20130127-192317_110822
দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পাঁচবার আসীন হওয়া অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল গত ২৫ বছরে অসংখ্য ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন দলটির সাধারণ নেতা-কর্মীদের। এ জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় নেতা-কর্মীদের জীবন দিয়েও চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এসব ভুলে সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হয়েছে জিয়া পরিবারের সদস্যদের। দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে তার পত্নী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বড় ছেলে তারেক রহমান পিনু ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে পর্যন্ত হাড়ে হাড়ে মাশুল দিতে হয়েছে।
এর মধ্যে ওয়ান-ইলেভেনের ঝড় তছনছ করে দিয়েছে পরিবারটিকে। ওলটপালট হয়ে গেছে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ত্যাগী নেতা-কর্মীরা মনে করেন, এসব ভুলের কারণে বাবার মতোই অকালে জীবন দিতে হয়েছে ছোটো ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে। আর নিজের অনুগত মনে করে সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত এক কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের জালে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। বিএনপি ও তার সরকারের সময়ে সংগঠিত অসংখ্য ভুলের মধ্যে নেতা-কর্মী ও বিশ্লেষকদের চোখে মোটা দাগে ১০০টি ভুল উঠে এসেছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে এসব ভুলের ফিরিস্তি পাওয়া গেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকারে স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়াটা ছিল বিএনপির চরম ভুল সিদ্ধান্ত। অথচ এর আগে ’৯১ সালের নির্বাচনের পর বামদলগুলো বিএনপিকে সমর্থন দিতে চাইলেও বিএনপি তা গ্রহণ না করে দুজন মহিলা এমপি বিনিময়ের মাধ্যমে জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধে। এ ছাড়া তখন স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত আবদুর রহমান বিশ্বাসকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদ রাষ্ট্রপতির আসনে বসানোটাও বিএনপির একটি বড় ভুল ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে যেনতেনভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টাকে এমপি বানানোটাকেও ভুল চোখেই দেখছেন দলের বিজ্ঞমহল। ক্ষমতায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ভুল করে তার আরেকটি উদাহরণ হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আরেক রাজনৈতিক সচিব এম হারিছ চৌধুরী। স্বপদে থাকাকালে সরকারের এমন কোনো সেক্টর ছিল না, যেখানে তার বামহস্ত প্রবেশ করেনি। অর্থ ও সম্পদের বিরাট পাহাড় গড়ে তোলার পর দল ও জিয়া পরিবারের সদস্যদের চরম বিপদের মুখে ফেলে এমনভাবে উধাও হলেন, আজও তার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ২০০১-২০০৬ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে রাজধানীর বনানীতে স্থাপিত হাওয়া ভবনে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের আশপাশে থাকা কতিপয় বিতর্কিত ব্যক্তির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়াটাকেও চরম ভুল বলে মনে করেন দল ও দেশের বেশির ভাগ মানুষ। যদিও সেটিকে হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্ট সেই বিতর্কিত ব্যক্তিরা এখনো সঠিক বলেই মনে করেন এবং এখন আবার নতুন করে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশপাশেই ভিড় করার চেষ্টা করছেন তারা। এ ছাড়া দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে অপসারণসহ দল থেকে বিতাড়নের সিদ্ধান্তকে সিনিয়র নেতাদেরও একটি বড় অংশ চরম ভুল বলেই মনে করেন। তাদের মতে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় এ ধরনের চরম ভুলের খেসারতই দিতে হয়েছে ইয়াজউদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়ে। ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরবর্তী সময়ে জেল থেকে বেরিয়ে জামায়াতের প্রলোভনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে যাওয়াটাকে খালেদা জিয়া নিজেই এখন ভুল বলে অভিহিত করেন। এরপর ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে থেকে যখন সারা দেশ সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ঠিক সেই মুহূর্তে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি ঘোষণাকে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীই একটি চরম আত্মঘাতী কর্মসূচি হিসেবে এখনো মনে করেন। এই কর্মসূচি ডেকে দেশব্যাপী আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের ঢাকায় ডেকে এনে বিপদে ফেলার পেছনে বিএনপি এবং গুলশান কার্যালয়ের যারা ছিলেন তাদের দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরদিন থেকেই একেবারে আন্দোলনের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়ে নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তটিকেও চরম ভুল বলে আখ্যায়িত করেন দলের নীতিনির্ধারকরা। অতঃপর ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি দলীয় চেয়ারপারসন গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কোনো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি প্রদানও যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির সেটিও এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সে নির্বাচনে দলের ডাকসাইটে প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন নেতার বদলে তার ছোটো ছেলেকে প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্তকেও ভুল বলেই মনে করেন দলীয় নীতিনির্ধারক মহল। এ ছাড়াও ২০১২ সালের অক্টোবরে ভারত সফরকালে সে দেশের রাষ্ট্রপতির উষ্ণ আতিথেয়তা গ্রহণ শেষে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসে ২০১৩ সালের মে মাসে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরকালে তার সঙ্গে শিডিউল থাকা সত্ত্বেও দেখা না করাটা ছিল বিএনপির একটি চরম ভুল। বিএনপি ও জোট সরকারের আরও বেশ কিছু বড় ধরনের ভুলের মধ্যে ছিল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ভুল ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান। যেমন- ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিযুক্ত মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী ছিলেন ভাসানী ন্যাপের কর্মী, একান্ত সচিব নুরুল ইসলাম ছিলেন মুজাফ্ফর ন্যাপের কর্মী, সহকারী একান্ত সচিব শামসুল আলম ছিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী, আবদুল মতিন ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী। এরা সবাই ১/১১-এর পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকী ও অন্য ব্যক্তিগত স্টাফরা বিএনপিকে বলতেন বিধবা নারীর দল, বেসিকেলি নো পার্টি। বিএনপি সরকারের সময় ঢাকায় জেলা প্রশাসক হয়েছে পাঁচজন। তার মধ্যে চারজনই ছিলেন জামায়াতী, একজন সাবেক মহাসচিব মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার অনুগত। অথচ দলীয়করণের নির্মম বদনাম পড়েছে বিএনপির সরকারের ওপরই। এক সময় ছাত্রদল করতেন এমন কোনো কর্মকর্তা বিএনপি আমলে ঢাকা জেলার প্রশাসক হওয়া তো দূরের কথা, ভালো কোনো পোস্টিংও পাননি। বিএনপির ভুলের আরেকটি নির্মম পরিহাস হচ্ছে- সরকারের সচিব সোহেল আহম্মদ, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই সচিব তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। আর একজন সচিব সহিদুল আলম, ১৯৯৭ সালে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা শুরু করেন। সেই সচিব ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চার বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিগত বিএনপি সরকারের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল কর্মী জয়নালের হত্যাকারী পুলিশের একজন কর্মকর্তা, যার বাড়ি ছিল ভোলা জেলায় এবং তিনি গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের লোক হিসেবে পরিচিত।বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, বাংলাদেশের দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদে (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ২০০৪ সালে ইন্টারভিউ দিয়ে নিজ যোগ্যতায় প্রথম হওয়ার পরও পোস্টিং পাননি একজন অনন্য মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রদলের ফাউন্ডার সদস্য ছিলেন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত সচিবও ছিলেন। বিএনপি রাজনীতির সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- সরকারে থাকাকালে যাকে যে পদে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে, তিনি কখনোই জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে ছিলেন না এবং বেগম খালেদা জিয়ার আশপাশে থাকা ব্যক্তিরা হয় মোটা অংকের অর্থ কিংবা বৃহৎ কোনো সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোভনীয় পদগুলো বণ্টন করেন। এ ছাড়াও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং জেদ্দায় (প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলামের অধীনস্থ) বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পদে ইন্টারভিউ দিয়ে প্রথম হওয়ার পরও নগদ আর্থিক ঘুষ না দেওয়ার কারণে খালেদা জিয়ার সাবেক একজন একান্ত সচিব মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পোস্টিং পাননি। অথচ এসব পদে যারা পোস্টিং পেয়েছিলেন, এদের কেউ ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতি করেননি। বরং কেউ ছাত্র ইউনিয়ন অথবা কেউ আওয়ামীপন্থি ছাত্রলীগ করতেন। তারা সবাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সুবিধা বিনিময়ে এসব লোভনীয় পদ লাভ করেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হাসান আহমদ। বাড়ি ফেনী জেলায়। জি-১০ (এরশাদ)-এর মেম্বার ছিলেন তিনি। ’৯৬-এ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে জনতার মঞ্চে আন্দোলন চলাকালে তিনি আমেরিকায় পালিয়ে যান। এরপর ২০০১-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফিরে আসেন এবং রাজনীতির হাওয়া বুঝে হাওয়া ভবনে যাতায়াত শুরু করেন। অতঃপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায়ই এই সুবিধাবাদী ব্যক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে আমেরিকায় গিয়ে থেকে যান। তিনি আর দেশে ফেরেননি। অন্যদিকে জেনারেল (অব.) মাসুদ ছিলেন মূলত আধাসামরিক বাহিনী তথা রক্ষীবাহিনীর একজন কর্মকর্তা। নিকটাÍীয় ভেবে খালেদা জিয়ার শাসনকালে যে মেজর জেনারেল মাসুদকে ৯ম ডিভিশনের প্রধান করা হয়েছিল, সেই জেনারেলই ১/১১ ঘটনার জন্ম দিয়ে আরেক পরিহাস করেন। যে দুজন সেনাপ্রধানের ওপর বেগম জিয়া নির্ভরশীল ছিলেন তারা দুজনেই তার সঙ্গে ১/১১ এর ঘটনার মাধ্যমে এমন বেইমানি করেন। দশ বছর দলের মহাসচিব পদে রেখে খালেদা জিয়া যাকে রাজনীতিতে অত্যধিক সম্মানে ভূষিত করেছেন সেই (প্রয়াত) আবদুল মান্নান ভূঁইয়াই ১/১১ এর পর খালেদা জিয়াকে সংস্কারের নামে রাজনীতি থেকে উৎখাতের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। আর তারেক রহমান যাদের তুলে এনে এমপি, মন্ত্রী বানিয়েছিলেন ১/১১ পরবর্তী সময়ে তারাই তারেকের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছেন।অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর ছিলেন ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক। যিনি জেনারেল জিয়াকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। তাকে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে দুটো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন একসঙ্গে। সেই মেজরই ১/১১ এর পরে পুনর্বার বিএনপি ভাঙার উদ্যোগ নিয়ে আবারও তিরস্কার করলেন। এ ছাড়াও তার (খালেদার) দল বিএনপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা জীবন দিয়ে দলকে ক্ষমতায় আনেন, আর দলের নেতারা অন্য আদর্শের লোকদের কুটুম বানিয়ে একসঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। বিএনপির ইতিহাসে এমন নির্মম ভুল সিদ্ধান্তের শত শত কাহিনী আছে বলে মনে করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। আছে ‘বানরের গলায় মুক্তার মালা পরানোর’ এবং হাজার হাজার কর্মীর বঞ্চনা আর বোবাকান্নার কাহিনী। তবে মানুষ সব সময়ই রাষ্ট্রক্ষমতার মোহে অন্ধ আচরণ করে থাকে। বিএনপিরও সেই একই অবস্থা হয়েছিল তখন।এখনো সেই ভুলের ধারাই অনেকাংশে অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের। দলের জন্য ক্ষতিকর ব্যক্তিরাই এখনো শীর্ষ দুই নেতার চারপাশে অক্টোপাশের মতোই ঘিরে আছেন বলে বারবার অভিযোগ করেছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের কয়েকজন বলেন, আর সময় নষ্ট না করে দলের জন্য ক্ষতিকর ব্যক্তিদের অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে অপসারণ করা এখন সময়ের দাবি। লন্ডন সফর শেষে দেশে ফেরার পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই কার্যালয়ের স্ট্রাকচার পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক সংস্কারের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা করছেন তারা।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/20130127-192317_110822.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/20130127-192317_110822-300x300.jpgঅর্ণব ভট্টপ্রথম পাতা
দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পাঁচবার আসীন হওয়া অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল গত ২৫ বছরে অসংখ্য ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন দলটির সাধারণ নেতা-কর্মীদের। এ জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় নেতা-কর্মীদের জীবন দিয়েও চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এসব ভুলে সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হয়েছে জিয়া পরিবারের সদস্যদের। দলের...