Oporadher Dairy Theke
জামিন জালিয়াতি কিংবা বিচারকের কোনো আদেশ নয়, এবার জেলারের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে তারেক উদ্দিন নামের ভয়ঙ্কর এক আসামি। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।
সূত্র জানায়, জেলারের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তির কারণে কারা কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আদালতের আদেশ মোতাবেক আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর জন্য বুঝিয়ে দিতে পারেনি। তাই তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. শহিদুল্লাহ ১৬ জুলাই এ বিষয়ে লিখিতভাবে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের কাশিমপুর দুই নম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক ২৭ জুলাই লিখিতভাবে আদালতকে জানান, ‘অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের বিষয়টি সহানুভূতির সহিত বিবেচনা করার অনুরোধসহ ক্ষমা করার প্রার্থনা করছি।’ পরে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন দেখে ঢাকা মহানগর হাকিম আসুদুজ্জামান নূর আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য করেন। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১৯ মে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার উত্তরা ব্যাংকের সামনে ফ্লাইওভারের পশ্চিম মাথায় মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ব্যবসায়ী জহির উদ্দিনের রিকশার গতি রোধ করে। এ সময় জহিরের সঙ্গে থাকা ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকার একটি কালো রঙের ব্যাগ ধরে তারা টানাটানি করে। ব্যাগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ব্যক্তি তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ব্যবসায়ী জহিরের হাত, পা ও পেটে পর পর তিনটি গুলি করে টাকা নিয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকা মেডিকেলে নিলে চিকিৎসকরা জহিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত জহিরের ভাই জুবায়ের হাসান বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। এ মামলায় আসামি তারেক উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দিন রিমান্ডের আদেশ পায় সিআইডি পুলিশ। কিন্তু রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আগেই একাধিক মামলার আসামি তারেক উদ্দিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লাপাত্তা। সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের রামু থানার রশিদনগর সিকদারপাড়ার মৃত সেলিম উদ্দিনের ছেলে তারেক উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন বিচারক। পরে রিমান্ডে আনার জন্য ৩০ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গেলে তারা জানায়, আসামি তারেক উদ্দিনকে (হাজতি নম্বর-১৩৩৩২/১৫) গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২-এ পাঠানো হয়েছে। পরে আদালতের আদেশ নিয়ে ১ জুলাই কাশিমপুরে গেলে সেখানকার ডেপুটি জেলার আদালতের আদেশের উল্টো দিকে লিখে দেন, আসামি তারেক উদ্দিনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজিরার জন্য পাঠানো হলেও তাকে রিমান্ডে দেওয়া সম্ভব হলো না। এরপর আবার ১১ জুলাই আসামি তারেক উদ্দিনকে আনার জন্য গেলে তার স্থলে অন্য এক হাজতিকে বুঝিয়ে দিতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় ওই হাজতির নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তার নাম তারেক উদ্দিন নয়। এ ছাড়া আসামি তারেক উদ্দিনের পাসপোর্ট সাইজের ছবির সঙ্গে হাজির করা আসামির মিল পাওয়া যায়নি। পরে গোগন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আসামি তারেক উদ্দিন কারাগারে নেই। চলতি বছরের মে মাসের ৮ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে যে কোনো দিন অন্য মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ম্যানেজ করে তার স্থলে তারেক উদ্দিন মিথ্যা নাম বলে জামিনপ্রাপ্ত আসামি সেজে কারাগার থেকে বের হয়ে গেছে।কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিদের কারাগারে নেওয়ার সময় দুই আসামি মিলেমিশে একজনের স্থলে অন্যজনের পরিচয় দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরে কারাগারে আসামি আনার সময় তারেক নিজের নাম গোপন করে মো. হোসেন সেজে পরিচয় দেন। সে অনুয়ায়ী ভর্তি রেজিস্টারে একজনের স্থলে অন্যজনকে শনাক্ত করে লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে রাজধানীর কাফরুল থানার ১৩(৩)১৫ নম্বর মামলায় হাজতি আসামি মো. হোসেনের জামিননামা কারাগারে এলে তাকে মুক্তির জন্য ডাকা হয়। এ সময় আসামি তারেক পরিচয় গোপন করে নিজেকে মো. হোসেন সাজিয়ে উপস্থিত হয়। পরে নাম-ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সঠিক পাওয়ায় কারাগারে কর্মরত জেলার আসামিকে জামিনে মুক্তি দেন। কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘তবে আসামি তারেকের মুক্তির বিষয়ে কারাগারের কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির বিষয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানায় আসামি তারেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধসহ ক্ষমা করার প্রার্থনা করছি।’

হাসন রাজাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
জামিন জালিয়াতি কিংবা বিচারকের কোনো আদেশ নয়, এবার জেলারের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে তারেক উদ্দিন নামের ভয়ঙ্কর এক আসামি। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে। সূত্র জানায়, জেলারের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তির কারণে কারা কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আদালতের আদেশ মোতাবেক আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর জন্য বুঝিয়ে দিতে পারেনি। তাই...