1439581464
মাসে কোটি টাকা চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বেই রাজধানীর বাড্ডায় ট্রিপল মার্ডার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার আদর্শনগরে প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হয়েছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুদ্দিন মোল্লা (৫৩) ও হাফ জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার ও আওয়ামী লীগ কর্মী ফিরোজ আহমেদ মানিক (৪২)। এ সময় গুলিবিদ্ধ ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তরের সহসাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক মাহবুবর রহমান গামা (৪২) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার সকালে মারা গেছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ বাড্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি আবদুস সালাম বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন আছেন।

এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এ নিয়ে তিন জন নিহত হলেন। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি। বাড্ডা থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত গামার নামে ৪টি ও শামছুদ্দিন মোল্লার নামে ৩টি মামলা রয়েছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মধ্য বাড্ডায় গার্মেন্টস, নির্মাণাধীন বাড়ি ও ফুটপাত থেকে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে এই কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।

বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

নেপথ্য কাহিনী: গত ৩ মে বাড্ডা জাগরণী ক্লাবে ঢুকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালালে মোফাজ্জল হোসেন রাহিন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। জানা গেছে, বাড্ডা আফতাবনগর পশুরহাটে চাঁদাবাজির ৯০ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ঐ সময় ক্লাবে একটি বৈঠক বসেছিল। আফতাবনগর এলাকার সন্ত্রাসী জয়নাল গ্রুপ পশুরহাট নিয়ন্ত্রণ করে। এর পাশাপাশি বাড্ডার উজ্জ্বল গ্রুপ ও জাহাঙ্গীর-আলমগীর গ্রুপ এই ৯০ লাখ টাকার একটি অংশ দাবি করেছিল। ঐ টাকা ভাগবাটোয়ারার মধ্যস্থতাকারী ছিল বাড্ডার আদর্শনগর এলাকার যুবলীগ নেতা বাউল সুমন।

সূত্র জানায়, বাউল সুমন মধ্য বাড্ডা এলাকার গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। জাগরণী ক্লাবে গুলির ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরদিন রাতে আদর্শনগর এলাকায় প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় অসুস্থ হয়ে বাউল সুমন মারা যান। এরপর থেকে বাউল সুমনের ঝুট ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও এলাকার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালান স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবর রহমান গামা। তিনি মধ্য বাড্ডার আদর্শনগর ও ওয়াসা পাম্প এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণেও নেন। অন্যদিকে বাউল সুমনের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা চালায় উজ্জ্বল ও জাহাঙ্গীর গ্রুপ। এরই মধ্যে বাউল সুমনের নিয়ন্ত্রিত স্টার গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসাও গামার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার উজ্জ্বল-জাহাঙ্গীর গ্রুপের সঙ্গে গামা প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে গামা এলাকার আধিপত্য ধরে রাখতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের ঘোষণা দেন। এ নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করার সময়ই বৃহস্পতিবার রাতে ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ফিরোজ আহমেদ মানিক ও শামছুদ্দিন মোল্লার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মানিকের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পটিয়া গ্রামে। মধ্য বাড্ডার আদর্শনগরে একটি ফ্ল্যাটে মানিক সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। তার স্ত্রীর নাম লায়লা আহমেদ। তাদের রুহি ও ঝুমা নামে দুই মেয়ে আছে। অন্যদিকে মধ্যবাড্ডার আদর্শনগরের ৪০/বি নম্বর বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন মাহবুবর রহমান গামা। নিহত শামছুদ্দিন মোল্লার বাড়ি ৪৬২, মধ্য বাড্ডায়। তার চাচা নূরুজ্জামান মোল্লা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে অভিযোগ করেন, পারিবারিকভাবে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে কারা তার ভাতিজাকে হত্যা করেছেন তা তিনি জানেন না।

এদিকে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নিহতদের লাশ দেখতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ঘটনার পর থেকে তারা বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন, এটা রাজনৈতিক হামলা নয়। বাড্ডা এলাকায় দলে কোনো কোন্দল নেই। যারা ১৫ আগস্টের দিন কেক কেটে আনন্দ করে, তারাই মাঠ থেকে বিতাড়িত হয়ে এই গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে।

তাহসিনা সুলতানাপ্রথম পাতা
মাসে কোটি টাকা চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বেই রাজধানীর বাড্ডায় ট্রিপল মার্ডার হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এলাকার আদর্শনগরে প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হয়েছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুদ্দিন মোল্লা (৫৩) ও হাফ জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার ও আওয়ামী লীগ কর্মী ফিরোজ আহমেদ মানিক (৪২)। এ সময় গুলিবিদ্ধ ঢাকা মহানগর...