1438407752
সারা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম, বর্ষা কিংবা মেঘলা দিনে এ সমস্যাটা অনেক বেড়ে যায়। এ সময় অসহ্য মাথা যন্ত্রনার সঙ্গে আলোর ঝলকানি, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব কখনও বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাজির হয় মাইগ্রেন। মাথা ও ঘাড়ের কাছের শিরা ফুলে গিয়ে স্নায়ুর ফাইবারে অতিরিক্ত রক্তের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে শুরু হয় মাইগ্রেনের ব্যথা। কাজেই এ সময় এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করুন যা মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

জেনে নিন মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি-

সঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করুন
সঠিকভাবে খাওয়া দাওয়ায় যে কোনও শারীরিক সমস্যা কমানো সম্ভব। ডায়েটে যদি ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে অনেকটাই মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া চিকেন, মাছ, ডিম, ছোলা বাদাম, দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি বেশি খান। প্রতিদিন অনন্ত ৪০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি২ খেলে পারে মাইগ্রেনের ব্যথা কমে যায়। এ সময় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছের তেলও মাইগ্রেন কমাতে উপকারী। কাঠবাদামের মধ্যেও মেলে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি। কাজেই মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে এগুলো খেতেই পারেন।

চটজলদি রেহাই পেতে

আদা
শিরার ফোলা কমানোর গুণ রয়েছে আদার। বমি বমি ভাব কাটাতে ১ কুচি আদা মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। আদা থেঁতো করে গরম জলে ফেলে ছেঁকে সেই জল খেলেও উপকার পাবেন। এই জল কপালে লাগালেও আস্তে আস্তে কমে যাবে যন্ত্রণা।

কফি
অতিরিক্ত ক্যাফেন যদিও যন্ত্রনা বাড়িয়ে তোলে, এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা কফি তেমনই মাইগ্রেন থেকে আরাম দিতে পারে। কফির কাপে একটা অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ফেলে দিয়ে এই কফিতে চুমুক দিলেও নিমেষে কমে যাবে ব্যথা।

অন্ধকার ঘরে বিশ্রাম
উজ্জ্বল আলোয় থাকলে, টিভি বা কম্পিউটার কিংবা আগুনের সামনে বেশিক্ষণ থাকলে মাইগ্রেনের যন্ত্রণা বাড়ে। তখন অতিরিক্ত আওয়াজও অসহ্য লাগে। কাজেই এই সময় ঘর অন্ধকার করে শান্ত জায়গায় শুয়ে ঘুমিয়ে নিন। ঘুম না হলেও চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। ব্যথা কমে যাবে।

আইস ব্যাগ থেরাপি
যে কোনো ফোলা কমানোর সব থেকে ভাল উপায় হলো বরফ। কপালে আইস ব্যাগ চেপে রাখুন। ব্যথা কমে আরামে শরীর জুরিয়ে যাবে।

রিল্যাক্সেশন থেরাপি
শুধু যন্ত্রণার সময় ক্ষণিকের আরামই নয়, মাইগ্রেনকে জীবন থেকেই সরিয়ে দিতে পারে রিল্যাক্সেশন থেরাপি। এজন্য নিয়মিত মাথায় ম্যাসাজ, ডিপ ব্রিদিং, মেডিটেশন বা যোগাভ্যাস করুন তাতে স্ট্রেস কমে যাবে। আর সেইসঙ্গে কমবে মাইগ্রেনের ব্যথাও।

কীভাবে করবেন?

ডিপ ব্রিদিং
আরামদায়ক ভাবে বসে বা শুয়ে নাক দিয়ে বড় শ্বাস নিন, আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এইভাবে ৫ থেকে ১০ বার গভীর শ্বাস নিলেই আপনার শরীর নিজে থেকেই হালকা হয়ে যাবে, শ্বাস আপনা থেকে ছোট হয়ে আসবে। রেহাই মিলবে যন্ত্রণা থেকেও।

মেডিটেশন
ধ্যান করার কোনও বিশেষ নিয়ম নেই। আরামদায়ক ভাবে বসে বা শুয়ে মেডিটেশন করতে পারেন। অনেকক্ষণ টানা ধ্যান করারও প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১০ মিনিটই যথেষ্ট। চালিয়ে নিন পছন্দ মতো মিউজিক। আস্তে আস্তে ডিপ ব্রিদিং করলে শান্ত হবে মন, শরীর রিল্যাক্স হবে। অন্যের গাইডেড মেডিটেশন ভিডিও পাওয়া যায়। নিজের সুবিধা মতো ভিডিও চালিয়ে মনসংযোগ করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: জি নিউজ

তাহসিনা সুলতানাস্বাস্থ্য কথা
সারা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম, বর্ষা কিংবা মেঘলা দিনে এ সমস্যাটা অনেক বেড়ে যায়। এ সময় অসহ্য মাথা যন্ত্রনার সঙ্গে আলোর ঝলকানি, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব কখনও বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাজির...