1440519418
নতুন করে বাড়ছে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ভাড়া। সড়ক ও জনপথ অধিপ্তরের (সওজ) আওতাধীন টোলের হার বাড়ায় এর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস ভাড়া বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন দূরপাল্লার ৩৮০টি রুটে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিআরটিএ। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, টোলের বর্ধিত হার যোগ করে নতুন করে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। শিগগির এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ ছাড়া ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে পরিবহন নেতাদেরও চাপ রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর গাবতলী থেকে ৬১টি, মহাখালী থেকে ৬০টি এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ৮৭টি গন্তব্যে বাস চলাচল করে। এছাড়া আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস মিলে মোট রুটের সংখ্যা ৩৮০। সব রুটেই টোলজনিত বাস ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, যেসব রুটের সেতুতে টোল বাড়েনি অথবা টোল নেই সেখানে আগের ভাড়া বহাল থাকবে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সিদ্ধান্তের খবরে সব রুটেই বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়ে যেতে পারে। কারণ অনেক পরিবহন ব্যবসায়ীর মধ্যে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার হার মানার প্রবণতা কম।
সড়ক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, টোল নীতিমালা-২০১৪ কার্যকরের পর ভাড়া পুনঃনির্ধারিত করতে গত ২৬ জুলাই বিআরটিএর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর আগে টোল বাড়ানোর পর পরিবহন নেতাদের সঙ্গে গত ১০ জুন বৈঠক করে মন্ত্রণালয়। সেখানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, টোল নির্ধারণের আগে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়নি। নতুন টোল কার্যকর করতে হলে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করতে হবে। একই বৈঠকে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, টোল বাড়ানোর সঙ্গে বাস ভাড়া বাড়াতে হবে। মূলত পরিবহন নেতাদের দাবির মুখেই নতুন করে বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ধিত ভাড়ার আওতামুক্ত থাকবে রাজধানীতে চলাচলরত যাত্রীবাস বাস-মিনিবাস। ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যয় বিশ্লেষণের ২৬টি বিষয় আছে। বাস ভাড়া নির্ধারণে ২৬টি উপ-খাতের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়। এর একটি টোল। আগের ভাড়া নির্ধারিত ছিল টোলের পূর্ব হার অনুযায়ী। নতুন টোল নীতি অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল ২৫ ভাগ বেড়েছে। ভাড়া বাড়ানোর সময়ও এ হার যুক্ত করা হচ্ছে। আগের ব্যয় বিশ্লেষণে পরিবহনে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়ায় ১ টাকা ৩২ পয়সা। এর সঙ্গে মালিকদের ১০ শতাংশ মুনাফা ধরে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ টাকা ৪৫ পয়সা। বড় বাসে প্রতি কিলোমিটারের নির্ধারিত ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা। টোল বৃদ্ধির ফলে কিলোমিটারে ভাড়া বাড়বে না, তবে টোলের বর্ধিত হার যুক্ত হবে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিগত মহাজোট সরকারের সময়ে রাজধানীতে দুই দফা বাস ভাড়া বাড়ানো হয়। কিন্তু নতুন ভাড়ার হার কার্যকরের পর বাস-মিনিবাসে ভাড়ার যে তালিকা লাগানো হয়, তাতেও ছিল শুভংকরের ফাঁকি। এখন অধিকাংশ বাস-মিনিবাসে ভাড়ার তালিকাও নেই। দূরপাল্লার পথ অথবা ঢাকার রাস্তার প্রায় প্রতিটি পথে সরকার নির্ধারিত হার না মেনে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, বাসের ভাড়ার হার নির্ধারণের উপাদানগুলোর মধ্যে যাত্রীর ‘গড় বোঝাই’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভাড়া নির্ধারণের কমিটিতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সংখ্যায় বেশি থাকায় তারা ভাড়া নির্ধারণী বৈঠকে চাপ দিয়ে বাসের গড় বোঝাই কমিয়ে আনতে বাধ্য করেন। এতে ভাড়ার হার বেড়ে যায়।
বিদ্যমান ভাড়ার হার নির্ধারণে গড় যাত্রী বোঝাই দেখানো হয়েছে ৭০ শতাংশ। সে হিসাবে ৩১ আসনের একটি মিনিবাসে ২২ জন এবং ৫১ আসনের বাসে ৩৬ জন যাত্রী বোঝাই হলেই সরকারনির্ধারিত ভাড়া আদায়ের শর্ত পূরণ হয়। কিন্তু মিনিবাসে ৩১ আসনের কথা বলা হলেও আসন করা হয় ৪০টি, বাসে করা হয় ৬০টি। পাশাপাশি বাস-মিনিবাসে দাঁড়ানো যাত্রীও নেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার হার অর্ধেক হয়ে যাবে। কারণ, ৩ শতাংশ যাত্রী বোঝাই বেড়ে গেলে ভাড়া কমে যায় প্রায় পাঁচ পয়সা।
ধরা যাক, ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৪৫ পয়সা হিসেবে চালক ছাড়া ৫১ আসনের বিবেচনায় ভাড়া দাঁড়ায় ১৪৭.৯০ টাকা। টোলসহ ভাড়া ১৫৫ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে কমপক্ষে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা। একইভাবে সায়েদাবাদ থেকে সিলেটের দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। টোলসহ ভাড়া দাঁড়ায় ৩৭৮.৩১ টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। এরকম গাবতলী থেকে ফরিদপুরের দূরত্ব ১০৯ কি.মি.। ভাড়া দাঁড়ায় ১৫৯ টাকা এবং টোলসহ ১৮৫.৫৩ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে কমপক্ষে ২২০ টাকা। সে হিসাবে টোলের অজুহাতে ভাড়া বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের যুক্তি, বিদ্যমান ভাড়া নির্ধারণের সময় অতিরিক্ত ব্যয় ধরা আছে।
যাত্রীরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ভাড়া নির্ধারণীসহ পরিবহন সেক্টরের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব প্রতিনিধিদের রাখা হচ্ছে না অনেক আগে থেকেই। এরপর এতদিন নামকাওয়াস্তে যাত্রী কল্যাণ সমিতির একজন প্রতিনিধি রাখা হত। খুব বেশি ফল না হলেও সংগঠনের মহাসচিব বৈঠকে অংশ নিয়ে যাত্রীদের পক্ষে কিছু বলা চেষ্টা করতেন। সে সুযোগেও বাগড়া দিয়েছেন পরিবহন নেতারা। তাদের চাপে পড়ে যাত্রীদের প্রতিনিধিকে বৈঠকে রাখতে দেখা যায় না। এর জেরে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার হার না মানা, একই দূরত্বে বাস-মিনিবাসভেদে ভিন্ন ভাড়া আদায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নৃপেন পোদ্দারপ্রথম পাতা
নতুন করে বাড়ছে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ভাড়া। সড়ক ও জনপথ অধিপ্তরের (সওজ) আওতাধীন টোলের হার বাড়ায় এর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস ভাড়া বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন দূরপাল্লার ৩৮০টি রুটে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিআরটিএ। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, টোলের...