিপোর্টার ২৪. কমের কাছে স্বীকার করলেন- বাড়তি টাকা তারাই ভাগ করে নেবেন।

দেশে মোট ২৩টি আইজিডব্লিউ অপারেটর থাকলেও গত ২৬ মার্চ গঠিত সংগঠন আইওএফ মধ্য থেকে ৭টিকে আন্তর্জাতিক কল পরিচালনার কর্তৃত্ব দেয় বিটিআরসি। এত দিন প্রতিটি আইজিডব্লিউ অপারেটরের কাছেই বিদেশ থেকে কল আসত; কিন্তু বিটিআরসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো আইজিডব্লি­উ অপারেটর আগের মতো সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না। তারা সরাসরি কোনো অপারেটরের সঙ্গেও কল আদান-প্রদান করতেও পারে না। এ কাজটি করছে সাত অপারেটর সুইচের ফোরাম (আইওএস) মাধ্যমে। ফলে এই বাড়তি আয়ের টাকাও ভাগ করে নেবেন এই সাত অপারেটর।

কলরেট অর্ধেক করার পর এই সেক্টরে মোট রাজস্বের ৪০ শতাংশ বিটিআরসি, ২০ শতাংশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান (আইজিডব্লিউ), ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান (আইসিএক্স) এবং ২২ দশমিক ৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অপারেটর বা এক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস (এএনএস) পাবে বলে নির্ধারণ করা হয়। আগে এ হার ছিল-বিটিআরসি ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আইজিডব্লিউ ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, আইসিএক্স ১৫ শতাংশ এবং এএনএস ২০ শতাংশ।

অর্ণব ভট্টপ্রথম পাতা
আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরগুলো (আইজিডব্লিউ) হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক কলরেট বাড়িয়ে দিয়েছে। দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে এটা করা হয়েছে দুই সেন্ট। বাড়তি এই চার্জের কোন রাজস্ব সরকার পাবে না। গেটওয়ে অপারেটরগুলো এই বাড়তি টাকা নিজেরাই ভাগাভাগি করে নেবে। অথচ গত বছরের সেপ্টেম্বরে আর্ন্তজাতিক কলরেট তিন সেন্ট থেকে কমিয়ে যখন দেড় সেন্ট...