1436896016
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোটের তথাকথিত আন্দোলনের নামে গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াও এবং অগ্নি সন্ত্রাসের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ওই সময় বাস, রেল ও লঞ্চ জ্বালিয়ে নাশকতা না চলালে এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষ আরো স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারতেন, দেশবাসীর ঈদযাত্রা আরো সুখকর হতো। গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ৩ মাসের অধিক সময় বিএনপি-জামায়াত জনগণের জানমালের যে পরিমাণ ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করেছে তা বর্ণনাতীত। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের মতো এমন নৃশংসতা আর কখনো দেখিনি। বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষেই এ ধরনের নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব।

উদ্বোধনকৃত ৭ উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে- বান্দরবানে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়ক থানচি-আলী কদম সড়ক, রংপুর বিভাগীয় সড়কের ১৬ কিলোমিটার ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ঢাকায় বিরলিয়া-আমুলিয়া হাইওয়ে, বিরলিয়া সেতু এবং রাষ্ট্রীয় খাতে নির্মিত যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতি ও দুইটি নতুন ফেরি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পার্বত্য অঞ্চলের থানচি-আলী কদম সড়ক। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্গম বনাঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রচলন ঘটেছে অনেক আগেই। আর এবার উন্নয়নের সেই ধারায় যোগ হলো দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার ৩৩ কিমি দীর্ঘ থানচি-আলীকদম সড়ক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তৈরি এ সড়কটি দেশের সবচেয়ে উঁচুতে স্থাপিত। এসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এবারের ঈদে যাত্রী সাধারণের জন্য ঈদ উপহার হিসাবে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন-বিআইডব্লিউটিসির একটি যাত্রীবাহী জাহাজ এমডি মধুমতি এবং ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা রো রো ফেরি’ ও ‘কুসুমকলি’ ফেরির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী নদী খননের নির্দেশ দিয়ে বলেন, অদূর ভবিষ্যতেই বাংলাদেশ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবে। নৌ-পথে স্বল্প খরচে যাত্রী ও পণ্য পরবিহনের সুযোগ থাকায় এ পথকে জনপ্রিয় করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নৌ-পথকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছি। রংপুরের মহাসড়ক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রংপুর সবসময়ই অবহেলিত ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই মঙ্গা দূর হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ২ হাজার বাস ধ্বংস করেছে এবং রেলগাড়ি জ্বালিয়েছে, রেল লাইন উপড়ে ফেলেছে। তাদের আগুন সন্ত্রাস থেকে লঞ্চও রেহাই পায়নি। বাংলাদেশ যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে এ লক্ষ্যে বাজেট ও অন্যান্য প্রকল্প আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ক্ষমতায় এলেই কেবল দেশের উন্নতি হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে; কিন্তু এতে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হবো। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন তিনি। সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব দিক দিয়েই মানুষের উন্নয়ন তরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের স্কুল কলেজগুলোকে আবাসিক করে দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংস রাজনীতির অবসানে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির পর থেকে সেখানকার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট শান্তি চুক্তির বিরোধিতা ও পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করেছে। শুধু তাই নয়, বিএনপি-জামায়াত জোট এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা এবং হরতাল ডেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আলীকদম যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়নে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশবাসীও উপকৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে শিপিং সেক্টর নতুন জীবন পেয়েছে। তিনি এই খাতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নৌ-মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ খাতের আরো উন্নয়নে নতুন জাহাজ ও স্টিমার চালু করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তরিক প্রচষ্টায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় থানচি-আলিকদম মহাসড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা না হলে এই মহাসড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। প্রত্যন্ত উঁচু ভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় এই মহাসড়কটি নির্মিত হয়েছে।

গণভবনে এ অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার মেজর জেনারেল শফিকুর রহমান, সড়ক পরিবহন মন্ত্রাণালয়ের যুগ্ম-সচিব শফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল ওহাব, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার নকিব আহম্মদ চৌধুরী প্রমুখ।

শুভ সমরাটজাতীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াত জোটের তথাকথিত আন্দোলনের নামে গত ৬ জানুয়ারি থেকে টানা ৯২ দিন জ্বালাও-পোড়াও এবং অগ্নি সন্ত্রাসের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ওই সময় বাস, রেল ও লঞ্চ জ্বালিয়ে নাশকতা না চলালে এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষ আরো স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারতেন, দেশবাসীর ঈদযাত্রা আরো সুখকর হতো।...