1442153036
চলতি অর্থবছরে নতুন তিন লাখ ২০ হাজার করযোগ্য আয়ের ব্যক্তিকে নিজেদের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য চলতি মাসেই রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ কাজ শুরু করবে সংস্থাটি।

করদিতে সক্ষম নতুন ধনিক শ্রেণীকে করের আওতায় আনতে এনবিআর এ কার্যক্রম শুরু করছে বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সব করাঞ্চলে করদাতা বাড়ানোর জন্য এনবিআর নিয়মিতভাবে জরিপ পরিচালনা করে থাকে। তবে এবার এর সঙ্গে ভিন্ন মাত্রা যোগ হচ্ছে। ঢাকার অভিজাত এলাকায় যেসব দোকানপাট, ঘরবাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে করদাতা অনুসদ্ধান করা হবে। এ জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ যৌথভাবে বিশেষ এই জরিপ কাজ পরিচালনা করবে। নিয়মিত জরিপের বিষয়টিও এ বছর খুব গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনীতি ক্রমেই বড় হচ্ছে। অথচ করযোগ্য অনেকেই করের আওতায় নেই। এসব ব্যক্তি যাতে করের বাইরে না থাকে সেজন্য ব্যাপকভাবে জরিপ কাজ শুরু করেছে রাজস্ব বোর্ড।

তিনি জানান, সরকার ২০১৮ থেকে ১৯ সালের মধ্যে করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখে উন্নীত করতে চায়। ক্রমান্বয়ে করদাতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নজিবুর রহমান বলেন, করদাতা বাড়াতে এনবিআরে জনবল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে রাজস্ব সংলাপ শুরু করেছি। চেম্বারগুলো এ বিষয়ে এনবিআরকে সমহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরের সহযোগিতায় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রিয় কর জরিপ অঞ্চল বিশেষ এই জরিপ কাজ পরিচালনা করবে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জরিপ পরিচালনার প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোধ্যে শুরু করেছে।

এ ছাড়া এনবিআর জরিপ কার্যক্রম-২০১৫’র আওতায় ২৯ কর অঞ্চলকে ২০ হাজার করে নতুন করদাতা অনুসন্ধানের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কর অঞ্চলগুলো প্রতিবছরের ন্যায় নিজেদের মতো কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে জরিপ অভিযান পরিচালনা করবে। এর অংশ হিসেবে জরিপ পরিচালনায় প্রায় সাড়ে তিনশ’র অধিক কর সার্কেলে বিশেষ জরিপ টিম গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি টিম তার আওতাধীন এলাকায় সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন জরিপ চালাবেন। আর নতুন করদাতাদের আয়কর নথি চালু করে প্রতি মাসে এনবিআরে পাঠাতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৮ লাখ আয়কর বিবরনী জমা দেন। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর থেকে আসবে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য বাড়তি রাজস্ব আদায়ে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।

হীরা পান্নাপ্রথম পাতা
চলতি অর্থবছরে নতুন তিন লাখ ২০ হাজার করযোগ্য আয়ের ব্যক্তিকে নিজেদের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ জন্য চলতি মাসেই রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ কাজ শুরু করবে সংস্থাটি। করদিতে সক্ষম নতুন ধনিক শ্রেণীকে করের আওতায় আনতে এনবিআর এ কার্যক্রম শুরু করছে বলে ক্রাইম...