84171_f6
রাস্তায় রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত। এই স্রোত যেন বাঁধভাঙা। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যে যেভাবে পারছে বাড়ির দিকে ছুটছে। সবার গন্তব্য এখন গ্রাম। সড়কগুলোতে রয়েছে ব্যাপক যানজট। এতসব দুর্ভোগের পরেও উৎসবমুখোর মনেই বাড়ি ফেরছে মানুষ। যানবাহনের ভেতরে এবং ছাদে ঘরমুখো মানুষের ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থা। আজ শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি। তাই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই ব্যস্ত নগর ছেড়ে গন্তব্যের পথে রয়েছেন মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জনস্রোতে রূপ নেয়। অনেকে আবার আগেই পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে নাড়ির টানে মানুষ ঢাকার বাইরে যাওয়ায় ফাঁকা হয়ে গেছে চিরচেনা রাজধানী। এদিকে মহাসড়কে যানজটের কারণে বাসগুলো ঢাকায় দেরিতে আসছে। বাস ও ট্রেন সময়মতো স্টেশনে না পৌঁছায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ট্রেনে ওঠার জন্য রীতিমতো যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন যাত্রীরা। ট্রেনের ভেতর সিট বা দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে শত শত যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। যদিও ছাদে উঠা নিষিদ্ধ। তবে, পথে চরম ভোগান্তি পোহালেও যাত্রীদের চোখে মুখে ছিল ঈদের আনন্দের ছাপ। জামালপুর কমিউটার ট্রেনে ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাধ্য হয়ে মানুষ ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রেনগুলোকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ট্রেনের দরজায় ঝুলে, ছাদে উঠে অনেকে গন্তব্যে গেছেন। আর চাপের কারণে অনেক ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি।
ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি ট্রেন গতকাল ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই শিডিউল বিপর্যয় ঘটিয়েছে। রেলে ভাড়া বাড়ানোর পরও সেবার মান না বাড়ায় এবং সকাল থেকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন হাজারো যাত্রী।
সকালে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়ে গেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি স্বীকার করে কমলাপুর রেলস্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, সাধারণত সুন্দরবন একপ্রেস ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরি করে। কিন্তু তা কমে এক ঘণ্টায় আনা হয়েছে। আর রংপুর একপ্রেসের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়ায় সেটা রিপ্লেস করতে একটু দেরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সকাল থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীরা লঞ্চের অপেক্ষায় ভিড় জমান। তবে, দুপুর ১টার পর যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চযাত্রীরা আগেভাগেই ঘাটে পৌঁছান। ঘাটে কোন কোন লঞ্চ না পেয়ে যাত্রীরা পন্টুন থেকে নৌকাযোগে নদীর মাঝখানে নোঙর করে রাখা লঞ্চে উঠেন। পল্টুনে আসার আগেই নদীর মাঝখানেই লঞ্চগুলো পরিপূর্ণ হয়ে যায়। কিছু কিছু লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে সকালেই দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ঢাকা-বরগুনা রুটের অথৈ লঞ্চটি দুপুর ১টায় পরিপূর্ণ হয় এবং ছাদেও যাত্রীরা ওঠেন। এদিকে যাত্রীদের চাপ সামলাতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ’র টিশার্ট পরা স্কাউট ও গালর্স গাইড কর্মীরা যাত্রীদের বিভিন্নভাবে যাত্রাপথে সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানান, সদরঘাট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টার মতো লঞ্চ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালে অগ্রিম টিকিট কিনেও বাসের জন্য বসে ছিলেন যাত্রীরা। সমস্যা হতে পারে এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট সময়ের আগে টার্মিনালে আসেন তারা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মিলেনি। যদিও যানজট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে বাস পৌঁছাতে পারেনি এমন দাবি বাস কর্মচারীদের। গাবতলী টার্মিনালে কুষ্টিয়াগামী যাত্রী জুলফিকার রহমান বলেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাননি। যারা অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছিলেন তাদের জন্য ঈদ ভ্রমণটা ভোগান্তির না হলেও অন্য যাত্রীদের টিকিট নিয়ে হয়রানি হতে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হীরা পান্নাশেষের পাতা
রাস্তায় রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত। এই স্রোত যেন বাঁধভাঙা। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। যে যেভাবে পারছে বাড়ির দিকে ছুটছে। সবার গন্তব্য এখন গ্রাম। সড়কগুলোতে রয়েছে ব্যাপক যানজট। এতসব দুর্ভোগের পরেও উৎসবমুখোর মনেই বাড়ি ফেরছে মানুষ। যানবাহনের ভেতরে এবং ছাদে ঘরমুখো মানুষের ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই...